কাল পবিত্র আশুরা। যথাযোগ্য ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য ও মর্যাদার মধ্য দিয়ে ধর্মপ্রাণ মুসলমানরা রোজা, বিশেষ ইবাদত ও বিভিন্ন নেক আমলের মাধ্যমে এই দিনটি অতিবাহিত করবেন। হিজরি সালের ১০ মহররম কারবালার প্রান্তরে মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)-এর দৌহিত্র হযরত ইমাম হোসাইন (রা.) ও তাঁর পরিবারের সদস্যদের নির্মম শাহাদত বরণকে স্মরণ করে প্রতি বছর মুসলিম বিশ্বে এই দিনটি ত্যাগ ও শোকের প্রতীক হিসেবে পালিত হয়। ইতোমধ্যে রাজধানীর শিয়া সম্প্রদায় তাজিয়া মিছিলের সব প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে। অন্যদিকে, পবিত্র আশুরাকে ঘিরে নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে পুলিশ।
ইতিহাস অনুযায়ী, ৬৮০ খ্রিস্টাব্দে ইরাকের কারবালার প্রান্তরে ফোরাত নদীর তীরে অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করতে গিয়ে ইয়াজিদ বাহিনীর হাতে নির্মমভাবে শাহাদতবরণ করেন হযরত ইমাম হোসাইন (রা.) এবং তাঁর পরিবারের সদস্যরা। এর মধ্য দিয়ে সত্য ও ন্যায়ের পক্ষে এক অনন্য ও মহান আদর্শ স্থাপন করে গেছেন তাঁরা। হযরত ইমাম হোসাইন (রা.)-এর অনুসারীদের মতে, কারবালার এই ঘটনা মুসলিম উম্মাহর হৃদয়ে অন্যায়ের কাছে মাথা নত না করার চিরন্তন প্রেরণা জোগায়।
বিশ্বের বিভিন্ন দেশের পাশাপাশি বাংলাদেশেও প্রতি বছরের মতো এবারও যথাযথ মর্যাদায় দিনটি পালন করা হবে। শুক্রবার সকাল থেকেই শুরু হবে মূল তাজিয়া মিছিল। তবে তার আগেই পুরান ঢাকার ঐতিহ্যবাহী হোসাইনী দালান ইমামবাড়ায় আসতে শুরু করেছেন শিয়া সম্প্রদায়ের অনুসারী ও দর্শনার্থীরা। সেখানে নামাজ, জিয়ারত ও ইবাদত-বন্দেগিতে ব্যস্ত সময় পার করছেন তাঁরা। হোসাইনী দালানে আসা এক দর্শনার্থী বলেন, এখানে আসলেই মনটা ভারী হয়ে যায়। ইমাম হোসাইনকে যেভাবে কষ্ট দিয়ে মেরে ফেলা হলো, তা মনে করলে বুক ফেটে যায়।
হোসাইনী দালান ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশনের তত্ত্বাবধায়ক মোহাম্মদ ফিরোজ হোসেন সার্বিক প্রস্তুতির বিষয়ে জানান, সত্যের পথে অবিচল থাকার শিক্ষা দেয় কারবালা। এ বছর সব ধরনের প্রস্তুতি সুন্দরভাবে সম্পন্ন হয়েছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে বড় ধরনের সহযোগিতার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে। আশা করা যাচ্ছে, নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তার মধ্যে অত্যন্ত ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য বজায় রেখে সব কর্মসূচি সম্পন্ন করা সম্ভব হবে।
পবিত্র আশুরা উপলক্ষে ঢাকায় শিয়া সম্প্রদায়ের তাজিয়া মিছিলসহ অন্যান্য কর্মসূচির নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সর্বোচ্চ কঠোর অবস্থানে থাকবে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি) কমিশনার মোসলেহ উদ্দিন আহমেদ নিরাপত্তার স্বার্থে কিছু জরুরি নিষেধাজ্ঞা জারি করেছেন। তিনি জানান, মিছিলে কোনো প্রকার ধারালো অস্ত্র, ধাতব বস্তু, তরবারি, দাহ্য পদার্থ, ছুরি, চাকু, লাঠি, বল্লম কিংবা ব্যাগ ও সুটকেস নিয়ে অংশ নেওয়া যাবে না।
ডিএমপি কমিশনার আরও বলেন, আমরা সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থায় আছি। যেকোনো ধরনের নাশকতা বা অপ্রীতিকর পরিকল্পনা নস্যাৎ করে দেওয়ার জন্য আমাদের সব ধরনের প্রস্তুতি রয়েছে। এ ছাড়া মিছিলে ব্যবহৃত নিশানের উচ্চতা কোনোভাবেই ১২ ফুটের বেশি হওয়া যাবে না।
আয়োজক কমিটি সূত্রে জানা গেছে, এবার পুরান ঢাকাসহ রাজধানীর বিভিন্ন ইমামবাড়া থেকে মোট ৬৩টি তাজিয়া মিছিল বিভিন্ন সময়ে বের হবে। মূল মিছিলটি সকাল ১০টায় শুরু হয়ে রাজধানীর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে নির্দিষ্ট গন্তব্যে গিয়ে শেষ হবে।
জেএইচআর