‘আমি পালাইনি, সিদ্ধান্ত কোচের ছিল’, সেই পেনাল্টি নিয়ে ভিনি

স্পোর্টস ডেস্ক প্রকাশিত: জুলাই ৬, ২০২৬, ১২:১০ পিএম

বিশ্বকাপের শেষ ষোলোর ম্যাচে নরওয়ের বিপক্ষে ব্রাজিলের বিদায়ের পর সবচেয়ে বেশি আলোচনায় এসেছে একটি মুহূর্ত- পাওয়া পেনাল্টিটি কেন নেননি ভিনিসিউস জুনিয়র? দুর্দান্ত ফর্মে থাকা এই ফরোয়ার্ডের পরিবর্তে স্পট-কিক নেন ব্রুনো গিমারাইস, কিন্তু তিনি গোল করতে ব্যর্থ হন। এরপর থেকেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও ফুটবল অঙ্গনে নানা প্রশ্ন ওঠে।

এ নিয়ে মুখ খুলেছেন ভিনিসিউস। তিনি স্পষ্ট জানিয়েছেন, পেনাল্টি না নেওয়ার সিদ্ধান্ত তার ব্যক্তিগত ছিল না। ম্যাচ শুরুর আগেই কোচ কার্লো আনচেলত্তি নির্ধারণ করে দিয়েছিলেন কে পেনাল্টি নেবেন। সেই তালিকা অনুযায়ী দায়িত্ব ছিল ব্রুনো গিমারাইসের।

ভিনিসিউস বলেন, “কোচই ঠিক করেছিলেন ব্রুনো পেনাল্টি নেবে। আমি কখনোই স্বার্থপর খেলোয়াড় নই। টুর্নামেন্টের সর্বোচ্চ গোলদাতা হওয়াই আমার লক্ষ্য ছিল না। ব্রুনো আমার চেয়ে ভালো পেনাল্টি নেয়, তাই কোচ তাকেই দায়িত্ব দিয়েছেন।”

সমালোচকদের উদ্দেশে তিনি আরও বলেন, “অনেকে ভাবছেন আমি হয়তো দায়িত্ব এড়িয়ে গেছি। কিন্তু এমন কিছু কখনোই হয়নি। কোচ যখন আমাকে দায়িত্ব দেন, আমি পেনাল্টি নিই। রিয়াল মাদ্রিদের হয়েও আমি একইভাবে দায়িত্ব পালন করি। কখনো কোনো পরিস্থিতিতে দায়িত্ব নিতে অস্বীকৃতি জানাইনি।”

ম্যাচের শুরুতেই ব্রাজিল একটি পেনাল্টি পায়। গিমারাইস সেটি নিতে এগিয়ে গেলেও শটটি সহজেই ঠেকিয়ে দেন নরওয়ের গোলরক্ষক। সেই সুযোগ কাজে লাগাতে না পারার পর ম্যাচের গতিপথ বদলে যায়। শেষ পর্যন্ত ২-১ গোলে হেরে বিশ্বকাপ থেকে বিদায় নেয় পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা। ১৯৮৬ সালের পর এবারই প্রথম টাইব্রেকারের বাইরে ম্যাচ চলাকালীন পেনাল্টি থেকে গোল করতে ব্যর্থ হলো ব্রাজিল। পাশাপাশি গত ৩৬ বছরের মধ্যে এটিই তাদের সবচেয়ে দ্রুত বিশ্বকাপ বিদায়।

ম্যাচ শেষে কোচ কার্লো আনচেলত্তিও পেনাল্টি নেওয়ার সিদ্ধান্তের ব্যাখ্যা দেন। তিনি জানান, দীর্ঘদিন ধরে দলের খেলোয়াড়দের পেনাল্টি নেওয়ার সক্ষমতা বিশ্লেষণ করে একটি নির্দিষ্ট ক্রম তৈরি করা হয়েছে। সেই তালিকা অনুযায়ীই গিমারাইস দায়িত্ব পেয়েছিলেন।

আনচেলত্তির ভাষ্য, “পেনাল্টি নেওয়ার বিষয়টি নিয়ে আমরা প্রায় এক বছর ধরে কাজ করেছি। আমাদের হিসেবে সেরা ছিলেন রাফিনিয়া, কিন্তু তিনি চোটে ছিলেন। এরপর ছিল নেইমার, ইগর থিয়াগো, ব্রুনো গিমারাইস ও গ্যাব্রিয়েল মার্তিনেল্লি। মাঠে যারা ছিল, তাদের মধ্যে ব্রুনোই ছিল আমাদের প্রথম পছন্দ।”

পরিসংখ্যানও কোচের বক্তব্যের সঙ্গে মিল খুঁজে দেয়। রিয়াল মাদ্রিদের হয়ে ভিনিসিউস ১৯টি পেনাল্টির মধ্যে ১৩টি সফলভাবে কাজে লাগালেও ৬টিতে ব্যর্থ হয়েছেন। আর ব্রাজিলের জার্সিতে এর আগে পাওয়া তিনটি পেনাল্টির মধ্যে তিনি গোল করতে পেরেছেন মাত্র একটিতে। সে কারণেই কোচিং স্টাফের নির্ধারিত তালিকায় তিনি শীর্ষে ছিলেন না।

তবে পেনাল্টি মিসের দায় এককভাবে গিমারাইসের ওপর চাপাতে নারাজ আনচেলত্তি। তার ভাষায়, “ফুটবলে পেনাল্টি মিস হতেই পারে। আজ সেটাই আমাদের সঙ্গে হয়েছে।”

এএন