চায়ের শহর সিলেটের বদলে ঢাকা থেকে শুরু হতে পারে বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগ (বিপিএল) ২০২৫-২৬ এর ১২তম আসর। মূল কারণ হলো আবাসন ও হোটেল ব্যবস্থার সংকট। সাধারণত বিপিএলের শুরুতে সিলেট পর্ব আয়োজন করা হয়, কিন্তু এবার আবাসনের সমস্যা এবং পর্যটকভিড়ের কারণে সিলেটে পর্যাপ্ত হোটেল পাওয়া সম্ভব হচ্ছে না। তাই আয়োজকরা বাধ্য হয়ে প্রথম পর্ব ঢাকাতেই আয়োজনের পরিকল্পনা করেছেন।
বিসিবি সূত্রে জানা গেছে, বিপিএলের প্রথম চার দিন ঢাকায় খেলা হবে। এরপর খেলাগুলো সিলেট ও চট্টগ্রামে অনুষ্ঠিত হবে এবং শেষপর্যায়ে আবার ঢাকায় ফিরবে টুর্নামেন্ট। তবে এ বিষয়ে এখনও চূড়ান্ত ঘোষণা দেয়নি বিপিএলের আয়োজকরা।
২০১৭ সালে বিপিএলের প্রথম পর্ব আয়োজন হয়েছিল সিলেটে। সিলেট পর্বকে দর্শকপ্রিয় হিসেবে বিবেচনা করা হয়, কারণ নতুন বছরকে ঘিরে শহরটি পর্যটকদের ভিড়ে মুখরিত হয়ে ওঠে। বিপিএলের খেলায় দেশের নানা প্রান্ত থেকে দর্শক ভিড় জমায় এবং সিলেটের আবহাওয়াও খেলোয়াড় ও দর্শকদের জন্য উপযুক্ত। তবে এবারের সিলেট পর্বে পর্যাপ্ত হোটেল ব্যবস্থা না থাকায় আয়োজকরা ঢাকার প্রথম পর্বকে অগ্রাধিকার দিয়েছেন।
বিপিএলের এবারের আসরের সূচি অনুযায়ী, টুর্নামেন্ট শুরু হবে ২৬ ডিসেম্বর ২০২৫ থেকে। এর আগে, ৩০ নভেম্বর অনুষ্ঠিত হয় বিপিএলের নিলাম। নিলামে প্রতিটি দল তাদের স্কোয়াড গঠন করে পুরো আসরের জন্য প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে। ৬টি দল এবার বিপিএলে অংশ নিচ্ছে, এবং প্রত্যেক দল আগের বছরের তুলনায় আরও শক্তিশালী দল ঘোষণা করেছে।
ঢাকা থেকে প্রথম পর্বের আয়োজনের সিদ্ধান্ত অবশ্যই খেলোয়াড়, দর্শক এবং আয়োজকদের সুবিধার কথা বিবেচনা করে নেওয়া হয়েছে। ঢাকায় ভালো পরিকাঠামো, পর্যাপ্ত হোটেল ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা থাকায় এখানে প্রথম পর্ব আয়োজন করা সুবিধাজনক। এরপর সিলেট ও চট্টগ্রামে ম্যাচগুলো হবে, যেখানে দর্শকরা স্থানীয়ভাবে খেলার আনন্দ উপভোগ করতে পারবেন।
বিশ্বস্ত একটি সূত্র বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। সূত্রটি জানায়, সিলেটে পর্যাপ্ত হোটেল ব্যবস্থা পাওয়া যাচ্ছে না। বিশেষ করে নতুন বছর শুরুর সময় চাহিদা অত্যধিক। তাই ঢাকায় শুরু করা সবচেয়ে বাস্তবপযোগী সিদ্ধান্ত। এরপর খেলা সিলেট ও চট্টগ্রামে হবে। শেষপর্যায়ে আবার ঢাকায় ফিরিয়ে আসা হবে যাতে টুর্নামেন্টের ফাইনাল ও সমাপনী অনুষ্ঠান সুষ্ঠুভাবে আয়োজন করা যায়।
ঢাকা থেকে শুরু হওয়া বিপিএল আসরের ফলে শহরের দর্শক ও খেলোয়াড়দের সুবিধা বৃদ্ধি পাবে। ঢাকায় দর্শক সংখ্যা বেশি এবং পর্যাপ্ত দর্শক বসার ব্যবস্থা আছে। তবে সিলেট ও চট্টগ্রামে খেলা আয়োজন করে স্থানীয় দর্শকদেরও সুবিধা নিশ্চিত করা হবে। টুর্নামেন্টের সঠিক পরিকল্পনা নিশ্চিত করার জন্য আয়োজকরা মাঠ, হোটেল এবং নিরাপত্তার বিষয়গুলো গুরুত্বসহকারে দেখছেন।
বিপিএলের আয়োজকরা আশা করছেন, ঢাকা থেকে শুরু হওয়া এই আসর দর্শকপ্রিয় হবে এবং দেশের ক্রিকেট প্রেমীদের মধ্যে উত্তেজনা সৃষ্টি করবে। খেলোয়াড়দেরও সুবিধাজনকভাবে প্রস্তুতি নেওয়ার জন্য ঢাকার প্রথম পর্ব আয়োজন কার্যকর ভূমিকা রাখবে। পরবর্তী সিলেট ও চট্টগ্রাম পর্বের ম্যাচগুলো স্থানীয় দর্শক ও পর্যটকদের জন্য আকর্ষণীয় হবে।
এবারের আসরের টিম স্কোয়াড ও নিলামের ফলাফল অনুসারে প্রত্যেক দল সমানভাবে শক্তিশালী। ফলে টুর্নামেন্টটি কেবল মাঠের ক্রিকেটের জন্য নয়, দর্শক ও ভক্তদের জন্যও উত্তেজনাপূর্ণ হয়ে উঠবে।
সিলেট নয়, ঢাকা থেকে শুরু হওয়া বিপিএলের এই আসর নতুন বছরকে ঘিরে ক্রিকেটপ্রেমীদের জন্য বিশেষ আকর্ষণ হয়ে উঠবে। আবাসন ও হোটেল ব্যবস্থার সমস্যা থাকলেও আয়োজকরা টুর্নামেন্টের সুষ্ঠু আয়োজন নিশ্চিত করতে পরিকল্পনা করেছেন। টুর্নামেন্ট চলাকালীন ঢাকার প্রথম পর্ব, পরবর্তী সিলেট ও চট্টগ্রাম পর্ব, এবং ফাইনাল ঢাকায় আয়োজন করা হলে দর্শক, খেলোয়াড় ও আয়োজকদের জন্য সুবিধাজনক পরিবেশ তৈরি হবে।
বিসিবি ও বিপিএলের আয়োজকরা আশা করছেন, এবারও বিপিএল ২০২৫-২৬ দর্শকপ্রিয় ও সার্থক হবে এবং দেশের ক্রিকেটের মানোন্নয়নেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।