স্থানীয় সরকার নির্বাচনে প্রার্থীদের শিক্ষাগত যোগ্যতা নির্ধারণের বিষয়ে এখনো কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়নি নির্বাচন কমিশন (ইসি)। এ বিষয়ে বিদ্যমান আইন, আদালতের নির্দেশনা এবং পার্শ্ববর্তী দেশগুলোর অভিজ্ঞতা পর্যালোচনা করে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন নির্বাচন কমিশনার আনোয়ারুল ইসলাম সরকার।
বুধবার (২২ জুলাই) নির্বাচন কমিশন ভবনে নিজ কার্যালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।
ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান পদে প্রার্থী হতে ন্যূনতম স্নাতক শিক্ষাগত যোগ্যতা নির্ধারণের বিষয়ে কেন নির্দেশ দেওয়া হবে না-হাইকোর্টের এমন রুল সম্পর্কে জানতে চাইলে নির্বাচন কমিশনার বলেন, বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখা হবে। এ বিষয়ে বিদ্যমান আইন, পার্শ্ববর্তী দেশগুলোর ব্যবস্থা এবং সংশ্লিষ্ট আইনি রুলিং ও রায় পর্যালোচনার পর প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
তিনি জানান, নির্বাচন কমিশনের সদ্য সমাপ্ত ১২তম সভায় স্থানীয় সরকারের বিভিন্ন আইন-সিটি করপোরেশন, জেলা পরিষদ, উপজেলা, পৌরসভা ও ইউনিয়ন পরিষদ আইন-সংক্রান্ত কয়েকটি বিধান সংশোধনের সুপারিশ সরকারের কাছে পাঠানোর সিদ্ধান্ত হয়েছে। তবে এসব সংশোধনী প্রস্তাবের কারণে স্থানীয় সরকার নির্বাচন পিছিয়ে যাওয়ার কোনো সম্ভাবনা নেই।
আনোয়ারুল ইসলাম সরকার বলেন, আইন সংশোধন হলে কার্যকারিতার তারিখ সেখানে স্পষ্টভাবে উল্লেখ থাকবে। আর সংশোধন না হলেও বর্তমান আইন নির্বাচন পরিচালনার জন্য যথেষ্ট কার্যকর। তিনি জানান, জাতীয় সংসদ নির্বাচনের অভিজ্ঞতা থেকে মামলা ও আপিল নিষ্পত্তির ক্ষেত্রে বিভ্রান্তি এড়াতে কিছু পর্যবেক্ষণও যুক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি সিটি করপোরেশনের প্রশাসকদের নিজ পদে থেকে নির্বাচনে অংশ নেওয়ার বিধান আরও সুস্পষ্ট করার বিষয়েও আলোচনা হয়েছে।
স্থানীয় সরকার নির্বাচন আয়োজনের প্রস্তুতি সম্পর্কে নির্বাচন কমিশনার বলেন, কমিশন ইতোমধ্যে সার্বিক প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে। পরিকল্পনা অনুযায়ী আগামী অক্টোবরের মধ্যে প্রথম ধাপের ভোটগ্রহণ শেষ করার লক্ষ্য রয়েছে। এ জন্য আগস্ট মাসেই নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করা হতে পারে। আগের নির্বাচনের মতো এবারও একাধিক ধাপে ভোটগ্রহণের পরিকল্পনা রয়েছে।
প্রথম ধাপে কোন কোন নির্বাচন হবে-এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, নির্দিষ্ট কোনো প্রতিষ্ঠানের নাম এখনই বলা যাচ্ছে না। তবে যেসব স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানে বর্তমানে জনপ্রতিনিধি নেই বা আইনগতভাবে মেয়াদ শেষ হয়েছে, সেগুলোকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হবে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি বিবেচনায় ধাপে ধাপে নির্বাচন আয়োজন করা হবে।
স্থানীয় সরকারের সব আইনের সংজ্ঞায় সশস্ত্র বাহিনী যুক্ত করার সুপারিশ প্রসঙ্গে আনোয়ারুল ইসলাম সরকার বলেন, সদ্য অনুষ্ঠিত জাতীয় সংসদ নির্বাচন দেশ-বিদেশে প্রশংসিত হয়েছে। সেই অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে স্থানীয় সরকার নির্বাচন আরও সুশৃঙ্খল, গ্রহণযোগ্য ও সহিংসতামুক্ত করতে কমিশন প্রয়োজনীয় সব ধরনের প্রস্তুতি নিয়েছে। প্রয়োজনে আরও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ারও সুযোগ রাখা হবে।
এম জি