আগাম বন্যা বাড়লে বড় ঝুঁকিতে বাংলাদেশ, প্রয়োজন শক্ত প্রস্তুতি

শাহিনুর রহমান   প্রকাশিত: মে ৪, ২০২৬, ০৪:৫৭ পিএম

বাংলাদেশকে প্রায়ই প্রাকৃতিক দুর্যোগপ্রবণ দেশ হিসেবে বিবেচনা করা হয়। ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে এখানে বন্যা, ঘূর্ণিঝড় ও নদীভাঙন যেন নিত্যসঙ্গী। তবে দেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের হাওর এলাকা এবং মেঘনা অববাহিকায় আকস্মিক বন্যা কৃষকদের জন্য সবচেয়ে বড় সংকট হয়ে দেখা দেয়।

যেখানে দেশের প্রধান নদীগুলোতে সাধারণত বর্ষাকালে বন্যা বৃদ্ধি পায়, সেখানে হাওর অঞ্চলে এপ্রিল-মে মাসেই আগাম বন্যা শুরু হয়ে যায়।

বাংলাদেশ ভৌগোলিকভাবে উঁচু পার্বত্য অঞ্চলের দেশগুলোর তুলনায় নিচু হওয়ায় উজানের পানি দ্রুত এ দেশে নেমে আসে। ভারতের মেঘালয় রাজ্যের চেরাপুঞ্জি এলাকায় ভারী বৃষ্টিপাত হলেই তার প্রভাব পড়ে সিলেট অঞ্চলে।

এতে সুনামগঞ্জ, সিলেট, হবিগঞ্জ ও নেত্রকোনার বিস্তীর্ণ হাওর এলাকা অল্প সময়েই প্লাবিত হয়। বর্তমানে এসব এলাকায় আবারও আগাম বন্যার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে, যা স্থানীয় মানুষের মধ্যে উদ্বেগ বাড়াচ্ছে।

হাওর অঞ্চলের অর্থনীতি মূলত বোরো ধানের ওপর নির্ভরশীল। বছরের একমাত্র ফসল হিসেবে এটি কৃষকদের জীবনের প্রধান অবলম্বন। কিন্তু আকস্মিক বন্যা ও অতিবৃষ্টির কারণে সেই ফসল মারাত্মক ক্ষতির মুখে পড়েছে। মৌসুমের শেষ সময়ে বৃষ্টি ও শিলাবৃষ্টিতে অনেক ক্ষেতের ধান পানিতে তলিয়ে গেছে।

সরকারি হিসাবে ধান কাটার হার তুলনামূলক বেশি দেখানো হলেও বাস্তবে অনেক জায়গায় তা উল্লেখযোগ্যভাবে কম। জলাবদ্ধতার কারণে আধুনিক যন্ত্রপাতি ব্যবহার করা কঠিন হয়ে পড়েছে।

অন্যদিকে শ্রমিক সংকটের কারণে পানির মধ্যে দাঁড়িয়ে ধান কাটতে অতিরিক্ত খরচ হচ্ছে। ফলে অনেক কৃষক বাধ্য হয়ে ফসল মাঠেই ফেলে রাখতে হচ্ছে। কোথাও কোথাও কাটা ধান সংরক্ষণ করতে না পেরে পচে নষ্ট হচ্ছে।

এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় পরিকল্পিত উদ্যোগ অত্যন্ত জরুরি। ভৌগোলিক অবস্থান পরিবর্তন করা সম্ভব নয়, তবে কার্যকর ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে ক্ষয়ক্ষতি কমানো যেতে পারে।

নিয়মিত পানি পর্যবেক্ষণ ও ঝুঁকিপূর্ণ বাঁধ দ্রুত মেরামত করা প্রয়োজন, পানি নিষ্কাশনের জন্য খাল, খনন কার্যক্রমের বাস্তব কার্যকারিতা মূল্যায়ন করতে হবে, আগাম বন্যার কারণ নিয়ে দীর্ঘমেয়াদি বৈজ্ঞানিক গবেষণা জরুরি, কৃষকদের সহায়তায় জরুরি ভিত্তিতে শ্রমিক ও উপযোগী যন্ত্রপাতি সরবরাহ করতে হবে, ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের জন্য আর্থিক সহায়তা ও প্রণোদনা নিশ্চিত করা দরকার।

সবশেষে বলা যায়, হাওর অঞ্চলের মানুষের টিকে থাকার জন্য শুধু তাৎক্ষণিক সহায়তা নয়, বরং টেকসই কৃষি ব্যবস্থা ও পানি ব্যবস্থাপনার উন্নয়ন অপরিহার্য। এ জন্য সরকার ও সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর সমন্বিত ও দ্রুত পদক্ষেপ এখন সময়ের দাবি।

জেএইচআর