গরমের রাতে স্বস্তির ঘুম পেতে ১.৫ টন এসি এখন অনেকের বাসায় সাধারণ ব্যবহারের অংশ হয়ে উঠেছে। তবে নিয়মিত ব্যবহার করলে মাস শেষে বিদ্যুৎ বিল কত হতে পারে- এ নিয়ে ব্যবহারকারীদের মধ্যে কৌতূহল রয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ১.৫ টন এসির বিদ্যুৎ খরচ মূলত এটি ইনভার্টার নাকি নন-ইনভার্টার তার ওপর নির্ভর করে। নন-ইনভার্টার এসি সাধারণত গড়ে ১.৫ থেকে ২.০ কিলোওয়াট পর্যন্ত বিদ্যুৎ ব্যবহার করে। অন্যদিকে ইনভার্টার এসি তুলনামূলকভাবে কম শক্তি খরচ করে, যা প্রায় ১.০ থেকে ১.৫ কিলোওয়াটের মধ্যে ওঠানামা করে।
ধরা যাক, কোনো ব্যবহারকারী প্রতিদিন রাতে ৮ ঘণ্টা করে এসি চালান। সে অনুযায়ী মাসে মোট ব্যবহার দাঁড়ায় প্রায় ২৪০ ঘণ্টা।
এই হিসাব অনুযায়ী, নন-ইনভার্টার এসি (গড়ে ১.৮ কিলোওয়াট ধরে) মাসে আনুমানিক ৪৩০ ইউনিটের বেশি বিদ্যুৎ ব্যবহার করতে পারে। আর ইনভার্টার এসি (গড়ে ১.২ কিলোওয়াট ধরে) ব্যবহার হতে পারে প্রায় ২৮০ থেকে ২৯০ ইউনিট।
বাংলাদেশে বিদ্যুতের গড় ইউনিট মূল্য সাধারণত ৮ থেকে ১২ টাকার মধ্যে ওঠানামা করে। এই হিসেবে মাস শেষে নন-ইনভার্টার এসির খরচ দাঁড়াতে পারে প্রায় ৪,৩০০ থেকে ৫,৫০০ টাকার মতো। অন্যদিকে ইনভার্টার এসি ব্যবহার করলে ব্যয় তুলনামূলক কমে প্রায় ২,৮০০ থেকে ৩,৮০০ টাকার মধ্যে থাকতে পারে।
শুধু রাতে ৮ ঘণ্টা ১.৫ টন এসি চালালে মাসিক বিদ্যুৎ বিল সাধারণত ২,৮০০ টাকা থেকে ৫,৫০০ টাকার মধ্যে উঠতে পারে বলে ধারণা করা যায়। তবে রুমের আয়তন, তাপমাত্রা সেটিং, ইনসুলেশন ও ব্যবহার পদ্ধতির ওপর এই খরচ কম-বেশি হতে পারে।
বিদ্যুৎ বিল কমাতে বিশেষজ্ঞরা কিছু পরামর্শ দিয়েছেন- যেমন ২৪-২৬ ডিগ্রি তাপমাত্রায় এসি চালানো, দরজা-জানালা সম্পূর্ণ বন্ধ রাখা, নিয়মিত ফিল্টার পরিষ্কার করা এবং সম্ভব হলে ইনভার্টার এসি ব্যবহার করা।
এএন