ফুটবল মাঠের সবুজ ঘাসে তিনি এক অদম্য আতঙ্ক। গতির ঝড় তুলে প্রতিপক্ষের রক্ষণভাগ চুরমার করে গোল করতে যাঁর জুড়ি মেলা ভার, সেই আর্লিং হলান্ডকে বিশ্ব চেনে এক ‘গোলমেশিন’ হিসেবে। তবে মাঠের সেই বিধ্বংসী রূপের আড়ালে আর্লিং হলান্ডের ব্যক্তিজীবন বেশ শান্ত এবং রহস্যে ঘেরা। বিশ্বজুড়ে কোটি ভক্তের মনে কৌতূহল, ব্যক্তিজীবনে কার সঙ্গে ঘর বেঁধেছেন এই ফুটবল মহাতারকা আর মাঠের বাইরে কে-ই বা তাঁর আসল অনুপ্রেরণা।
ম্যানচেস্টার সিটির এই নরওয়েজিয়ান স্ট্রাইকার এখন পর্যন্ত আনুষ্ঠানিকভাবে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হননি। তবে তিনি দীর্ঘদিনের একটি স্থিতিশীল সম্পর্কের মধ্যে রয়েছেন, যেখানে তাঁর জীবনসঙ্গীর নাম ইসাবেল হাউগসেং জোহানসেন। হলান্ড ও ইসাবেল দুজনেরই জন্ম নরওয়ের ব্রাইনি শহরে এবং মজার ব্যাপার হলো, তাঁদের এই সম্পর্কের শুরুটা হয়েছিল ফুটবল মাঠ থেকেই। ইসাবেল নিজেও একজন নিবেদিতপ্রাণ ফুটবলার ছিলেন এবং হলান্ডের মতোই ব্রাইনি এফকের হয়ে ফুটবল খেলেছেন। শৈশব থেকেই একে অন্যকে চেনার কারণে তাঁদের মধ্যে এক চমৎকার বোঝাপড়া তৈরি হয়েছিল, যা পরবর্তী সময়ে গভীর প্রেমে রূপ নেয়।
যদিও তাঁরা শৈশবের পরিচিত, তবে তাঁদের প্রেমের সম্পর্কের আনুষ্ঠানিক শুরু হয় ২০২১ সালের দিকে। একটি সাক্ষাৎকারে হলান্ড এক মজার তথ্য ফাঁস করে জানান, ইসাবেলই প্রথম তাঁর কাছে মেসেজ পাঠিয়ে যোগাযোগ করেছিলেন। ফুটবলের এত বড় মহাতারকা হয়েও তাঁদের ব্যক্তিগত মুহূর্তগুলো কিন্তু বেশ সাধারণ। হলান্ড জানিয়েছেন, অবসরে তাঁরা দুজনে ঘরে বসে জনপ্রিয় ভিডিও গেম ‘মাইনক্রাফট’ খেলতে দারুণ পছন্দ করেন।
২০২৪ সালের ডিসেম্বর মাসে হলান্ড ও ইসাবেলের জীবনে এক নতুন অতিথি আসে। পুত্রসন্তানের বাবা হওয়ার পর এই ফুটবল মহাতারকা জানিয়েছেন, এটি তাঁর জীবনে এক বিশাল পরিবর্তন এনেছে। স্কাই স্পোর্টসকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে হলান্ড বলেন, বাবা হওয়ার পর তিনি ফুটবল থেকে আরও ভালোভাবে বিচ্ছিন্ন হতে পারেন। এখন বাড়িতে ফিরলে তিনি আর ফুটবল নিয়ে ভাবেন না, যা তাঁকে মানসিকভাবে অনেক বেশি শান্ত ও প্রফুল্ল রাখে।
বিশ্বজুড়ে খ্যাতির তুঙ্গে থাকলেও, আর্লিং হলান্ড ও ইসাবেল জোহানসেন নিজেদের ব্যক্তিগত জীবনকে প্রচারের আড়ালে রাখতেই পছন্দ করেন। শৈশবের বন্ধুত্ব, সাবেক ফুটবলার হিসেবে দুজনেরই খেলার প্রতি ভালোবাসা এবং পারস্পরিক শ্রদ্ধা— এই তিনের মেলবন্ধনেই গড়ে উঠেছে তাঁদের চমৎকার জীবনের গল্প। বর্তমানে ইসাবেল হলান্ডের দীর্ঘদিনের সঙ্গী এবং সন্তানের মা হিসেবে তাঁর পাশে থেকে অনুপ্রেরণা জুগিয়ে যাচ্ছেন।
জেএইচআর