রাজধানীর রামপুরায় প্রকাশ্যে শীর্ষ সন্ত্রাসী ইয়াসিন খান ওরফে ‘কাইল্লা পলাশ’কে হত্যার ঘটনা এবং কারাগার থেকে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড পরিচালনার প্রেক্ষাপটে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) প্রযুক্তি ব্যবহার শুরু করেছে কারা কর্তৃপক্ষ।
দীর্ঘ ২৫ বছর কারাভোগের পর সম্প্রতি মুক্তি পেয়েছিলেন শীর্ষ সন্ত্রাসী কাইল্লা পলাশ। তবে গোয়েন্দা তথ্যানুযায়ী, এলাকায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে জেলে বসেই দুই শীর্ষ সন্ত্রাসী তাঁর এই ‘কিলিং মিশন’-এর পরিকল্পনা করে। শেষ পর্যন্ত রামপুরায় প্রকাশ্যে গুলিবিদ্ধ হয়ে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান তিনি।
কারাগারের অন্ধকার থেকে এমন সব অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের পরিকল্পনা হর-হামেশাই হচ্ছে। কেউ কেউ কারাগারে বসেই মোবাইলে চালিয়ে যাচ্ছেন চাঁদাবাজি, দখলদারিত্ব ও এলাকার ব্যবসা নিয়ন্ত্রণ। এখানেই শেষ নয়, হাজত থেকে আদালতে যাওয়ার সময়ও বন্দীরা বিভিন্ন জায়গায় অননুমোদিতভাবে যাত্রা বিরতি করছেন। আর জেলের ভেতর মাদকের ছড়াছড়ি তো বহু পুরোনো ঘটনা। এসব রোধে এবার কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সাহায্য নিচ্ছে কারা কর্তৃপক্ষ।
প্রথম ধাপে কেরানীগঞ্জ ও নারায়ণগঞ্জ কারাগারে এআই প্রযুক্তি সংবলিত সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন করা হয়েছে এবং কাশিমপুর কেন্দ্রীয় কারাগারে বর্তমানে কাজ চলমান রয়েছে।
কারা মহাপরিদর্শক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল সৈয়দ মোতাহের হোসেন জানান, আগে ঘটনা ঘটার পর কারা কর্তৃপক্ষ খতিয়ে দেখত কী হয়েছিল এবং কে দায়ী। এখন কিন্তু এআই প্রযুক্তির মাধ্যমে ঘটনা ঘটার আগেই সতর্কবার্তা পাওয়া যাচ্ছে এবং অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনাগুলোকে প্রতিরোধ করা সম্ভব হচ্ছে।
তিনি আরও জানান, শুধু তাই নয়, এখন এআই ক্যামেরা কারাগারের ভেতরে মাদক, অস্ত্র বা নিষিদ্ধ কোনো পণ্য নিয়ে চলাচল করলেই তা শনাক্ত করে সাথে সাথেই জেল কর্তৃপক্ষকে জানিয়ে দেবে। কোনো বন্দি পালানোর চেষ্টা করলে বেজে উঠবে অ্যালার্ম। আসামিদের কেউ কেউ অপরাধের পরিকল্পনা করলে নির্দিষ্ট কিছু কি-ওয়ার্ড ধরে তা বুঝতে পেরে সতর্ক করবে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা। এ ছাড়া কারাগারের ভেতরে মোবাইল ব্যবহার ঠেকানোর জন্য জ্যামারও বসানো হয়েছে।
কারা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, শুধু কয়েদি বা বন্দি নয়, দায়িত্বে থাকা নিরাপত্তারক্ষীদের ওপরও নজর রাখবে এই এআই ব্যবস্থা। কোনো ডিউটিরত নিরাপত্তাকর্মী দায়িত্ব পালনে অবহেলা করে অলস বসে থাকলে বা ঘুমিয়ে পড়লে সেই তথ্য সরাসরি সদর দপ্তরে পৌঁছে যাবে।
জেএইচআর