ভূমিকম্পের পর কেন হয় আফটার শক?

বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি ডেস্ক প্রকাশিত: নভেম্বর ২১, ২০২৫, ১১:৩৪ এএম

রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় শুক্রবার (২১ নভেম্বর) সকাল ১০টা ৩৯ মিনিটে ৫ দশমিক ২ মাত্রার ভূমিকম্প অনুভূত হয়েছে। কেন্দ্রস্থল ছিল ঢাকার অদূরে নরসিংদী অঞ্চলে। 

হঠাৎ এই কম্পনে বহু মানুষ বাসা-বাড়ি ও কর্মস্থল থেকে আতঙ্কগ্রস্ত হয়ে রাস্তায় বের হয়ে আসেন। যদিও তাৎক্ষণিকভাবে বড় ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি, তবে ভূমিকম্পের পর আফটার শকের আশঙ্কা থেকেই যায় বলে জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।

আফটার শক কী?

মূল ভূমিকম্পের পর একই এলাকায় যে ছোট ছোট কম্পনগুলো অনুভূত হয়, সেগুলোকেই আফটার শক বলা হয়। ভূমিকম্পে ভূত্বকের ভাঙনরেখায় চাপ হঠাৎ কমে গেলে আশপাশের এলাকাগুলো নতুনভাবে ভারসাম্য খুঁজতে থাকে—এই চাপ সামঞ্জস্যের সময়ই ছোট কম্পনের সৃষ্টি হয়।

কতগুলো আফটার শক হতে পারে?

এ বিষয়ে নির্দিষ্ট কোনো সংখ্যা নেই। কখনো কয়েকটি, কখনো দশ–বারোটি, আবার বড় ভূমিকম্পে শতাধিক আফটার শক পর্যন্তও হতে দেখা যায়।

কতদিন পর্যন্ত থাকতে পারে?

বিশেষজ্ঞদের মত, মূল ভূমিকম্পের পর প্রথম ২৪ ঘণ্টায় সবচেয়ে বেশি আফটার শক হয়। ৩ থেকে ৭ দিনের মধ্যে এর মাত্রা কমতে থাকে। বড় ভূমিকম্পে সপ্তাহ বা মাসব্যাপী আফটার শক অনুভূত হতে পারে।

৫ দশমিক ২ মাত্রার ভূমিকম্প হওয়ায় কয়েকদিন ছোটখাটো আফটার শক হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

আফটার শক কি মূল ভূমিকম্পের চেয়ে বেশি শক্তিশালী হতে পারে?

সাধারণত না। খুব বিরল ক্ষেত্রে আফটার শক মূল ভূমিকম্পের কাছাকাছি মাত্রার হতে পারে—তবে তা সাধারণত বড় (৭ বা ৮ মাত্রার) ভূমিকম্পে দেখা যায়।

কেন সতর্ক থাকা জরুরি?

ভূমিকম্পের উৎসস্থল যেহেতু ঢাকার খুব নিকটে ছিল, তাই বিশেষজ্ঞরা বলছেন—এটি ভবিষ্যতের জন্য সতর্কবার্তা। ঘনবসতি, দুর্বল ভবন কাঠামো ও ভূগঠন মিলিয়ে রাজধানী উচ্চ ঝুঁকিতে রয়েছে। তাই ভবন নির্মাণে মান নিয়ন্ত্রণ এবং জনসচেতনতা বাড়ানোর ওপর জোর দিয়েছেন ভূতাত্ত্বিকরা।

এ ধরনের ভূকম্পন আমাদের মনে করিয়ে দেয়—প্রস্তুতি ও সচেতনতা থাকলেই বড় ক্ষতির ঝুঁকি কমানো সম্ভব।

ইএইচ