চক্রাকার বাসে ভাড়া নৈরাজ্য

রায়হান উদ্দিন তন্ময় প্রকাশিত: সেপ্টেম্বর ২, ২০২২, ০১:৩৩ এএম
চক্রাকার বাসে ভাড়া নৈরাজ্য

রাজধানীতে বিআরটিএর নির্ধারিত ভাড়া কিলোপ্রতি দুই টাকা ৪৫ পয়সা। হাতিরঝিল এলাকায় কিলোপ্রতি ভাড়া পাঁচ টাকা ৩৩ পয়সা। ঝিলের চারপাশে সাড়ে সাত বা আট কিলোমিটার এলাকায় চলাচল করে চক্রাকার বাস। বাসটিতে উঠলে গুণতে হচ্ছে ২০ টাকা, সর্বোচ্চ ৪০ টাকা। সরকার নির্ধারিত ভাড়ার চেয়ে দ্বিগুণ আদায় হচ্ছে।

যেন চক্রাকার বাসে এক তুঘলকি কাণ্ড। যাত্রীদের অভিযোগ, জিম্মি করে অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করা হচ্ছে। ভাড়া আদায়ের নিয়ম এ রুটে মানা হয় না। এক শহরে চলছে দুই নীতি। হাতিরঝিলে চলা বাসগুলোর পরিচালনায় রয়েছে এইচ আর ট্রান্সপোর্ট নামের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। যার ইজারা দিয়েছে সরকারি সংস্থা রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (রাজউক)।

সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বলছে, হাতিরঝিল একটি পর্যটন এলাকা। সে হিসেবে এ রুটের ভাড়ার সাথে অন্য রুটের ভাড়ার তুলনা করা যাবে না।

সরেজমিন দেখা যায়, হাতিরঝিল জলাশয়ের পাশে চক্রাকার বাস চলে মোট সাড়ে সাত বা আট কিলোমিটার এলাকাজুড়ে। হাতিরঝিলের এই পথে যাতায়াতে কর্মজীবী মানুষের একমাত্র ভরসা হাতিরঝিল চক্রাকার বাস। পাশাপাশি রয়েছে নৌযানও। জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানোর পর গত ৯ আগস্ট এ বাসের ভাড়াও বাড়ানো হয়। চক্রাকার বাসে মোট ছয়টি টিকিট কাউন্টারে নতুন ভাড়ার তালিকা লাগানো রয়েছে।

তবে সে তালিকায় কর্তৃপক্ষের কোনো স্বাক্ষর ছিল না। অথচ কিলোমিটার হিসেবে এ রুটে কোনো ভাড়া আদায় হয় না বলে জানান কাউন্টার মাস্টাররা। ট্যুরিস্ট বাস হিসেবে ভাড়া আদায় হয় বলে জানায় রাজউক। কিন্তু এ সড়ক দিয়ে নিয়মিত যাতায়াত করেন শিক্ষার্থী থেকে শুরু করে অফিসগামী মানুষ। নানা সময়ে ভাড়া বাড়লেও যাত্রীরা একরকম নিরুপায়। অন্যান্য রুটে বিআরটিএ কর্তৃপক্ষ অভিযান পরিচালনা করলেও এ রুটে অভিযান পরিচালনা করা হয় না।

সরেজমিন আরও দেখা যায়, এফডিসি মোড় থেকে বউবাজার, হ্যাপি হোমস ও শুটিং ক্লাব পর্যন্ত ২০ টাকা ভাড়া। যা আগে ছিল ১৫ টাকা। অপরদিকে এফডিসি মোড় থেকে বাড্ডা, রামপুরা, মহানগর ও মধুবাগ এলাকা পর্যন্ত ২৫ টাকা, আগে ছিল ২০ টাকা। এফডিসি মোড় থেকে চক্রাকার হয়ে আবার এফডিসি মোড় পর্যন্ত ভাড়া ৪০ টাকা, আগে ছিল ৩৫ টাকা। আগের ভাড়া থেকে পাঁচ টাকা ভাড়া বাড়ানো হয়েছে। এভাবে রাতারাতি ভাড়া বাড়িয়ে যাত্রীদের জিম্মি করে অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করছে বলে অভিযোগ যাত্রীদের।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ২০১৫ সালের ২৩ ডিসেম্বর রাজধানীর হাতিরঝিল প্রকল্প এলাকায় চক্রাকার বাস সার্ভিস চালু হয়েছে। প্রকল্প এলাকার ১০টি জায়গায় যাত্রী ওঠানামা করতে পারে। রামপুরা, মধুবাগ, এফডিসি মোড়, বৌবাজার, শুটিং ক্লাব ও মেরুল বাড্ডা নিয়ে মোট ছয়টি টিকিট কাউন্টার রয়েছে। তখন বাসের ন্যূনতম ভাড়া নির্ধারণ করা হয়েছিল ১০ টাকা আর সর্বোচ্চ ৩০ টাকা। বর্তমানে ২০টির মতো বাস সকাল ৭টা থেকে রাত ১১টা পর্যন্ত যাত্রী পরিবহন করছে। এখন এই রুটে ভাড়া সর্বোচ্চ ৪০ টাকা, আর সর্বনিম্ন ২০ টাকা।  

যাত্রীরা জানান, কোভিডের সময় গণপরিবহনে অর্ধেক যাত্রী নেয়ার নির্দেশ দেয়া হয় ও ভাড়াও বেশি নেয়া হয়। সে সময়ও এ রুটে ভাড়া বাড়ানো হয়। করোনার প্রকোপ কমে অন্যান্য রুটে ভাড়া কমানো হলেও হাতিরঝিল চক্রাকার বাসে ভাড়া কমানো হয়নি। বিভিন্ন সময় নানা অজুহাতে এ রুটে ভাড়া বাড়ানো হয়েছে। এ বাসে উঠলেই ২০ টাকা ভাড়া দিতে হচ্ছে। আমাদের কাছে এক প্রকার জিম্মি করেই অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করছে। সরকারি কোনো নিয়ম নীতি মানছে না।

রফিকুল ইসলাম নামের এক কর্মজীবী এ প্রতিবেদককে বলেন, চক্রাকার বাসে উঠলেই ২০ টাকা দিতে হয়। এ কেমন হিসাব। অথচ এ রুটের পরিমাণ মাত্র সাত বা আট কিলোমিটার। নিয়মিত আমাদের অফিসে যেতে হয়। বর্তমান বাজারের সাথে ভাড়া বাড়লেও আমাদের আয় তো বাড়েনি। এক শহরে দুই নীতি। এটা কেমন হয়ে গেল না বলেন। ইশরা ও সাউদা নামের দুই বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী বলেন, শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে কোনো হাফ ভাড়া নেয়া হয় না। কি আর করব বিশ্ববিদ্যালয়ে আসতে হলে হাতিরঝিল চক্রাকার বাস দিয়ে আসতে হয়। বাধ্য হয়েই অতিরিক্ত ভাড়া দিতে হচ্ছে।

রাজউকের প্রধান প্রকৌশলী (প্রজেক্ট অ্যান্ড ডিজাইন) এ এস এম রায়হানুল ফেরদৌস আমার সংবাদকে বলেন, হাতিরঝিল পর্যটন এলাকা। সে হিসেবে ভাড়া আদায় করা হয়। এ রুটের ভাড়ার সঙ্গে অন্য রুটের ভাড়ার তুলনা করা যাবে না।