সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামসহ পাঁচজনের বিরুদ্ধে রাজধানীর পল্লবী থানায় মামলা করা হয়েছে। অনৈতিক সম্পর্কের প্রতিবাদ এবং ভিডিও ফাঁসের সন্দেহে মারধর ও শ্বাসরোধে হত্যাচেষ্টার অভিযোগ এনে তাঁর সাবেক গাড়িচালক ওবায়দুর রহমান বাদী হয়ে এই মামলা করেন। মামলার পর আমিনুর রহমান নামের এক আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
বুধবার মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ডিবি পুলিশের পল্লবী জোনাল টিমের এসআই রাকিবুল হুদা গ্রেপ্তারকৃত আমিনুরকে আদালতে হাজির করে কারাগারে আটক রাখার আবেদন করেন। আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট কামাল উদ্দীন তাঁকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন। একই সঙ্গে আগামী ২৪ আগস্টের মধ্যে মামলার তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। মামলার অন্য আসামিরা হলেন- মাসুম বিল্লাহ (৪১), মোতাসসিম বিল্লাহ (২৫) ও রাকিবুল হাসান (৩০)।
মামলার বিবরণ থেকে জানা যায়, ওবায়দুর রহমান পল্লবীর কালশী এলাকার একটি বাসায় তাঁর বোনের পরিবারের সাথে বসবাস করতেন এবং তিনি গাজী নজরুল ইসলামের ব্যক্তিগত গাড়ির চালক হিসেবে নিয়োজিত ছিলেন। আত্মীয়তার সূত্রে নজরুল ইসলাম ওই বাসায় যাতায়াত করতেন। একপর্যায়ে নজরুল ইসলামের সঙ্গে ওবায়দুরের ভাগ্নির অনৈতিক সম্পর্ক গড়ে ওঠে। বিষয়টি টের পেয়ে ওবায়দুর তাঁর পরিবারকে জানান এবং নজরুল ইসলামকে এই ধরনের সম্পর্ক থেকে বিরত থাকার অনুরোধ করেন। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে নজরুল ইসলাম তাঁকে প্রাণনাশের হুমকি দেন।
সম্প্রতি একটি চক্র নজরুল ইসলাম ও তাঁর ভাগ্নির কিছু ‘অপ্রীতিকর ভিডিও’ সংগ্রহ করে ব্ল্যাকমেইল করতে শুরু করে। নজরুল ইসলামের ধারণা হয়, ওবায়দুরই গোপন ভিডিও ধারণ করে সংবাদমাধ্যম ও ওই চক্রের হাতে তুলে দিয়েছেন।
এই বিরোধের জেরে গত ১৪ জুলাই নজরুল ইসলামের নির্দেশে অন্য আসামিরা ওবায়দুল্লাহর ওপর হামলা চালান। ওই দিন সকাল ১১টার দিকে আসামি আমিনুর রহমান তাঁকে কৌশলে ড্রয়িংরুমে ডেকে নেন। সেখানে অন্য আসামিরা মিলে তাঁকে লাঠি দিয়ে এলোপাতাড়ি মারধর করেন। একপর্যায়ে আমিনুর তাঁকে ফ্লোরে ফেলে গলা টিপে শ্বাসরোধে হত্যার চেষ্টা করেন।
তখন তাঁর মা ও ছোট বোন এগিয়ে এসে চিৎকার শুরু করলে হামলাকারীরা পালিয়ে যায়। পরে আহত অবস্থায় তাঁকে স্থানীয় কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হয়।
উল্লেখ্য, এই ভিডিওকাণ্ড ও নৈতিক স্খলনের অভিযোগে সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামকে ইতিমধ্যে দল থেকে বহিষ্কার করেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী।
জেএইচআর