আরিচা–দৌলতদিয়া ও কাজিরহাট Y প্যাটার্ন সেতুর অপরিহার্যতা

ডি. এম. সাকলায়েন  প্রকাশিত: এপ্রিল ১, ২০২৬, ০৩:৪৯ পিএম

আরিচা–দৌলতদিয়া ও কাজিরহাট পয়েন্টে যমুনা নদীর ওপর প্রস্তাবিত 'Y' প্যাটার্নের (Y-shaped) সেতুটি বাংলাদেশের যোগাযোগ ব্যবস্থায় একটি বৈপ্লবিক পরিবর্তন আনতে পারে। এই নকশার বিশেষত্ব হলো এটি একইসাথে তিনটি গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টকে (মানিকগঞ্জের আরিচা ও দৌলতদিয়া  এবং পাবনার কাজিরহাট) একটি সংযোগবিন্দুতে মিলিত করবে।

এই সেতুর গুরুত্ব নিয়ে আলোচনা করা হলো:

১. সংযোগের ত্রিমাত্রিক সুবিধায়  সেতুর দুই পাড়কে যুক্ত করবে, কিন্তু 'Y' প্যাটার্নের এই সেতুটি পদ্মা ও যমুনার দুই তীরের তিনটি কৌশলগত পয়েন্টকে যুক্ত করবে। এর ফলে ঢাকা থেকে রাজবাড়ি ফরিদপুর  কুষ্টিয়া পাবনাসহ ও উত্তরবঙ্গের জেলাগুলোর দূরত্ব এক ধাক্কায় অনেকটা কমে আসবে।

২. Y প্যাটার্ন সেতু ছাড়া যদি আরিচা টু দৌলতদিয়া কিংবা আরিচা টু কাজিরহাট যে কোন একটি সেতু করার সিদ্ধান্ত নেয়া হয় তাহলে ভবিয্যতে আরেকটি করার প্রয়োজনীয়তা থেকে যাবে এবং যে এলাকায় সেতু করা হবে না তারা আন্দোলন করবে । তাই জনআকাংখার বাস্তবায়ন এবং ত্রিমুখী সংযোগ একত্রে নেটওয়ার্ক করার জন্য Y প্যাটার্ন সেতু প্রয়োজন অপেক্ষাকৃত ব্যয়বহুল ও ঝুকিপূর্ন হলেও  বর্তমানে নব উদ্ভাবিত অত্যাধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার করে সময়োপযোগী Y প্যাটার্ন  সেতু তৈরি করতে হবে । 

৩. অর্থনৈতিক বিপ্লব ও শিল্পায়ন বিপণন: পশ্চিম ও উত্তরবঙ্গের কৃষি পণ্য ও পাবনার ঈশ্বরদী ইপিজেডের পণ্য খুব দ্রুত এবং কম খরচে রাজধানীতে পৌঁছাবে। এমনকি দক্ষিন বঙ্গের মানুষ ও ব্যাপক উপকৃত হবে। এসব অঞ্চলে নতুন নতুন কলকারখানা গড়ে উঠবে, যা স্থানীয় অর্থনীতিকে চাঙ্গা করবে।

৪. সময় ও জ্বালানি সাশ্রয় : বর্তমানে পাটুরিয়া-দৌলতদিয়া বা আরিচা-কাজিরহাট রুটে ফেরি পারাপারের জন্য ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হয়। সেতুটি নির্মিত হলে  যাতায়াতের সময় ২ থেকে ৪ ঘণ্টা পর্যন্ত কমে আসবে। যানবাহনের জ্বালানি খরচ কমবে এবং ফেরিঘাটের চিরাচরিত যানজট থেকে মুক্তি মিলবে।

৫. যমুনা ও পদ্মা সেতুর ওপর চাপ হ্রাস : বর্তমানে উত্তর ও দক্ষিণ-পশ্চিমবঙ্গের সিংহভাগ যানবাহন যমুনা সেতু ও পদ্মা সেতু ব্যবহার করে। এই  Y প্যাটার্ন সেতুটি নির্মিত হলে যানবাহনের একটি বিশাল অংশ এই রুট দিয়ে চলাচল করবে, যা অন্য দুটি সেতুর উপর বাড়তি চাপ কমিয়ে দেবে।

৬.  পদ্মা ও যমুনার ধারে পর্যটন ও সামাজিক উন্নয়নের পাশাপাশি পাবনা, পাকশী, ঈশ্বরদী এবং যমুনা পাড়ের 
জেলাগুলোতে পর্যটনের নতুন দ্বার উন্মোচিত হবে। এছাড়া জরুরি চিকিৎসা সেবার প্রয়োজনে উভয় বঙ্গের রোগীরা খুব অল্প সময়ে ঢাকার উন্নত হাসপাতালে পৌঁছাতে পারবেন।

পরিশেষে বলা যায় যে,  এই সেতুটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়, এটি বাংলাদেশের মধ্যাঞ্চল ও উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের মধ্যে একটি 'ইকোনমিক করিডোর' হিসেবে কাজ করবে।

ধন্যবাদান্তে,
ডি. এম. সাকলায়েন
মিডিয়া পার্সোনালিটি ও সিইও
গ্রীণল্যান্ড টাউন ডেভেলপমেন্ট লিমিটেড