কোচ কার্লো আনচেলত্তির দেওয়া কঠোর কিছু নিয়ম ও শর্ত মেনে নিয়েই ২০২৬ সালের বিশ্বকাপ স্কোয়াডে নিজের জায়গা পাকা করেছেন ব্রাজিলের তারকা ফরোয়ার্ড নেইমার জুনিয়র।
ভিডিও কলে আনচেলত্তি নেইমারকে জানিয়ে দিয়েছেন, বিশ্বকাপের মূল একাদশে তার জায়গা নিশ্চিত নয়। এমনকি তার হাতে থাকছে না অধিনায়কের আর্মব্যান্ডও। কোচের মাথায় ইতিমধ্যেই একটি সেরা একাদশ ঘুরছে, যেখানে আপাতত জায়গা নেই ৩৪ বছর বয়সী এই সান্তোস তারকার।
ব্রাজিলিয়ান গণমাধ্যম ‘গ্লোবো’র একটি প্রতিবেদন অনুসারে, সম্প্রতি এক ভিডিও কলে নেইমারের সঙ্গে দীর্ঘ আলাপ করেন কোচ আনচেলত্তি এবং সেলেসাওদের টেকনিক্যাল ডিরেক্টর রদ্রিগো কায়েতানো। সেই বৈঠকেই ৩৪ বছর বয়সী এই সান্তোস তারকাকে সাফ জানিয়ে দেওয়া হয়, দলে আগের মতো একক আধিপত্য বা 'অস্পর্শনীয়' তকমা আর থাকছে না। মাঠের চেয়ে ড্রেসিংরুমে তরুণদের পথপ্রদর্শক হিসেবেই তাকে বেশি ভূমিকা রাখতে হবে।
মাঠের খেলায় শতভাগ মনোযোগ দিতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অতিরিক্ত সক্রিয়তা কমানো এবং মাঠের বাইরের জমকালো জীবনযাত্রায় লাগাম টানার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
ব্যক্তিগতভাবে কড়া বার্তা দিলেও সংবাদমাধ্যমের সামনে নেইমারকে প্রশংসায় ভাসিয়েছেন ইতালিয়ান এই মাস্টারমাইন্ড। আনচেলত্তি কমা ব্যবহার করে বলেন, নেইমারের ফিটনেস আগের চেয়ে অনেক উন্নত এবং বড় টুর্নামেন্টের অভিজ্ঞতা স্কোয়াডের তরুণদের অনুপ্রাণিত করবে। নেইমারকে দলে রাখার যৌক্তিকতা নিয়ে তিনি বলেন, তাকে কেবল বিকল্প ভাবা হচ্ছে না, বরং ১ মিনিট, ৫ মিনিট বা পেনাল্টি নেওয়ার মতো যেকোনো ভূমিকায় দলের জয়ে অবদান রাখার সামর্থ্য তার আছে।
কোচের এমন কঠিন শর্ত বা সিদ্ধান্তের বিপরীতে কোনো ধরনের অহংকার দেখাননি নেইমার। বরং হাসিমুখে কোচের পরিকল্পনাকে স্বাগত জানিয়ে দলের স্বার্থে যেকোনো ভূমিকায় খেলতে নিজের প্রস্তুতির কথা জানান। নেইমারের এই ইতিবাচক মনোভাবের পরেই মূলত আনচেলত্তি তাকে স্কোয়াডে রাখার সবুজ সংকেত দেন। উল্লেখ্য, ২০২৫ সালে ব্রাজিলের কোচের দায়িত্ব নেওয়ার পর এই প্রথম নেইমারকে দলে ডাকলেন আনচেলত্তি।
বিশ্বকাপের চূড়ান্ত ২৬ জনের দলে নাম থাকার খবর পেয়ে নেইমার কোচিং স্টাফদের ধন্যবাদ জানিয়ে একটি বিশেষ বার্তা পাঠান, যেখানে ছিল সবুজ ও হলুদ রঙের লাভ ইমোজি। মাঠের সেই চিরচেনা নায়ক থেকে ড্রেসিংরুমের অভিভাবক হয়ে ওঠার এই মানসিকতাই যেন এক পরিণত নেইমারের নতুন পরিচয়।
সূত্র: ব্রাজিলিয়ান গণমাধ্যম ‘গ্লোবো’
এএন