আবাসিক মাদরাসাগুলোতে যৌন নিপীড়নের মতো অপরাধ রোধে বাস্তবভিত্তিক উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন আস-সুন্নাহ ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান ও ইসলামী বক্তা আহমাদুল্লাহ। তিনি বলেছেন, আবাসিক মাদরাসাগুলোতে কম-বেশি যৌন অনাচারের ঘটনা রয়েছে এবং বিষয়টি উপেক্ষা করলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হতে পারে।
শনিবার নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পোস্টে তিনি জানান, বর্তমানে হজ সফরে থাকায় বিস্তারিতভাবে কথা বলার সুযোগ নেই। তবে দেশে ফিরে এ বিষয়ে বিস্তারিত প্রস্তাবনা উপস্থাপন ও কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে তার।
পোস্টের মন্তব্যে রাজধানীর মিরপুরে শিশু রামিসাকে ধর্ষণের পর হত্যার ঘটনাও উল্লেখ করেন তিনি। বলেন, ঘটনাটি নিয়ে আলোচনা চলাকালে তিনি হজের উদ্দেশ্যে বিমানবন্দরে ছিলেন। পরে বনশ্রীর একটি মাদরাসাকে ঘিরে আরেকটি ঘটনার সময় তিনি আকাশপথে থাকায় নেটওয়ার্কের বাইরে ছিলেন।
শায়খ আহমাদুল্লাহ বলেন, ধর্ষক মাদরাসার হোক কিংবা বাইরের-সব ক্ষেত্রেই দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা নিয়ে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। একই সঙ্গে তিনি আবাসিক মাদরাসাগুলোতে সিসি ক্যামেরা স্থাপন, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, আলাদা আবাসন ব্যবস্থা, পৃথক খাটের ব্যবস্থা এবং মহিলা মাদরাসায় পুরুষ শিক্ষক নিয়োগ না দেওয়ার মতো বেশ কিছু সুপারিশ তুলে ধরেন।
তিনি আরও বলেন, সব ঘটনায় গণমাধ্যমে পুরো সত্য উঠে আসে না। কোথাও প্রকৃত অপরাধ ঘটে, আবার কোথাও নির্দোষ আলেম বা ইমামকে ফাঁসানোর ঘটনাও ঘটে বলে দাবি করেন তিনি।
মাদরাসা শিক্ষাব্যবস্থার ভাবমূর্তি রক্ষায় হাইয়াতুল উলইয়ার অধীনে বিশেষজ্ঞদের নিয়ে তদন্ত কমিশন গঠনের প্রস্তাবও দেন তিনি। অভিযোগ প্রমাণিত হলে অভিযুক্তকে বিচারের আওতায় আনার পাশাপাশি ভবিষ্যতে কোনো মাদরাসায় চাকরি না দেওয়ার জন্য ব্ল্যাকলিস্ট করার আহ্বান জানান এই ইসলামী বক্তা।
এম জি