মাঠের লড়াইয়ে ফেরার দিনে বিপিএল দেখল এক অবিশ্বাস্য স্পেল। পেসার শরীফুল ইসলামের ৯ রানে ৫ উইকেটের নতুন রেকর্ডের পর অধিনায়ক মেহেদী হাসানের লড়াকু ইনিংসে ভর করে নোয়াখালী এক্সপ্রেসকে গুঁড়িয়ে দিয়েছে চট্টগ্রাম রয়্যালস।
শুক্রবার মিরপুর শেরে বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে প্রথমে ব্যাট করে নোয়াখালী সংগ্রহ করেছিল ১২৬ রান। জবাবে ১৮ বল হাতে রেখেই ৫ উইকেটের জয় তুলে নেয় চট্টগ্রাম।
এ জয়ের ফলে ৮ ম্যাচে ১২ পয়েন্ট নিয়ে টেবিলের শীর্ষে উঠে এল চট্টগ্রাম, আর ৯ ম্যাচে মাত্র ৪ পয়েন্ট নিয়ে আসর থেকে ছিটকে গেল নোয়াখালী।
টসে হেরে প্রথমে ব্যাটিংয়ে নামা নোয়াখালী এক্সপ্রেসের শুরুটা মন্দ ছিল না। সৌম্য সরকার ও হাসান ইসাখিলের ব্যাটে চড়ে প্রথম ৩ ওভারেই ৩৪ রান তুলে ফেলেছিল তারা। কিন্তু এরপরই দৃশ্যপটে আসেন চট্টগ্রামের বোলাররা। বিশেষ করে শরীফুল ইসলাম আজ যেন আগুন ঝরাচ্ছিলেন মিরপুরের পিচে। ইনিংসের শেষ দিকে শরীফুলের করা ৩.৫ ওভারের স্পেলটি বিপিএল ইতিহাসের পাতায় জায়গা করে নিয়েছে। মাত্র ৯ রান খরচ করে তিনি তুলে নেন ৫টি উইকেট।
বাংলাদেশি পেসারদের মধ্যে এটি বিপিএলের সেরা বোলিং ফিগার। এর আগে এ রেকর্ডটি ছিল আবু হায়দার রনির ১২ রানে ৫ উইকেট। বিপিএলের সব আসর মিলিয়ে সেরা বোলিং ফিগার তাসকিন আহমেদের ১৯ রানে ৭ উইকেট হলেও, শরীফুলের আজকের ইকোনমি রেট ছিল চোখ ধাঁধানো।
শরীফুলের তোপে নোয়াখালীর কোনো ব্যাটসম্যানই ত্রিশের ঘর ছুঁতে পারেননি। ওপেনার হাসান ইসাখিল করেন সর্বোচ্চ ২৫ রান। এ ছাড়া জাকের আলী ২৩ ও সৌম্য সরকার ১৪ রান করেন। অধিনায়ক মেহেদী হাসানও বল হাতে উজ্জ্বল ছিলেন, তিনি ১২ রানে শিকার করেন ৩টি উইকেট। শেষ পর্যন্ত ১৮.৫ ওভারে ১২৬ রানেই অলআউট হয়ে যায় নোয়াখালী এক্সপ্রেস।
১২৭ রানের সহজ লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে চট্টগ্রাম রয়্যালস শুরুতেই চরম বিপর্যয়ে পড়ে। নোয়াখালীর বোলাররা অল্প পুঁজি নিয়েও দারুণ লড়াই শুরু করেন। দলীয় মাত্র ২৯ রানেই চট্টগ্রাম হারিয়ে ফেলে তাদের ৪ টপ অর্ডার ব্যাটসম্যানকে।
মাহমুদুল হাসান জয়কে স্লিপে ক্যাচ বানিয়ে শুরুটা করেন হাসান মাহমুদ। মোহাম্মদ হারিস ৭ ও মাহফিজুল ইসলাম ০ ফিরে যান পাকিস্তানি বোলার ইহসানউল্লাহর শিকার হয়ে। ২১ বছর বয়সী মাহফিজুল ৮ বল খেলে কোনো রান না করেই সাজঘরে ফেরেন। মারকুটে ব্যাটসম্যান মোহাম্মদ নাঈম একটি ছক্কা মেরে পাল্টা আক্রমণের আভাস দিলেও পরের বলেই ১৮ রান করে আউট হন। ২৯ রানে ৪ উইকেট হারানোর পর ম্যাচটি নোয়াখালীর দিকে হেলে পড়েছিল।
কিন্তু ক্রিজে এসে হাল ধরেন অধিনায়ক মেহেদী হাসান। পঞ্চম উইকেটে তিনি হাসান নেওয়াজকে নিয়ে গড়েন ৪০ রানের গুরুত্বপূর্ণ জুটি। হাসান নেওয়াজ ১০ রান করে জহির খানের বলে স্টাম্পড হয়ে ফিরলে মাঠে নামেন পাকিস্তানি হার্ডহিটার আসিফ আলী।
মেহেদী ও আসিফ আলী ষষ্ঠ উইকেটে ৪৫ বলে ৫৯ রানের অবিচ্ছিন্ন জুটি গড়ে দলকে জয়ের বন্দরে নিয়ে যান। মেহেদী ছিলেন আজ অনন্য সাধারণ। ঠাণ্ডা মাথায় ব্যাটিং করে ৩৬ বলে ৪৯ রান করেন তিনি। ম্যাচের শেষ মুহূর্তে ইহসানউল্লাহর করা ১৭তম ওভারের শেষ বলে দুর্দান্ত এক ছক্কা মেরে জয় নিশ্চিত করেন মেহেদী।
অন্য প্রান্তে আসিফ আলী অপরাজিত থাকেন ৩০ বলে ৩৬ রান করে। আজকের ৫ উইকেটের কল্যাণে এবারের বিপিএলে শরীফুল ইসলামের মোট উইকেট সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১৮টি, যা এখন পর্যন্ত টুর্নামেন্টের সর্বোচ্চ। বিপিএলের ইতিহাসে এটি অন্যতম সেরা ব্যক্তিগত পারফরম্যান্স হিসেবে গণ্য হচ্ছে। অসাধারণ এ বোলিংয়ের জন্য ম্যাচসেরার পুরস্কারও জিতেছেন শরীফুল।
এ জয়ের ফলে নেট রানরেটে এগিয়ে থেকে রাজশাহী ওয়ারিয়রসকে টপকে পয়েন্ট টেবিলের শীর্ষে উঠে এসেছে চট্টগ্রাম রয়্যালস। অন্যদিকে, বিপিএলে প্রথমবারের মতো অংশ নেওয়া নোয়াখালী এক্সপ্রেসের জন্য আসরটি ছিল হতাশার।
৯ ম্যাচের মধ্যে মাত্র ২টিতে জয় পাওয়া দলটি আজ আনুষ্ঠানিকভাবে টুর্নামেন্ট থেকে বিদায় নিল। যদিও তাদের হাতে আরও একটি ম্যাচ বাকি রয়েছে, তবে সেটি হবে কেবলই আনুষ্ঠানিকতা।
ইএইচ