বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, বিগত ১৫ বছর মানুষের কথা বলার অধিকার ও ভোটের অধিকারকে দাবিয়ে রাখা হয়েছিল। ছাত্র জনতার আন্দোলনের মুখে সেই স্বৈরাচার পালিয়ে যেতে বাধ্য হয়। আজ একটি পরিবর্তনের সুযোগ এসেছে। এবারের নির্বাচনে ধানের শীষের প্রার্থীদের জয়ী করার জন্য কাজ করে যেতে হবে। এ লক্ষ্যে ভোটের দিন ভোরবেলায় ভোটারদের কেন্দ্রে উপস্থিতি নিশ্চিত করাতে হবে। সকল ষড়যন্ত্র মোকাবিলা করে এবারের নির্বাচনে ধানের শীষ জয়ী হলে খালেদা জিয়ার অসমাপ্ত কাজ করে যাব।
রোববার সন্ধ্যায় ফেনী সরকারি পাইলট হাই স্কুল মাঠে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
তারেক রহমান বলেন, আজ আমি কয়েকটি লক্ষ্যকে সামনে রেখে আপনাদের সামনে দাঁড়িয়েছি। দেশে পরিকল্পিতভাবে খাল খনন, স্বাস্থ্যসেবা ও তরুণদের জন্য কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করার পরিকল্পনা। এসব পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করতে পারলে এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি সঠিক রাখতে পারলে দেশের জনগণ লাভবান হবে।
তিনি আরও বলেন, আমি দেশে এসে বলেছিলাম মানুষের জন্য কিছু পরিকল্পনা তৈরি করেছি। সেগুলো হলো, দেশের যে নারী সমাজ রয়েছে, যারা খেটে খাওয়া মানুষ তাদের জন্য ফ্যামিলি কার্ড করতে চাই। এ কার্ডের মাধ্যমে প্রতি মাসে একজন গৃহিণী অল্প হলেও কিছু সহযোগিতা পাবে। কেউ কেউ বলছেন, এই অল্প সহযোগিতা দিয়ে কী সংসার চলবে? আমরাও জানি চলবে না। এক মাসের চার সপ্তাহ; অন্তত এক সপ্তাহ যদি সরকারের পক্ষ থেকে সহযোগিতা করতে পারি সেটিও অনেক মানুষের জন্য অনেক বড় সুবিধা। গৃহিণীদের যেমন ফ্যামিলি কার্ড দেওয়া হবে, তেমনি কৃষকদের পাশে দাঁড়ানোর জন্য আমরা কৃষক কার্ড দিতে চাই। এর মাধ্যমে সার, বীজ ও কীটনাশক সরাসরি পৌঁছে যাবে কৃষকের ঘরে।
বিএনপি চেয়ারম্যান বলেন, এ জেলা দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার এলাকা। এখানকার মাটি ও মানুষের সাথে বিএনপির রয়েছে একটি নাড়ির সম্পর্ক। আগামী ১২ তারিখ ধানের শীষ বিজয়ী হলেই সকল পরিকল্পনার বাস্তবায়ন করতে পারব। জনসভায় বৃহত্তর নোয়াখালীর তিন জেলার ১৩টি সংসদীয় আসনের ধানের শীষের প্রার্থীদের পরিচয় করিয়ে দেন দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমান। এ ছাড়া ২০২৪ সালের ৪ আগস্ট ফেনীতে অভ্যুত্থানে শহীদ পরিবার ও আহতদের সাথে সাক্ষাৎ করেন তিনি।
জেলা বিএনপির আহ্বায়ক শেখ ফরিদ বাহারের সভাপতিত্বে ও সদস্য সচিব আলাল উদ্দিন আলালের সঞ্চালনায় জনসভায় কেন্দ্রীয় বিএনপি, জেলা ও সহযোগী সংগঠনের নেতৃবৃন্দ এবং বৃহত্তর নোয়াখালী এলাকার সংসদ সদস্য প্রার্থীরা বক্তব্য রাখেন।
ইএইচ