অ্যাপলের পরবর্তী ফ্ল্যাগশিপ ফোন আইফোন ১৮ প্রো ম্যাক্সের ক্যামেরায় বড় ধরনের পরিবর্তন আসতে পারে। বাজার বিশ্লেষক মিং-চি কুও-র তথ্য অনুযায়ী, নতুন এই ফোনের ক্যামেরা তৈরির খরচ আগের আইফোন ১৭ প্রো-এর তুলনায় প্রায় ৫০ শতাংশ বেশি হতে পারে। এর প্রধান কারণ হিসেবে থাকছে নতুন ‘ভেরিয়েবল অ্যাপারচার’ প্রযুক্তি। দীর্ঘদিনের গুঞ্জনের পর অ্যাপল তাদের প্রিমিয়াম ফোনে এই সুবিধা যুক্ত করতে যাচ্ছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
বর্তমান আইফোনের ক্যামেরায় নির্দিষ্ট অ্যাপারচার ব্যবহার করা হয়। ফলে ব্যবহারকারীরা লেন্সের মুখের আকার পরিবর্তন করতে পারেন না। তবে আইফোন ১৮ প্রো ম্যাক্সে লেন্সের অ্যাপারচার প্রয়োজন অনুযায়ী বড় বা ছোট করা যাবে। এই প্রযুক্তি অনেকটা মানুষের চোখের মণির মতো কাজ করবে। কম আলোতে লেন্সের মুখ বড় হয়ে বেশি আলো সেন্সরে প্রবেশ করতে দেবে। এতে অন্ধকার পরিবেশেও আরও উজ্জ্বল ও পরিষ্কার ছবি তোলা সম্ভব হবে। আবার বেশি আলোতে অ্যাপারচার ছোট হয়ে ছবির ফোকাস নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করবে এবং ব্যাকগ্রাউন্ড ব্লার বা বোকেহ ইফেক্ট আরও উন্নত হবে। মিং-চি কুও জানিয়েছেন, সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর তথ্য অনুযায়ী নতুন এই ক্যামেরা তৈরির প্রস্তুতি শুরু হয়েছে।
ভেরিয়েবল অ্যাপারচার প্রযুক্তির ক্যামেরা তৈরি তুলনামূলকভাবে জটিল। এতে এমন কিছু যান্ত্রিক অংশ থাকে, যা প্রয়োজন অনুযায়ী নড়াচড়া করে লেন্সের মুখের আকার পরিবর্তন করে। বর্তমান আইফোনের মূল ক্যামেরায় ব্যবহৃত সাত উপাদানের প্লাস্টিক লেন্সের তুলনায় নতুন ক্যামেরা মডিউলের উৎপাদন খরচ প্রায় ৫০ শতাংশ বেশি হতে পারে। ধারণা করা হচ্ছে, লেন্স নির্মাতা প্রতিষ্ঠান সানি অপটিক্যাল অ্যাপলের নতুন ক্যামেরার ৪০ থেকে ৫০ শতাংশ অর্ডার সরবরাহ করবে।
এর আগে প্রতিষ্ঠানটি অ্যাপলের ম্যাকবুক নিও পণ্যের ক্যামেরা মডিউল তৈরি করেছে। এবার আইফোনের অত্যাধুনিক ক্যামেরা প্রযুক্তির সঙ্গেও যুক্ত হতে যাচ্ছে তারা। নতুন এই প্রযুক্তি যুক্ত হলে আইফোনের ক্যামেরা শুধু ছবি তোলার ক্ষেত্রেই নয়, পেশাদার ফটোগ্রাফির কাছাকাছি অভিজ্ঞতা দেওয়ার ক্ষেত্রেও আরও এক ধাপ এগিয়ে যাবে বলে মনে করছেন প্রযুক্তি বিশ্লেষকরা।
জেএইচআর