ঢাকাসহ দেশের ৬ বিভাগের জন্য বড় দুঃসংবাদ

আমার সংবাদ ডেস্ক প্রকাশিত: জুলাই ১২, ২০২৬, ০২:২৫ পিএম

দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে টানা বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলে বন্যা পরিস্থিতির আরও অবনতি হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, সক্রিয় মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে দেশের ৬ বিভাগের বিভিন্ন স্থানে ভারি থেকে অতি ভারি বৃষ্টিপাত হতে পারে। এতে নতুন করে কয়েকটি এলাকায় বন্যা পরিস্থিতি তৈরি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

রোববার দুপুর ১২টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টার পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, রংপুর, রাজশাহী, ময়মনসিংহ, ঢাকা, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের কোথাও কোথাও ভারি (৪৪ থেকে ৮৮ মিলিমিটার) থেকে অতি ভারি (৮৮ মিলিমিটারের বেশি) বৃষ্টিপাত হতে পারে।

এরই মধ্যে টানা বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে চট্টগ্রামের পাঁচ জেলায় ভয়াবহ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। এসব জেলায় এ পর্যন্ত ৪৩ জনের মৃত্যু হয়েছে। আহত হয়েছেন আরও অন্তত ৩৯ জন। পাশাপাশি বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন ৮ লাখ ৬৭ হাজার মানুষ। বিভিন্ন আশ্রয়কেন্দ্রে অবস্থান নিয়েছেন ৩৭ হাজারের বেশি মানুষ।

দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা সংশ্লিষ্ট তথ্য অনুযায়ী, নিহতদের মধ্যে চট্টগ্রামে ১১ জন, কক্সবাজারে ২৩ জন, রাঙামাটিতে ৩ জন এবং বান্দরবানে ৬ জন রয়েছেন। আহতদের মধ্যে চট্টগ্রামে ১২ জন, কক্সবাজারে ২৪ জন, খাগড়াছড়িতে ১ জন এবং বান্দরবানে ২ জন।

বন্যায় সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে চট্টগ্রাম জেলা। সেখানে ৬ লাখ ৬২ হাজারের বেশি মানুষ ক্ষতির মুখে পড়েছেন। এছাড়া কক্সবাজারে ১ লাখ ৫৮ হাজার ২৭ জন, রাঙামাটিতে ৩ হাজার ৮২০ জন, খাগড়াছড়িতে ৩৪ হাজার ৪১৭ জন এবং বান্দরবানে ৮ হাজার ৩৫০ জন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন।

বন্যাকবলিত পাঁচ জেলায় মোট ১ হাজার ৭২৭টি আশ্রয়কেন্দ্র চালু করা হয়েছে। এসব কেন্দ্রে এখন পর্যন্ত আশ্রয় নিয়েছেন ৩৭ হাজার ৫৫ জন। এর মধ্যে চট্টগ্রামে ৬৭০টি আশ্রয়কেন্দ্রে ২২ হাজার ৬০০ জন, কক্সবাজারে ৬৪০টি কেন্দ্রে ২ হাজার ৯৭৪ জন, রাঙামাটিতে ৪৭টি কেন্দ্রে ৩ হাজার ৮২০ জন, খাগড়াছড়িতে ১৫০টি কেন্দ্রে ২ হাজার ৯১৬ জন এবং বান্দরবানে ২২০টি কেন্দ্রে ৪ হাজার ৭৪৫ জন অবস্থান করছেন।

বন্যার্তদের সহায়তায় এখন পর্যন্ত ১ হাজার ৯১ দশমিক ৬ মেট্রিক টন চাল, ৯১ দশমিক ১ লাখ টাকা এবং ৩৪ হাজার ৪৭০ প্যাকেট শুকনো খাবার বিতরণ করা হয়েছে। পাশাপাশি বিভিন্ন এলাকায় রান্না করা খাবার, শিশু খাদ্য, ডায়াপার ও স্যানিটারি ন্যাপকিন সরবরাহ করা হচ্ছে।

বন্যার পানিতে কৃষিতেও বড় ধরনের ক্ষতির তথ্য পাওয়া গেছে। চট্টগ্রামে ৯ হাজার ৪৩ দশমিক ৫ হেক্টর আউশ ধান, ৯৬০ দশমিক ৬৬ হেক্টর আমন, ৫ হাজার ৯০৭ হেক্টরের বেশি গ্রীষ্মকালীন সবজি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। কক্সবাজারে ২ হাজার ৬২০ হেক্টর আউশ ধান, ৪৭০ হেক্টর আমন বীজতলা, ৯৫৫ হেক্টর সবজি ও ১৫৬ হেক্টর পান বরজ ক্ষতির মুখে পড়েছে।

এছাড়া রাঙামাটিতে ৭১৭ হেক্টর আউশ ধান, ১৫৮ হেক্টর আমন বীজতলা, ৯৮৭ হেক্টর গ্রীষ্মকালীন সবজি, ৭৪৩ হেক্টর আদা এবং ৬৪৮ হেক্টর হলুদ চাষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। খাগড়াছড়ি ও বান্দরবানেও আউশ ধান, আমন বীজতলা ও সবজি চাষে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির তথ্য পাওয়া গেছে।

এদিকে অতিভারি বৃষ্টির কারণে দেশের ১২ জেলার বন্যা পরিস্থিতি আরও খারাপ হতে পারে বলে জানিয়েছে পানি উন্নয়ন বোর্ডের বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র। সংস্থাটি জানিয়েছে, নতুন নতুন এলাকা প্লাবিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

পাউবোর তথ্য অনুযায়ী, সাঙ্গু নদীর বান্দরবান ও দোহাজারী পয়েন্ট, কুশিয়ারা নদীর মারকুলি ও ফেঞ্চুগঞ্জ পয়েন্ট এবং সোমেশ্বরী নদীর কলমাকান্দা পয়েন্টে পানি বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।

পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, আগামী দুই দিনে ফেনী, চট্টগ্রাম, খাগড়াছড়ি, সিলেট, সুনামগঞ্জ, নেত্রকোনা, শেরপুর, ময়মনসিংহ, নীলফামারী, লালমনিরহাট, রংপুর ও কুড়িগ্রামের নদীসংলগ্ন নিম্নাঞ্চলে স্বল্পমেয়াদি বন্যা পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে অথবা বিদ্যমান পরিস্থিতির আরও অবনতি হতে পারে।

তবে আগামী ২৪ ঘণ্টায় বান্দরবান, চট্টগ্রাম ও কক্সবাজারের সাঙ্গু ও মাতামুহুরী নদী এবং মৌলভীবাজার ও হবিগঞ্জের মনু ও খোয়াই নদীর নিম্নাঞ্চলে বন্যা পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হতে পারে।

রোববার বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্রের সহকারী প্রকৌশলী মোস্তফা কামাল জিহানের সই করা বৃষ্টিপাত, নদ-নদীর পরিস্থিতি ও পূর্বাভাস প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, আগামী দুই দিনে ফেনী, চট্টগ্রাম ও খাগড়াছড়ির মুহুরী, ফেনী নদী, সেলোনিয়া ও হালদা নদীর পানি কিছু এলাকায় বিপৎসীমা অতিক্রম করতে পারে। এর ফলে নদীতীরবর্তী নিম্নাঞ্চলে স্বল্পমেয়াদি বন্যার সৃষ্টি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। পাশাপাশি লক্ষ্মীপুর ও নোয়াখালীর কিছু নিচু এলাকাও সাময়িকভাবে পানিতে তলিয়ে যেতে পারে।

এএন