অবৈধ অভিবাসন ঠেকাতে বাংলাদেশ-ভিয়েতনাম একসঙ্গে কাজ করবে

আমার সংবাদ ডেস্ক প্রকাশিত: জুলাই ৮, ২০২৬, ০৩:৪৩ পিএম

অবৈধ অভিবাসন ও আন্তঃদেশীয় অপরাধ মোকাবিলায় সহযোগিতা আরও জোরদার করতে বাংলাদেশ ও ভিয়েতনাম একসঙ্গে কাজ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। পাশাপাশি মানব পাচার দমন, নিরাপত্তা সহযোগিতা, বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্প্রসারণসহ পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন ক্ষেত্রে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক আরও শক্তিশালী করার বিষয়ে একমত হয়েছে দুই দেশ।

মঙ্গলবার যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সদর দপ্তরে অনুষ্ঠিত স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী পর্যায়ের উচ্চপর্যায়ের দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে এসব বিষয়ে আলোচনা হয়। বৈঠকে বাংলাদেশের প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। ভিয়েতনামের পক্ষে নেতৃত্ব দেন দেশটির জননিরাপত্তাবিষয়ক উপমন্ত্রী সিনিয়র লেফটেন্যান্ট জেনারেল নগুয়েন ভ্যান লং।

বৈঠকের শুরুতে ভিয়েতনামের কমিউনিস্ট পার্টির ১৪তম জাতীয় কংগ্রেস সফলভাবে সম্পন্ন হওয়া এবং নতুন নেতৃত্ব নির্বাচিত হওয়ায় দেশটির সরকারকে অভিনন্দন জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন বাংলাদেশ সরকার দ্বিপাক্ষিক, আঞ্চলিক ও বহুপাক্ষিক পরিসরে পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়ে ভিয়েতনামের সঙ্গে সম্পর্ক আরও গভীর ও কার্যকর করতে আগ্রহী।

তিনি ১৯৭৩ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি প্রতিষ্ঠিত বাংলাদেশ ও ভিয়েতনামের কূটনৈতিক সম্পর্কের কথা তুলে ধরে বলেন, দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক ও বহুমাত্রিক অংশীদারিত্বকে বাংলাদেশ অত্যন্ত গুরুত্ব দেয়। সাম্প্রতিক সময়ে দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য, বিনিয়োগ, যোগাযোগ এবং জনগণের পারস্পরিক যোগাযোগ উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পাওয়ায় তিনি সন্তোষ প্রকাশ করেন।

বৈঠকে ভিয়েতনামে অবস্থানরত বাংলাদেশি নাগরিকদের ভিসা-সংক্রান্ত জটিলতা, অনিয়মিত অভিবাসীদের প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া এবং এসব বিষয়ে করণীয় নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। এ সময় বাংলাদেশ সরকার এ সংক্রান্ত কয়েকটি সুনির্দিষ্ট প্রস্তাবও ভিয়েতনাম প্রতিনিধিদলের কাছে তুলে ধরে।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বাংলাদেশি পর্যটক, ব্যবসায়ী, বৈধ কর্মজীবী এবং পারিবারিক ভিসাপ্রত্যাশীদের জন্য ভিয়েতনামের ভিসা প্রক্রিয়া আরও সহজ ও শিথিল করার আহ্বান জানান। একই সঙ্গে মানব পাচার, মাদক চোরাচালান এবং অন্যান্য আন্তঃদেশীয় অপরাধ প্রতিরোধে দুই দেশের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থার মধ্যে প্রাতিষ্ঠানিক সহযোগিতা আরও শক্তিশালী করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

তিনি জানান, বাংলাদেশ ও ভিয়েতনামের মধ্যকার দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যের পরিমাণ ইতোমধ্যে ১ বিলিয়ন মার্কিন ডলার অতিক্রম করেছে। শিগগিরই দুই দেশের মধ্যে প্রেফারেন্সিয়াল ট্রেড এগ্রিমেন্ট (পিটিএ) স্বাক্ষরিত হলে বাণিজ্যের পরিধি আরও বাড়বে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

এ সময় বাংলাদেশ থেকে আলু আমদানির অনুমতি দেওয়ায় ভিয়েতনাম সরকারকে ধন্যবাদ জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। পাশাপাশি আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন বাংলাদেশি ওষুধ আমদানির আহ্বান জানান এবং ভিয়েতনামের বিনিয়োগকারীদের বাংলাদেশের সম্ভাবনাময় বিনিয়োগ খাতে অংশ নেওয়ার আমন্ত্রণ জানান।

বৈঠকে আসিয়ানের সেক্টরাল ডায়ালগ পার্টনার এবং আরসিইপির সদস্যপদ অর্জনের ক্ষেত্রে বাংলাদেশের প্রতি ভিয়েতনামের সমর্থনও প্রত্যাশা করেন সালাহউদ্দিন আহমদ। জবাবে ভিয়েতনাম প্রতিনিধিদল বাংলাদেশের উত্থাপিত বিষয়গুলো ইতিবাচকভাবে বিবেচনার আশ্বাস দেয় এবং দুই দেশের বিদ্যমান বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক আগামী দিনে আরও সুদৃঢ় হবে বলে আশা প্রকাশ করে।

এএন