ফুটবল জাদুকর লিওনেল মেসির পায়ের জাদু নিয়ে আলোচনার শেষ নেই। বাঁ পায়ের শৈল্পিক ছোঁয়ায় তিনি জয় করেছেন ফুটবলের সম্ভাব্য সব অর্জন। তবে এবার বিশ্বমঞ্চে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে মেসির পায়ের জুতা নিয়ে।
এবারের বিশ্বকাপ আসরে আর্জেন্টিনা ফুটবল দলের প্রায় সব খেলোয়াড়কেই মাঠে নামতে দেখা গেছে উজ্জ্বল গোলাপি রঙের বুট পায়ে। ব্যতিক্রম শুধু দলের অধিনায়ক মেসি। দলের সবার থেকে আলাদা হয়ে তিনি মাঠে নেমেছেন সাদা রঙের বুট পরে। আর্জেন্টিনা ভক্তদের মনে স্বাভাবিকভাবেই কৌতূহল জেগেছে রঙের এই পার্থক্য নিয়ে।
তবে কোনো নিয়ম বা কুসংস্কারের কারণে নয়, বরং এর পেছনে রয়েছে ক্রীড়া সামগ্রী উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানের বিপণন ও স্পন্সরশিপের এক বড় চমক। আর্জেন্টিনা ফুটবল দলের জার্সি ও অফিশিয়াল কিটের প্রধান স্পন্সর বিশ্বখ্যাত ব্র্যান্ড অ্যাডিডাস। শুধু দলগতভাবেই নয়; মেসি, ডি পল, আলভারেজ ও এনজো ফার্নান্দেসের মতো দলের অধিকাংশ খেলোয়াড়ই ব্যক্তিগতভাবে যুক্ত আছেন অ্যাডিডাসের সঙ্গে।
সাধারণত নতুন মৌসুমে বা বড় কোনো টুর্নামেন্টের আগে অ্যাডিডাস খেলোয়াড়দের জন্য বিশেষ কালার কম্বিনেশনের বুট বাজারে আনে। এবারের বিশ্বকাপ আসরে সাধারণ খেলোয়াড়দের জন্য তারা উজ্জ্বল গোলাপি রঙের বুট তৈরি করেছে। দলের অধিকাংশ খেলোয়াড় একই রঙের জুতা পায়ে মাঠে নামলে সবুজ ঘাসের ওপর সেই উজ্জ্বল রঙ সহজেই দর্শকদের নজর কাড়ে, যা ব্র্যান্ডগুলোর একটি বড় মার্কেটিং কৌশল।
দলের সবাই গোলাপি বুটে খেললেও মেসির পায়ে কেন সাদা জুতা, তার ব্যাখ্যাও মিলেছে অ্যাডিডাসের কাছ থেকে। লিওনেল মেসি অ্যাডিডাসের ইতিহাসের সবচেয়ে বড় আইকন ও গ্লোবাল অ্যাম্বাসেডর। এই বিশেষ মর্যাদার কারণে তাঁর জন্য সবসময় সম্পূর্ণ আলাদা সংস্করণের বুট তৈরি করে ব্র্যান্ডটি। এবারের বিশেষ এই সংস্করণের নাম ‘মেসি এডিশন’, যার রঙ সাদা ও হালকা নীলচে।
বিশেষ এই বুটে অ্যাডিডাসের লোগোর পাশাপাশি মেসির নিজস্ব ব্র্যান্ড লোগো ‘M’ খোদাই করা রয়েছে। শুধু তাই নয়; এই বুটে তাঁর আইকনিক জার্সি নম্বর ১০ এবং সন্তানদের নামও বিশেষ প্রযুক্তিতে লেখা থাকে। জুতার রঙ গোলাপি হোক বা সাদা, মাঠের খেলায় তার কোনো প্রভাব পড়েনি। চলমান আসরের প্রথম ম্যাচেই আলজেরিয়ার বিপক্ষে দৃষ্টিনন্দন হ্যাটট্রিক করে নিজের চিরচেনা রূপের জানান দিয়েছেন এই আর্জেন্টাইন অধিনায়ক।
জেএইচআর