সংসদে জামায়াতের রাজনীতি নিষিদ্ধের দাবি বিএনপির সাংসদ রফিকুল ইসলামের

আমার সংবাদ ডেস্ক প্রকাশিত: জুন ২৩, ২০২৬, ১২:৪৩ এএম

জাতীয় সংসদে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর রাজনীতি নিষিদ্ধ করার দাবি তুলেছেন ঝালকাঠি-১ আসনের বিএনপি দলীয় সংসদ সদস্য রফিকুল ইসলাম জামাল। ১৯৭১ সালে স্বাধীনতাবিরোধী অবস্থান এবং ধর্মের নামে রাজনীতি করার অভিযোগ তুলে তিনি দলটির রাজনীতি নিষিদ্ধ করার আহ্বান জানান।

সোমবার (২২ জুন) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের দ্বিতীয় ও প্রথম বাজেট অধিবেশনের ১২তম দিনের সাধারণ আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এ দাবি জানান।

বক্তব্যের শুরুতে নিজের নির্বাচনী এলাকার প্রসঙ্গ তুলে রফিকুল ইসলাম জামাল বলেন, তিনি একটি বিতর্কিত ও অনুন্নত এলাকার প্রতিনিধি হিসেবে জনগণের কথা সংসদে তুলে ধরতে চান।

পরে জামায়াতে ইসলামীর সমালোচনা করে তিনি বলেন, নামের সঙ্গে ইসলাম থাকলেই ইসলাম প্রতিষ্ঠা হয় না। তাঁর অভিযোগ, ধর্মকে ব্যবহার করে রাজনীতি করা হচ্ছে এবং গত নির্বাচনে ভোটের বিনিময়ে মানুষকে বেহেশতের প্রতিশ্রুতিও দেওয়া হয়েছিল। তিনি আরও বলেন, বিড়ির সুকটান নিয়েও পাপ মওকুফের মতো বক্তব্য দেওয়া হয়েছে, যা বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।

বিএনপির এই সংসদ সদস্য বলেন, জামায়াতে ইসলামী ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের স্বাধীনতার বিরোধিতা করেছিল। তাই যে দল দেশের জন্মের বিরোধিতা করেছে, তাদের রাজনীতি করার সুযোগ থাকা উচিত নয়। তিনি সংসদে দাবি জানান, ফ্যাসিস্টদের মতো জামায়াতের রাজনীতিও নিষিদ্ধ করা হোক।

বিগত সরকারের সমালোচনা করে রফিকুল ইসলাম বলেন, গত ১৭ বছরে ইমাম সমাজের ওপর নানা ধরনের নির্যাতন হয়েছে। তিনি অভিযোগ করেন, জঙ্গি নাটক সাজিয়ে অনেককে হত্যা করা হয়েছে এবং শাপলা চত্বরে মাদ্রাসার শিক্ষার্থীদের ওপরও দমন-পীড়ন চালানো হয়েছিল।

তবে প্রস্তাবিত বাজেটের প্রশংসা করে তিনি বলেন, দেশের ইতিহাসে এবারই প্রথম ইমাম-মুয়াজ্জিনদের জন্য বিশেষ বরাদ্দ রাখা হয়েছে। যদিও কওমি মাদ্রাসার জন্য আলাদা বরাদ্দ না থাকায় তিনি এ খাতে অর্থ বরাদ্দের অনুরোধ জানান।

বাজেটের বিভিন্ন দিক তুলে ধরে তিনি বলেন, মানবিক রাষ্ট্র গঠনের যে লক্ষ্য বর্তমান প্রধানমন্ত্রী নিয়েছেন, তার প্রতিফলন এবারের বাজেটে দেখা যাচ্ছে। তাঁর দাবি, স্বাধীনতার পর প্রথমবারের মতো বাজেট ঘোষণার পর বাজারে দ্রব্যমূল্য বাড়েনি; বরং কিছু ক্ষেত্রে কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।

নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের ওপর ৫ শতাংশ সম্পূরক শুল্ক কমিয়ে শূন্য দশমিক ৪ শতাংশে নামিয়ে আনার সিদ্ধান্তকে তিনি ‘সাহসী পদক্ষেপ’ হিসেবে উল্লেখ করেন। তাঁর মতে, এর ফলে ভবিষ্যতে রমজান মাসেও বাজারে অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধির আশঙ্কা কমবে।

এ ছাড়া হার্টের রিং ও দৃষ্টিশক্তি পুনরুদ্ধারে ব্যবহৃত লেন্সের শুল্ক কমানোর সিদ্ধান্তকে মানবিক উদ্যোগ হিসেবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, নতুন বাংলাদেশ গড়ার যে লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে, এবারের বাজেট তার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ।

এম জি