দেশের মেধাবী ও সম্ভাবনাময় স্টার্টআপ উদ্যোক্তাদের আর্থিক সংকট দূর করতে বড় উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি (আইসিটি) মন্ত্রণালয়ের অধীনে এ খাতের জন্য ৫০০ কোটি টাকার বিশেষ বাজেট রাখা হয়েছে। এর আওতায় যোগ্য উদ্যোক্তারা তাদের প্রকল্পের সম্ভাবনার ওপর ভিত্তি করে সর্বনিম্ন ৫ লাখ থেকে সর্বোচ্চ ৫ কোটি টাকা পর্যন্ত সরকারি আর্থিক সহায়তা পাবেন।
মঙ্গলবার সকালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নবাব নওয়াব আলী চৌধুরী সিনেট ভবনে আয়োজিত ‘তারুণ্য, স্টার্টআপ ও সম্ভাবনার বাংলাদেশ’ শীর্ষক অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এই ঘোষণা দেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সহযোগিতায় সরকারের আইসিটি বিভাগ এই বিশেষ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।
অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী উল্লেখ করেন, নতুন উদ্যোক্তারা সাধারণত ব্যাংক থেকে ঋণ নিতে গিয়ে জামানত, নিরাপত্তা গ্যারান্টি কিংবা নানা ধরনের জটিল কাগজের বেড়াজালে আটকে যান। এই ভোগান্তি দূর করতে একটি সম্পূর্ণ নিরপেক্ষ কমিটি গঠন করা হয়েছে। এই কমিটিতে কোনো মন্ত্রী বা উপদেষ্টা থাকবেন না। বিশেষজ্ঞরা সরাসরি উদ্যোক্তাদের আইডিয়া ও প্রজেক্ট মূল্যায়ন করে অর্থায়নের অনুমোদন দেবেন।
অনুষ্ঠানের প্রশ্নোত্তর পর্বে ঢাবির পরিসংখ্যান বিভাগের শিক্ষার্থী নুসরাত জাহান জানতে চান, জামানত না থাকায় যারা ঋণ পান না, তাদের জন্য কী ব্যবস্থা থাকছে। জবাবে প্রধানমন্ত্রী স্পষ্ট করেন, কোনো ব্যাংক গ্যারান্টি বা জামানত নয়, বরং প্রকল্পের গুণগত মান ও ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা দেখেই এই অর্থ দেওয়া হবে।
অর্থায়নের স্বচ্ছতা নিয়ে অন্য এক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, যেহেতু এটি জনগণের করের টাকা, তাই খরচের ক্ষেত্রে শতভাগ জবাবদিহি নিশ্চিত করা হবে। তবে কোনো উদ্ভাবনী উদ্যোগ যদি শুরুতে আশানুরূপ ফল নাও দেখায়, কিন্তু তার মধ্যে ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা থাকে, তবে সরকার দ্বিতীয় দফায়ও তাকে অর্থ দেওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করবে।
আজকের এই অনুষ্ঠান থেকে জাতীয় স্টার্টআপ ও উদ্যোক্তা প্ল্যাটফর্মের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন ঘোষণা করা হয়। উদ্বোধনী পর্ব শেষে দুপুর ১টা থেকে প্রদর্শনীটি সর্বসাধারণের জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়া হয়েছে।
জেএইচআর