মেট্রোরেল স্টেশনে এক ব্যক্তিকে জুতাপেটা ও মারধরের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর দাবি করা হয়, তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আবিদুল ইসলাম খান।
তবে অনুসন্ধানে দেখা গেছে, ওই দাবি সঠিক নয় এবং ভিডিওতে থাকা ব্যক্তি আবিদুল ইসলাম খান নন।
শুক্রবার বিকেলে ‘Hasnat Abdullah’ নামের একটি গ্রুপে ২৪ সেকেন্ডের ভিডিওটি “আবিদকে এমনে জুতাপেটা করলো কেন?” ক্যাপশনে পোস্ট করা হয়। অল্প সময়ের মধ্যেই ভিডিওটি ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ে এবং হাজারো রিঅ্যাকশন, কমেন্ট ও শেয়ার হয়।
ভিডিওতে দেখা যায়, কালো পাঞ্জাবি পরা এক ব্যক্তিকে দুজন মিলে জুতা দিয়ে আঘাত করছে এবং মারধর করছে। ঘটনাস্থলটি মেট্রোরেল স্টেশনের ভেতরের মতো মনে হলেও নির্দিষ্ট কোনো স্টেশন বা ঘটনার সময় নিশ্চিত করা যায়নি। একইসঙ্গে সেখানে দুজন ব্যক্তি পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করতেও দেখা যায়।
সামাজিক মাধ্যমে ভিডিওটি ছড়িয়ে দাবি করা হয়, ভুক্তভোগী ব্যক্তি ছাত্রদল নেতা আবিদুল ইসলাম খান। তবে ভিডিও বিশ্লেষণে তার শারীরিক গঠন ও মুখাবয়বের সঙ্গে ওই ব্যক্তির মিল পাওয়া যায়নি। এছাড়া এ ঘটনায় কোনো দলীয় বিবৃতি বা নির্ভরযোগ্য সংবাদমাধ্যমের নিশ্চিত প্রতিবেদনও পাওয়া যায়নি।
অনুসন্ধানে আরও দেখা যায়, একই ভিডিও আগেই ভিন্ন ক্যাপশনে বিভিন্ন ফেসবুক পেজে প্রকাশিত হয়েছিল। একটি পেজে এটিকে “মেট্রোরেলে নারীকে ধাক্কা দেওয়ায় মারামারি” এবং আরেকটি পেজে “গার্লফ্রেন্ডকে ধাক্কা দেওয়া নিয়ে তুমুল মারামারি” হিসেবে উপস্থাপন করা হয়।
সব তথ্য বিশ্লেষণে স্পষ্ট হয়, ভাইরাল হওয়া ভিডিওটি পুরনো একটি ঘটনার এবং পরে সেটিকে ছাত্রদল নেতার সঙ্গে যুক্ত করে ভুল তথ্য ছড়ানো হয়েছে। তবে প্রকৃত ভুক্তভোগীর পরিচয় এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
ফলে এটি নিশ্চিতভাবে বলা যায়, আবিদুল ইসলাম খান ওই ঘটনার সঙ্গে জড়িত নন এবং ভিডিওটি ভিন্ন ঘটনার পুরনো ফুটেজ।
এএন