‘ওসমান হাদি হত্যায় সবচেয়ে বেশি সুবিধা পেয়েছে তার ভাই ওমর’

আমার সংবাদ ডেস্ক প্রকাশিত: জুন ৩, ২০২৬, ০৮:৫৯ পিএম

ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরীফ ওসমান হাদি হত্যাকাণ্ডকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে আলোচনা ও বিতর্ক শুরু হয়েছে। গণঅধিকার পরিষদের মুখপাত্র ফারুক হাসান সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে নিহতের বড় ভাই শরীফ ওমর হাদি সম্পর্কে সন্দেহ প্রকাশ করেছেন।

বুধবার নিজের ফেসবুক পোস্টে ফারুক হাসান দাবি করেন, এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় সবচেয়ে বেশি সুবিধা পেয়েছেন ওমর হাদি। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, ওসমান হাদির মৃত্যুর পর অল্প সময়ের মধ্যেই ওমর হাদি লন্ডনে বাংলাদেশের হাইকমিশনে একটি গুরুত্বপূর্ণ ও লাভজনক পদে নিয়োগ পান। তিনি প্রশ্ন তোলেন, যদি ওমর হাদি সত্যিই অন্তর্বর্তী সরকারকে এই হত্যাকাণ্ডের জন্য দায়ী মনে করেন, তাহলে সেই সরকারের অধীনেই কেন তিনি বিদেশে সরকারি দায়িত্ব গ্রহণ করলেন।

ফারুক হাসান আরও বলেন, ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্তের স্বার্থে ওমর হাদিকে আইনের আওতায় এনে জিজ্ঞাসাবাদ করা প্রয়োজন। একই সঙ্গে তিনি সরকারের প্রতি দ্রুত তদন্তের আহ্বান জানান।

এর আগে মঙ্গলবার (২ জুন) রাতে ওমর হাদি তাঁর ফেসবুক পেজে দেওয়া দুটি পৃথক পোস্টে ওসমান হাদি হত্যার পেছনে অন্তর্বর্তী সরকারের কয়েকজন উপদেষ্টা, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) এবং বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী-এর সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ তোলেন। তিনি দাবি করেন, ঢাকা-৮ আসন থেকে ওসমান হাদিকে রাজনৈতিকভাবে সরিয়ে দিতে বিভিন্ন মহল থেকে চাপ প্রয়োগ করা হয়েছিল। এ ঘটনায় জামায়াতের আমিরের এক ব্যক্তিগত সহকারীর সম্পৃক্ততার অভিযোগও করেন তিনি।

একই পোস্টে ওমর হাদি সতর্ক করে বলেন, ওসমান হাদি হত্যার বিচার না হলে দেশের শীর্ষ নেতৃত্বও নিরাপত্তা ঝুঁকিতে পড়তে পারে।

উল্লেখ্য, গত ১৫ জানুয়ারি অন্তর্বর্তী সরকার ওমর বিন হাদিকে যুক্তরাজ্যের বাংলাদেশ সহকারী হাইকমিশন, বার্মিংহামে দ্বিতীয় সচিব পদে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ দেয়।

এদিকে হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত রহস্য উদঘাটনের আগেই বিভিন্ন পক্ষের পাল্টাপাল্টি অভিযোগ, রাজনৈতিক বক্তব্য এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে চলমান বিতর্ক বিষয়টিকে আরও আলোচনার কেন্দ্রে নিয়ে এসেছে। তদন্তের অগ্রগতি ও প্রকৃত তথ্য প্রকাশের অপেক্ষায় রয়েছে সংশ্লিষ্ট মহল এবং সাধারণ মানুষ।

এম জি