এশিয়ান কাপ বাছাইয়ের তৃতীয় রাউন্ডে নিজেদের ঘরের মাঠে দারুণ শুরু করেও প্রথমার্ধ শেষে জয় নয়, সমতা নিয়েই বিরতিতে যেতে হয়েছে বাংলাদেশকে। হামজা দেওয়ান চৌধুরীর নিখুঁত ফ্রি-কিকে এগিয়ে গিয়েও যোগ করা সময়ে রক্ষণের বড় ভুলে গোল হজম করে সমতায় ফিরে যায় অতিথি হংকং চায়না।
প্রথমার্ধের প্রায় পুরোটা সময় মাঠে আধিপত্য ছিল লাল-সবুজদের। কোচ হাভিয়ের কাবরেরা শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক পরিকল্পনায় দল সাজিয়েছিলেন। শুরুর কয়েক মিনিটেই বাংলাদেশের খেলোয়াড়দের গতি, পাসিং এবং বল দখলে শ্রেষ্ঠত্ব দেখে উচ্ছ্বাসে ভাসছিল জাতীয় স্টেডিয়ামের গ্যালারি।
বাংলাদেশের আক্রমণভাগে শুরু থেকেই নেতৃত্ব দেন ইংল্যান্ডে জন্ম নেওয়া বংশোদ্ভূত বাংলাদেশি ফুটবলার হামজা দেওয়ান চৌধুরী। ম্যাচের মাত্র ১২তম মিনিটেই তার বুদ্ধিদীপ্ত ফ্রি-কিক থেকে এগিয়ে যায় বাংলাদেশ। ডি-বক্সের বাঁ প্রান্ত থেকে পাওয়া ফ্রি-কিকটি নিখুঁতভাবে গোলমুখে পাঠান হামজা। বলটি হংকং গোলরক্ষকের হাত ফসকে জালে জড়িয়ে গেলে স্টেডিয়াম যেন কেঁপে ওঠে উল্লাসে।
গোলের পর আত্মবিশ্বাসে ভরপুর হয়ে ওঠে বাংলাদেশ দল। মাঝমাঠে আক্রমণ-প্রতিরক্ষার ভারসাম্য রেখে বল দখলে রাখে কাবরেরার শিষ্যরা। বাম প্রান্তে ফয়সাল আহমেদ ফাহিম ও ডান দিক দিয়ে ইয়াসিন আরাফাতের দৌড়ঝাঁপ বারবার বিপদ তৈরি করে। একাধিকবার হংকংয়ের রক্ষণভাগকে নাজেহাল করলেও ফিনিশিংয়ের ঘাটতিই শেষ পর্যন্ত ভোগায় বাংলাদেশকে।
অন্যদিকে শক্তির দিক থেকে তুলনামূলক এগিয়ে থাকা হংকংও ধীরে ধীরে ম্যাচে ফিরতে থাকে। পাল্টা আক্রমণে কয়েকটি সুযোগ তৈরি করলেও বাংলাদেশের রক্ষণভাগ ও গোলরক্ষক আনিসুর রহমান জিকোর দৃঢ়তায় এগিয়ে যেতে পারেনি তারা। তবে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে বাংলাদেশ কিছুটা রক্ষণাত্মক হয়ে পড়ায় ম্যাচের ছন্দ বদলে যেতে থাকে।
যোগ করা সময়ের শেষ মুহূর্তে ঘটে নাটকীয়তা। কর্নার থেকে হংকংয়ের ক্রসে জটলা তৈরি হলে বল ক্লিয়ার করতে গিয়ে ভুল করেন বাংলাদেশের ফরোয়ার্ড ফয়সাল আহমেদ ফাহিম। তার ভুল ক্লিয়ারেন্স ছয় গজ দূরে চলে যায় প্রতিপক্ষের ব্রাজিলিয়ান বংশোদ্ভূত ফরোয়ার্ড এভারটন কামারগোর কাছে। সুযোগ বুঝে তিনি আলতো স্পর্শে বল পাঠান বাংলাদেশের জালে। মুহূর্তেই স্তব্ধ হয়ে যায় স্টেডিয়ামের উল্লাসমুখর দর্শক।
ফলে প্রথমার্ধ শেষ হয় ১-১ গোলের সমতায়। হামজার ফ্রি-কিকের জাদুতে এগিয়ে থেকেও ফাহিমের অনাকাঙ্ক্ষিত ভুলে লিড হারিয়ে যায় বাংলাদেশের।
এদিকে ম্যাচের শুরুর একাদশে ছিলেন না দলের নিয়মিত অধিনায়ক জামাল ভূঁইয়া, অভিজ্ঞ ডিফেন্ডার তপু বর্মন ও মিডফিল্ডার শমিত সোম। কোচ কাবরেরা তরুণদের সুযোগ দিলেও অভিজ্ঞতার ঘাটতি স্পষ্ট ছিল রক্ষণে।
বিরতির পর মাঠে নামার সম্ভাবনা রয়েছে জামাল, তপু ও শমিতের। কাবরেরা আশা করছেন, অভিজ্ঞদের ফেরায় দ্বিতীয়ার্ধে ছন্দ ফিরে পাবে দল এবং ম্যাচে জয়ের সম্ভাবনা জাগবে নতুন করে।
এশিয়ান কাপ বাছাইয়ের এই রাউন্ডে এর আগে হংকং চায়না দুই ম্যাচেই অপরাজিত ছিল। র্যাংকিংয়েও তারা বাংলাদেশের থেকে ৩৭ ধাপ এগিয়ে। তবু ঘরের মাঠে বাংলাদেশ প্রথমার্ধে যে লড়াই দেখিয়েছে, তা অনেক দর্শকের হৃদয় জয় করেছে।
প্রথমার্ধে বল দখলের হিসাবেও এগিয়ে ছিল লাল-সবুজরা। তবে গোলমুখে সুযোগ কাজে লাগাতে না পারায় ব্যবধান বাড়াতে পারেনি দলটি। এখন দেখার বিষয়, দ্বিতীয়ার্ধে অভিজ্ঞদের ফেরায় বাংলাদেশ কি না ফেরাতে পারে লিড— নাকি হংকংয়ের টেকনিক্যাল ফুটবলই শেষ হাসি হাসবে।
প্রথমার্ধ শেষে স্কোরলাইন: বাংলাদেশ ১ – ১ হংকং চায়না
গোলদাতা: হামজা দেওয়ান চৌধুরী (বাংলাদেশ, ১২’), এভারটন কামারগো (হংকং, ৪৫+৪’)
ইএইচ