বিএনপির মহাসচিব ও স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, জামায়াতে ইসলামী একটি গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক দল নয়; বরং এটি একটি রেজিমেন্টেড রাজনৈতিক সংগঠন। তার ভাষায়, দলটির একটি নির্দিষ্ট লক্ষ্য রয়েছে এবং তারা শরিয়াহভিত্তিক ইসলামি রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করতে চায়। তবে এমন রাষ্ট্রব্যবস্থা বাংলাদেশের মানুষের চিন্তা-চেতনা ও রাজনৈতিক সংস্কৃতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। তিনি বলেন, বাংলাদেশের মানুষ উদারপন্থী রাজনীতিতে বিশ্বাস করে।
শুক্রবার সন্ধ্যায় ঠাকুরগাঁও জেলা বিএনপির কার্যালয়ে আয়োজিত জেলা বিএনপির বর্ধিত সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
মির্জা ফখরুল বলেন, আন্দোলনের মাধ্যমে ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ সরকারকে ক্ষমতা থেকে সরানো সম্ভব হয়েছে। কিন্তু এখন নতুন একটি শক্তি সামনে এসেছে, যারা ধর্মভিত্তিক রাজনৈতিক আদর্শ প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করছে। তিনি দাবি করেন, ১৯৭১ সালে যারা বাংলাদেশের স্বাধীনতার পক্ষে ছিল না, তারা এখন মানুষকে বিভ্রান্ত করে নিজেদের রাজনৈতিক ভিত্তি শক্তিশালী করার চেষ্টা করছে। বিশেষ করে ধর্মপ্রাণ নারীদের ভুল বোঝানোর মাধ্যমে ভোটব্যাংক গড়ে তোলার চেষ্টা চলছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি। মাঠপর্যায়ের নেতাকর্মীদের এসব অপপ্রচারের বিরুদ্ধে কাজ করার আহ্বান জানান বিএনপি মহাসচিব।
তিনি আরও বলেন, ধর্মবিশ্বাসী মানুষ আর ধর্মান্ধ মানুষ এক নয়। বাংলাদেশের মুসলমান, হিন্দু, বৌদ্ধ ও খ্রিস্টান- সব সম্প্রদায়ের মানুষ দীর্ঘদিন ধরে সম্প্রীতির সঙ্গে বসবাস করছে। এই সহাবস্থানের সংস্কৃতি ধরে রাখতে হবে এবং বিভ্রান্তিকর বক্তব্যের বিরুদ্ধে সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে।
জামায়াতে ইসলামীর সাম্প্রতিক রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের প্রসঙ্গ টেনে মির্জা ফখরুল বলেন, তারা জুলাই সনদ নিয়ে বিভিন্ন অভিযোগ করছে এবং বিএনপি তা মানেনি বলে প্রচার চালাচ্ছে। অথচ জুলাই সনদের প্রতিটি পাতায় স্পষ্টভাবে উল্লেখ রয়েছে, কোন রাজনৈতিক দল কোন বিষয়ে একমত হয়েছে এবং কোন বিষয়ে মতপার্থক্য রয়েছে।
তিনি বলেন, নির্বাচনে যে দল জনগণের রায় পাবে, তাদের নির্বাচনী ইশতেহার বাস্তবায়নের অধিকার থাকবে। বিএনপি জনগণের কাছ থেকে সেই ম্যান্ডেট পেয়েছে এবং নির্বাচনের আগে দেওয়া প্রতিশ্রুতিগুলো বাস্তবায়নে কাজ করছে। তার দাবি, জুলাই সনদের প্রতিটি বিষয় বিএনপি গুরুত্বের সঙ্গে অনুসরণ করছে এবং সেখানে থাকা অঙ্গীকারগুলো বাস্তবায়ন করা হবে।
সংবিধান সংস্কারের প্রসঙ্গেও কথা বলেন মির্জা ফখরুল। তিনি জানান, সংসদে গঠিত সংবিধান সংশোধন কমিটিতে আলোচনার মাধ্যমে পরিবর্তনের সুযোগ ছিল। কিন্তু সংশ্লিষ্টরা সেই আলোচনায় অংশ না নিয়ে রাজপথের কর্মসূচি বেছে নিয়েছেন।
তিনি বলেন, ১১টি দল নিয়ে তারা আন্দোলনের চেষ্টা করছে, তবে জনগণের উল্লেখযোগ্য সমর্থন দেখা যাচ্ছে না। ঢাকায় সভা-সমাবেশ করলেও সেখানে জনসম্পৃক্ততা কম। অন্যদিকে বিএনপির ছোট পরিসরের কর্মসূচিতেও তাদের তুলনায় বেশি মানুষের উপস্থিতি দেখা যায় বলে দাবি করেন তিনি।
বক্তব্যের শেষাংশে নেতাকর্মীদের উদ্দেশে বিএনপি মহাসচিব বলেন, কোনো অবস্থাতেই হতাশ হওয়া যাবে না। সুন্দর ভবিষ্যতের প্রত্যাশা নিয়েই দলকে এগিয়ে নিতে হবে। তিনি দাবি করেন, বিএনপি অতীতে কোনো নির্বাচনে প্রকৃত অর্থে পরাজিত হয়নি এবং ভবিষ্যতেও হবে না।
এএন