ধানমন্ডি ৩২-এ ডিসি মাসুদ

এরা তো শিবির স্যার, নতুন ফোর্স লাগবে

আমার সংবাদ ডেস্ক প্রকাশিত: নভেম্বর ১৮, ২০২৫, ০৪:০৮ পিএম

ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের রমনা বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিসি) মো. মাসুদ আলম আবারও আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে।

ধানমন্ডি ৩২ নম্বর এলাকায় ছাত্র-জনতার সঙ্গে সংঘর্ষের সময় তার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার সঙ্গে করা ফোনালাপের একটি ভিডিও সোমবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে।

ভিডিওতে তাকে বলতে শোনা যায়, স্যার, এখানে যারা আছে, শিবিরের মতো আচরণ করছে… আমাদের বাড়তি ফোর্স দরকার।

শেখ হাসিনার মানবতাবিরোধী অপরাধ মামলার রায় ঘোষণার দিন ধানমন্ডি ৩২ নম্বরের পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।

অভিযোগ রয়েছে, ঢাকা কলেজের কয়েকজন শিক্ষার্থী বঙ্গবন্ধুর বাড়ির সামনে থাকা স্থাপনা ভাঙচুরের চেষ্টা করলে পুলিশ ও সেনাবাহিনী তাদের আটকে দেয়।

পরে সেখানে কয়েক দফায় উত্তেজনা বাড়তে থাকে। ঠিক সেই সময়ই ঘটনাস্থলেই ডিসি মাসুদের ফোনালাপ রেকর্ড করে কেউ, যা পরে ফেসবুকে ভাইরাল হয়।

‘বিশ্ববিদ্যালয় পরিবার’ নামের একটি পেজ ভিডিওটি শেয়ার করে মন্তব্য করে— আন্দোলন দমনে আবারও ‘শিবির’ লেবেল ব্যবহার করা হচ্ছে।

পোস্টটি প্রকাশের পর থেকেই অনলাইনে বহু ব্যবহারকারী ডিসি মাসুদের আচরণ নিয়ে সমালোচনা শুরু করেন। তবে এ বিষয়ে তার কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি; ফোনে একাধিকবার চেষ্টা করলেও তিনি যোগাযোগে আসেননি। 

আগেও এই কর্মকর্তাকে ঘিরে কয়েকটি ঘটনা আলোচনায় আসে। ইন্টারকন্টিনেন্টাল হোটেলের সামনে বুয়েট শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের সময় এক শিক্ষার্থীর মুখ চেপে ধরার ছবি ছড়িয়ে পড়লে সমালোচনা হয়।

আবার বিপরীতভাবে, ২০২৪ সালের কোটা সংস্কার আন্দোলনের সময় পাবনায় অতিরিক্ত পুলিশ সুপার হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে তিনি শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে প্রশংসাও পেয়েছিলেন।

সেই সময় তার একটি বক্তব্য ভাইরাল হয়েছিল, যদি কেউ তোমাদের দিকে আসে, আগে আমাকে পার হতে হবে।

এ ছাড়া বিভিন্ন রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার জন্যও তিনি কয়েকবার আলোচনায় এসেছেন।

এমনকি গত মে মাসে আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে গণহত্যার অভিযোগে আয়োজিত আন্দোলনের দিন তিনি খেলার জার্সি পরা অবস্থাতেই মাঠ থেকে সরাসরি ঘটনাস্থলে ছুটে যান, যা ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়।

এই কর্মকর্তা প্রায়ই জনসম্মুখে মন্তব্য করে বিতর্কে জড়িয়েছেন। গত এপ্রিল সায়েন্সল্যাব মোড়ে কলেজ শিক্ষার্থীদের সংঘর্ষের সময় তিনি মন্তব্য করেছিলেন, এই মারামারির কারণ আল্লাহই ভালো জানেন। এই কথাও তখন সমালোচনার জন্ম দেয়।

উল্লেখ্য, মাসুদ আলম বিসিএস পুলিশ ক্যাডারের ২৮তম ব্যাচের কর্মকর্তা। র‌্যাব-৬-এর ঝিনাইদহ ক্যাম্প, পাবনার অতিরিক্ত পুলিশ সুপারের দায়িত্ব পালন এবং পরে পুলিশ সুপার পদে পদোন্নতির পর তিনি গত বছরের ৫ আগস্ট ডিএমপির রমনা বিভাগে ডিসি পদে যোগ দেন।

জেএইচআর