শারীরিক ও মানসিক অসুস্থতার কারণে রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করা আর সম্ভব নয় উল্লেখ করে পদত্যাগ করেছেন রাষ্ট্রপতি মো. শাহাবুদ্দিন। সংবিধানের ৫০(৩) অনুচ্ছেদের বিধান অনুসারে তিনি পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছেন।
শুক্রবার (২৮ জুলাই) স্বাক্ষরিত পদত্যাগপত্রে তিনি জানান, ২০২৩ সালের ২৪ এপ্রিল বাংলাদেশের ২২তম রাষ্ট্রপতি হিসেবে শপথ নেওয়ার পর থেকে সংবিধানের প্রতি আনুগত্য, সততা ও নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালনের চেষ্টা করেছেন।
পদত্যাগপত্রে মো. শাহাবুদ্দিন উল্লেখ করেন, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের পর দেশে শাসনতান্ত্রিক ও সাংবিধানিক সংকট তৈরি হলে রাষ্ট্রপতি হিসেবে সংবিধানের ১০৬ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের মতামত চাওয়া হয়। পরে আপিল বিভাগের পরামর্শের ভিত্তিতে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গঠন করা হয়। সেই সরকার রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে আলোচনা করে জাতীয় সংসদ নির্বাচন আয়োজন করে এবং নির্বাচনের ফলাফলের পর বর্তমান সরকার দায়িত্ব গ্রহণ করে।
তিনি দাবি করেন, রাষ্ট্রপতি হিসেবে তার দৃঢ় ও ইতিবাচক ভূমিকার কারণে দেশে কোনো সাংবিধানিক বিপর্যয় ঘটেনি।
স্বাস্থ্যগত অবস্থার বিষয়ে পদত্যাগপত্রে তিনি জানান, দীর্ঘদিন ধরে হৃদরোগ, উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস ও কিডনি-সংক্রান্ত জটিলতায় ভুগছেন। এর আগে তার হৃদযন্ত্রে বাইপাস অস্ত্রোপচার হয়েছে। সম্প্রতি স্বাস্থ্য পরীক্ষায় তার স্বয়ংক্রিয় স্নায়ুতন্ত্রের স্নায়ুজনিত রোগ শনাক্ত হয়েছে। এ রোগের কারণে তিনি মাঝেমধ্যে স্বল্প সময়ের জন্য অচেতন হয়ে পড়েন।
রাষ্ট্রপতি বলেন, বর্তমান শারীরিক জটিলতার কারণে রাষ্ট্রপতির মতো গুরুত্বপূর্ণ সাংবিধানিক দায়িত্ব পালন করা তার পক্ষে আর সম্ভব নয়। পাশাপাশি দীর্ঘমেয়াদি চিকিৎসার প্রয়োজন হওয়ায় তিনি দায়িত্ব থেকে সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
পদত্যাগপত্রে তিনি আরও উল্লেখ করেন, এসব বিষয় বিবেচনায় সংবিধানের ৫০(৩) অনুচ্ছেদের বিধান অনুসারে রাষ্ট্রপতির পদ থেকে পদত্যাগ করছেন।
এম জি