প্রতি বছর বিশ্বে দুই লাখের অধিক শিশু পানিতে ডুবে মারা যায়। শিশুমৃত্যুর একটি অন্যতম প্রধান কারণ পানিতে ডুবে মৃত্যু। বাংলাদেশেও বছরে প্রায় ১৪ হাজার শিশু পানিতে ডুবে মারা যায়। যা শিশুর সুরক্ষার ক্ষেত্রে বড় বাধা।
এর থেকে রক্ষা পেতে ৪৫ উপজেলায় তিন লাখ ৬০ হাজার শিশুকে সাঁতার প্রশিক্ষণ দেবে মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রণালয়। পানিতে ডুবে যাওয়া রোধে সরকার এই প্রথম দেশে সরকারিভাবে পোর্টেবল সুইমিং পুলে সাঁতার প্রশিক্ষণ দেয়ার ব্যবস্থা করেছে।
এর ফলে শহরের শিশুরা সহজেই পোর্টেবল সুইমিং পুলে সাঁতার শিখতে পারবে। গতকাল সোমবার বিশ্ব পানিতে ডুবা প্রতিরোধ দিবস উপলক্ষে এসব তথ্য জানান মহিলা ও শিশুবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ফজিলাতুন নেসা ইন্দিরা। দিবসটির এ বছরের প্রতিপাদ্য ‘পানিতে ডুবা প্রতিরোধে অন্ত্যত একটি উদ্যোগ গ্রহণ করি’।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রণালয় শিশুর জীবন সুরক্ষায় সাঁতার প্রশিক্ষণ কর্মসূচির মাধ্যমে পাঁচ লাখ ৬০ হাজার শিশুকে সাঁতার প্রশিক্ষণ দিয়েছে।
‘সমন্বিত শিশু যত্ন কেন্দ্রের মাধ্যমে শিশুদের প্রারম্ভিক বিকাশ ও সুরক্ষা, উন্নয়ন ও শিশুর সাঁতার প্রশিক্ষণ’ প্রকল্প থেকে ১৬টি জেলায় ৪৫টি উপজেলায় আরও তিন লাখ ৬০ হাজার শিশুকে সাঁতার প্রশিক্ষণ দেয়া হবে।
প্রশিক্ষণ প্রদান, সচেতনতা বৃদ্ধি, সম্মিলিত উদ্যোগ ও সঠিক কর্মপরিকিল্পনা বাস্তবায়নের মাধ্যমে পানিতে ডুবে শিশুমৃত্যুর হার শূন্যের কোটায় নামিয়ে আনা সম্ভব হবে।
তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশসহ পানিতে ডুবে মৃত্যুর বৈশ্বিক পরিস্থিতি বিবেচনা করে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদ গত ২৮ এপ্রিল, ২০২১ সর্বসম্মতিক্রমে পানিতে ডুবে মৃত্যু প্রতিরোধ বিষয়ক ঐতিহাসিক একটি রেজ্যুলেশন গ্রহণ করে।
পানিতে ডুবে মৃত্যু প্রতিরোধে ব্যাপক সচেতনতা সৃষ্টি এবং জাতীয় প্রতিরোধ কর্মকৌশল ও কর্মপরিকল্পনা প্রণয়নে রাষ্ট্রীয় উদ্যোগকে উৎসাহিত করার লক্ষ্যে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদ ২৫ জুলাইকে বিশ্ব পানিতে ডুবা প্রতিরোধ দিবস হিসেবে ঘোষণা করেছে।
প্রতিমন্ত্রী ফজিলাতুন নেসা ইন্দিরা গতকাল ঢাকায় বাংলাদেশ বাংলাদেশ শিশু এ্যাকাডেমির সম্মেলন কক্ষে বিশ্ব পানিতে ডুবা প্রতিরোধ দিবস উপলক্ষে ‘বাংলাদেশ শিশু এ্যাকাডেমি চত্বরে পোর্টেবল সুইমিং পুলে শিশুদের সাঁতার প্রশিক্ষণ উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন।
বাংলাদেশ শিশু এ্যাকাডেমির চেয়ারম্যান লাকী ইনামের সভাপতিত্বে উদ্বোধন অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. হাসানুজ্জামান কল্লোল।
প্রতিমন্ত্রী ইন্দিরা বলেন, জাতিসংঘ শিশু অধিকার সনদ ঘোষণার ১৫ বছর আগে জাতির পিতা ১৯৭৪ সালে শিশু আইন প্রণয়ন করেন, শিশুদের জন্য অবৈতনিক ও বাধ্যতামূলক প্রাথমিক শিক্ষার ব্যবস্থা করেন।
বঙ্গবন্ধুকন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা শিশুর উন্নয়ন, সুরক্ষা ও অধিকার প্রতিষ্ঠায় বিভিন্ন কার্যক্রম বাস্তবায়ন করে যাচ্ছে।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে সচিব মো. হাসানুজ্জামান কল্লোল বলেন, প্রতিদিন পানিতে ডুবে মৃত্যুর সংখ্যা কোভিডে মৃত্যুর চেয়ে বেশি। পানিতে ডুবে মৃত্যু নীরব ঘাতক। পুকুর ও জলাশয়ের সংখ্যা কমে যাওয়ায় শিশুদের সাঁতার শেখার সুযোগ কমে যাচ্ছে। পোর্টেবল সুইমিং পুল শিশুদের সাঁতার শেখাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
উদ্বোধন অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন শিশু এ্যাকাডেমির মহাপরিচালক মো. শরিফুল ইসলাম। বক্তৃতা করেন সেন্টার ফর ইনজুরি প্রিভেনশন অ্যান্ড রিসার্চের উপনির্বাহী পরিচালক ড. আমিনুর রহমান।
অনুষ্ঠানে আরো উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত সচিব ড মহিউদ্দীন আহমেদ, অতিরিক্ত সচিব মো. মুহিবুজ্জামানসহ মন্ত্রণালয় ও দপ্তর সংস্থার কর্মকর্তারা। এ সময় শিশু ও অভিভাবকরা উপস্থিত ছিল।
উদ্বোধন অনুষ্ঠান শেষে শিশুরা পুলে সাঁতার প্রশিক্ষণ গ্রহণ করে। উল্লেখ্য, পোর্টেবল সুইমিং পুলটির দৈর্ঘ্য ও প্রস্থ সাধারণত ৪০ ফুট বাই ২০ ফুট এবং পুলটির নিরাপত্তার জন্য চতুর্দিকে ফেন্সিং রয়েছে।
পুলটিতে ৭২ হাজার লিটার পানি থাকবে যা নিয়মিত প্রয়োজনীয় কেমিক্যাল দিয়ে জীবাণুনাশক ও পরিষ্কার করা হবে। পুলে পানি সাপ্লাই ও ড্রেনেজ ব্যবস্থাসহ মেশিনারিজ পৃথক ওয়াশরুম রুম এবং চেঞ্জিংরুম থাকবে। শিশুদের সাঁতার প্রশিক্ষণের জন্য ছয়জন প্রশিক্ষক থাকবেন।
আমার সংবাদের সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন