বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে ফ্রান্সের মুখোমুখি হওয়ার আগে আত্মবিশ্বাসী বার্তা দিয়েছেন স্পেনের তরুণ উইঙ্গার লামিন ইয়ামাল। তার দাবি, ভয় পাওয়ার কিছু থাকলে সেটি ফ্রান্সেরই থাকা উচিত। কারণ সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বড় আসরে স্পেনই ফরাসিদের হারিয়ে এগিয়ে রয়েছে।
স্থানীয় সময় আগামী মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাস অঙ্গরাজ্যের আর্লিংটনে বিশ্বকাপের দ্বিতীয় সেমিফাইনালে মুখোমুখি হবে স্পেন ও ফ্রান্স। দুই ইউরোপীয় পরাশক্তির এই লড়াইকে ঘিরে ফুটবলপ্রেমীদের আগ্রহ তুঙ্গে।
শেষ আটের ম্যাচে বেলজিয়ামকে ২-১ গোলে হারিয়ে সেমিফাইনাল নিশ্চিত করে স্পেন। ম্যাচের ৮৮তম মিনিটে জয়সূচক গোল করেন মিকেল মেরিনো। অন্যদিকে, বৃহস্পতিবার মরক্কোকে ২-০ গোলে পরাজিত করে শেষ চারে জায়গা করে নেয় ফ্রান্স।
গত তিন বছরে এটি হবে স্পেন ও ফ্রান্সের তৃতীয় মুখোমুখি লড়াই। এর আগে ২০২৪ ইউরোপিয়ান চ্যাম্পিয়নশিপের সেমিফাইনাল এবং ২০২৫ উয়েফা নেশনস লিগে ফ্রান্সকে হারিয়েছিল স্পেন। সেই রেকর্ডই এবার বাড়ানোর প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন ইয়ামাল।
ক্যালিফোর্নিয়ার ইনগেলউডে সোফাই স্টেডিয়ামে বেলজিয়ামকে হারানোর পর সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ইয়ামাল বলেন, ‘ফ্রান্স যদি কাউকে ভয় পাওয়ার মতো দল মনে করে, তাহলে সেটা আমরা। আমরা তাদের আগেও বিদায় করেছি। আমরা তাদের দুইবার হারিয়েছি। আমার বিশ্বাস, এই বিশ্বকাপের সেরা দুটি দলই স্পেন ও ফ্রান্স। এখন দেখা যাক কী হয়। তবে আমাদের কোনো ভয় নেই।’
বিশ্বকাপ ইতিহাসে এটি স্পেনের দ্বিতীয় সেমিফাইনাল। ২০১০ সালে বিশ্বকাপ জয়ের পর এবারই প্রথম শেষ চারে উঠেছে দলটি। অন্যদিকে, ২০১৮ সালের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ফ্রান্স ২০২২ কাতার বিশ্বকাপে রানার্সআপ হয়েছিল। এবার টানা তৃতীয়বারের মতো বিশ্বকাপের ফাইনালে ওঠার লক্ষ্য নিয়ে মাঠে নামবে তারা।
স্পেনের প্রধান কোচ লুইস দে লা ফুয়েন্তেও প্রতিপক্ষের শক্তিমত্তা স্বীকার করলেও নিজের দলের সামর্থ্যের ওপর আস্থা রেখেছেন। তিনি বলেন, ‘পরবর্তী ম্যাচ নিয়ে প্রত্যাশা অনেক বেশি। আমরা জানি ফ্রান্স কতটা শক্তিশালী দল। তবে এটাও জানি, তাদের হারানোর সক্ষমতা আমাদের রয়েছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমাদের দলে মানসম্পন্ন খেলোয়াড় আছে। এটি আরেকটি সেমিফাইনাল এবং অতীতে এমন ম্যাচে আমরা তাদের হারিয়েছি। এবারও কঠিন লড়াই হবে। শক্তি ও গতির লড়াইয়ে নিজেদের সেরাটা খেলতে হবে।’
বিশ্বকাপ শুরুর আগে স্পেনকে অন্যতম শিরোপাপ্রত্যাশী হিসেবে ধরা হলেও দলটি এখনো পুরোপুরি নিজেদের সেরা ছন্দে খেলতে পারেনি। তাদের বিশ্বকাপ অভিযান শুরু হয়েছিল কেপ ভার্দের বিপক্ষে গোলশূন্য ড্র দিয়ে। পরে সৌদি আরব ও উরুগুয়েকে হারিয়ে নকআউট পর্বে জায়গা নিশ্চিত করে তারা।
নকআউটে অস্ট্রিয়াকে তুলনামূলক সহজে হারালেও পর্তুগাল ও বেলজিয়ামের বিপক্ষে জয় পেতে শেষ মুহূর্তের গোলের অপেক্ষা করতে হয়েছে। দুটি ম্যাচেই জয়সূচক গোল করেন আর্সেনালের মিডফিল্ডার মিকেল মেরিনো।
হ্যামস্ট্রিংয়ের চোট কাটিয়ে বিশ্বকাপের শেষ পর্বে দলে ফিরেছেন ইয়ামাল। তার মতে, স্পেনের বিপক্ষে প্রতিপক্ষ দলগুলো অতিরিক্ত রক্ষণাত্মক কৌশল নেওয়ায় নিজেদের স্বাভাবিক আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলতে কিছুটা সমস্যা হচ্ছে।
তিনি বলেন, ‘দেখে মনে হতে পারে আমরা দারুণ খেলছি না। কিন্তু আমাদের বিপক্ষে প্রতিটি দলই রক্ষণাত্মকভাবে খেলে। কেউই আমাদের সঙ্গে সমানে সমান লড়াই করতে আসে না। তারপরও আমরা জিতছি, আর সেটাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।’
ইয়ামাল আরও বলেন, ‘সেমিফাইনালে উঠতে পেরে আমরা খুবই আনন্দিত। অনেক দিন ধরে আমরা এই টুর্নামেন্টে আছি এবং এখন লক্ষ্য একটাই- ফাইনালে জায়গা করে নেওয়া।’
বার্সেলোনার এই প্রতিভাবান উইঙ্গারের বয়স আগামী সোমবার ১৯ বছরে পূর্ণ হবে। চলতি বিশ্বকাপে এখন পর্যন্ত ছয়টি ম্যাচ খেলে একটি গোল করেছেন তিনি।
এএন