৩৯ বছর বয়সেও লিওনেল মেসির ধারাবাহিক নৈপুণ্যে বিস্মিত নন আর্জেন্টিনার প্রধান কোচ লিওনেল স্কালোনি। তার মতে, মেসি যতদিন মাঠে খেলতে আগ্রহী থাকবেন, ততদিন বিশ্বের সেরা ফুটবলারদের কাতারেই থাকবেন।
চলমান বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনার সাফল্যে বড় অবদান রাখছেন দলটির অধিনায়ক। পাঁচ ম্যাচে আট গোল করে গোল্ডেন বুটের লড়াইয়ে ফ্রান্সের কিলিয়ান এমবাপ্পের ঠিক পেছনে অবস্থান করছেন তিনি। একই সঙ্গে বিশ্বকাপের ইতিহাসে ব্যক্তিগত গোলসংখ্যা ২১ এ পৌঁছে সর্বোচ্চ গোলদাতার আসনও দখল করেছেন মেসি।
শেষ ষোলোতে মিশরের বিপক্ষে ৩-২ গোলের নাটকীয় জয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন তিনি। দুই গোলে পিছিয়ে পড়া আর্জেন্টিনা শেষ ১১ মিনিটে ঘুরে দাঁড়িয়ে ম্যাচ জিতে নেয়। ওই ম্যাচে একটি গোল করার পাশাপাশি ক্রিস্টিয়ান রোমেরোর গোলেও সহায়তা করেন মেসি।
বিশ্বকাপ শুরুর আগে পেশির চোট কাটিয়ে ফেরায় তার ফিটনেস নিয়ে নানা আলোচনা ছিল। তবে স্কালোনি জানিয়েছেন, মেসির শারীরিক সক্ষমতা নিয়ে তার কোনো দুশ্চিন্তা ছিল না।
স্কালোনি বলেন, লিও প্রতি ম্যাচেই প্রায় একই ছন্দে দৌড়ায়। ফিটনেস কোচের সঙ্গে আলাদা প্রস্তুতি নিয়েছিল, যা তাকে সাহায্য করেছে। তবে পরিসংখ্যানের দিক থেকে খুব বড় কোনো পরিবর্তন আমি দেখছি না।
মেসির নিবেদন নিয়েও প্রশংসা করেন আর্জেন্টাইন কোচ। তার ভাষায়, সে সব সময় নিজের সর্বোচ্চটা দেওয়ার চেষ্টা করে। যখন সে বুঝতে পারে প্রতিপক্ষের জন্য হুমকি তৈরি করতে পারবে, তখন সে যেন একটি মেশিনে পরিণত হয়।
টুর্নামেন্টে আরও বেশি গোল করার সুযোগ ছিল মেসির। মিশর ও অস্ট্রিয়ার বিপক্ষে দুটি পেনাল্টি মিস করলেও তার ওপর আস্থা হারাচ্ছেন না স্কালোনি।
তিনি বলেন, তাকে পেনাল্টি নিতে বারণ করার প্রশ্নই আসে না। আমাদের দলে আরও কয়েকজন ভালো পেনাল্টি নেওয়ার খেলোয়াড় আছে, তবে লিও চাইলে সে-ই নেবে। মাঠে এ ধরনের সিদ্ধান্ত নেওয়ার স্বাধীনতা তার আছে।
মেসির বয়স নিয়ে সমালোচনারও জবাব দিয়েছেন স্কালোনি। তিনি বলেন, যারা তাকে ভালোভাবে চেনে না, তারাই ভেবেছিল ৩৯ বছর বয়সে সে আর এই পর্যায়ে খেলতে পারবে না। এটা আমাকে মোটেও অবাক করে না। যতদিন সে খেলতে চাইবে, ততদিনই সে সেরাদের একজন থাকবে। আমি শুধু কোচ হিসেবে নয়, বিশ্বাস থেকেই এটা বলছি।
বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে কানসাস সিটিতে সুইজারল্যান্ডের মুখোমুখি হবে আর্জেন্টিনা। স্কালোনির মতে, বিশ্বকাপের এই পর্যায়ে কোনো প্রতিপক্ষকেই সহজভাবে নেওয়ার সুযোগ নেই। তার ভাষায়, সুইজারল্যান্ড অভিজ্ঞ এবং শারীরিকভাবে শক্তিশালী একটি দল।
এই ম্যাচে জয় পেলে সেমিফাইনালে আর্জেন্টিনার প্রতিপক্ষ হবে ইংল্যান্ড ও নরওয়ের মধ্যকার কোয়ার্টার ফাইনালের বিজয়ী দল।
এম জি