মাগুরা আদালতে হাজিরা আজ

হোমল্যান্ড লাইফের সাত পরিচালক জেলে

মো. মাসুম বিল্লাহ প্রকাশিত: সেপ্টেম্বর ২৯, ২০২২, ০২:২১ এএম
হোমল্যান্ড লাইফের সাত পরিচালক জেলে

প্রায় ১৪ লাখ টাকার বিমা দাবি না দেয়ায় হোমল্যান্ড লাইফের সাত পরিচালকের বিরুদ্ধে চারটি মামলা করেন মাগুরা জেলার চারজন গ্রাহক। ওই মামলায় কোম্পানিটির লন্ডন প্রবাসী সাতজন পরিচালককে গত ২১ সেপ্টেম্বর কোম্পানির প্রধান কার্যালয় থেকে গ্রেপ্তার করে মতিঝিল থানা। ওইদিন গ্রেপ্তারকৃত আসামিদের কেরানীগঞ্জে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে পাঠানো হয়। গত সোমবার তাদের জামিন আবেদন করা হলেও তা নাকচ করেছেন আদালত।

আজ বৃহম্পতিবার মাগুরার আদালতে আসামিদের হাজির করার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। গ্রাহকদের বিমা দাবি পরিশোধ না করার মামলায় এবারই কোনো বিমা কোম্পানির পরিচালক জেলহাজতে আছেন। ফলে এ ঘটনা বিমা খাতে এখন ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে। মামলার বিষয় নিয়ে তিন বাদীর সঙ্গে আলাপ করে এ তথ্য পাওয়া গেছে।

মামলার এজাহারে বাদীরা নিজেদের কোম্পানির গ্রাহক হিসেবে দাবি করেন। মামলার বাদী আজর আলী নিজে হোমল্যান্ড লাইফের একজন পলিসি হোল্ডার। সেই সঙ্গে তিনি কোম্পানির একজন এজেন্টও। তার মামলা নং-২২৭/২২। গত ২ আগস্ট তিনি এই মামলা দায়ের করেন। এ মামলায় ১৯ জন সাক্ষীর সবাই বিমা গ্রাহক। আজর আলী বলেন, অনেক দিন আগে তাদের পলিসির মেয়াদ শেষ হয়েছে। কিন্তু কোম্পানি টাকা দিচ্ছে না। কোম্পানির কর্মকর্তাদের সঙ্গে বারবার যোগাযোগ করেছি, কিন্তু তাতে কাজ হয়নি।

তাই বাধ্য হয়েই মামলা করেছি। মামলার বিষয়ে আজর আলী বলেন, আমরা কোম্পানির সবাইকে চিনি না এবং তাদের নামও জানি না। এমনকি কোম্পানির এমডি, চেয়ারম্যান কে তাও জানি না। শুনেছি কোম্পানিতে এখন নতুন এমডি এসেছেন। তবে তার নাম জানি না।

যে কয়জনের নাম জানতে পেরেছি তাদের নামে মামলা করা হয়েছে। অপর একটি মামলার বাদী নায়েব আলী। তার মামলা নং-২২৮/২২। নায়েব আলীর পাওনা ১০ হাজার ৫০৬ টাকা। পলিসি নং-এ-৪৫০০০০২৬০৯-৬। এই মামলায় সাক্ষী ১৫ জন। তারা সবাই বিমা গ্রাহক। তাদের মোট পাওনা দুই লাখ ৪৯ হাজার ২৬৬ টাকা। নায়েব আলীর বাড়ি মাগুরা জেলার সদর থানার সত্যপুরে।

নায়েব আলী বলেন, মানুষের (বিমা গ্রাহক) অত্যাচারে টিকতে পারছি না। তাই বাধ্য হয়ে আমরা মামলা করেছি। আমাদের চার মামলার গ্রাহকদের পাওনা প্রায় পনের লাখ টাকা। ২০১৫ সালের পর থেকেই অনেক গ্রাহকের বিমার মেয়াদ শেষ হয়েছে। প্রথমদিকে আমাদের গ্রাহকরা টাকা পেয়েছেন। কিন্তু গত কয়েক বছর ধরে তারা গ্রাহকদের টাকা দিচ্ছে না। নায়েব আলী বলেন, আমার বয়স হয়েছে। এই সময়ে এসে মানুষের কথা শুনতে খারাপ লাগে। গ্রাহকরা মনে করে তাদের টাকা মেরে খেয়েছি। তাই বাধ্য হয়েই মামলা করা হয়েছে।

আমাদের টাকা পরিশোধ করলে মামলার প্রয়োজন হতো না। আরেক মামলার বাদী সৈয়দ মোফাক্কার আলী রিন্টু। প্রায় চার লাখ টাকা বিমা দাবি আদায়ের জন্য মামলা করেন। মামলা নং-২২৯/২২। এই মামলায় সাক্ষী ৩৯ জন গ্রাহক। এর মধ্যে ২৩ জন গ্রাহকের পাওনা টাকা কত তার কোনো হিসাব দেয়া হয়নি মামলার এজাহারে।

মোফাক্কার আলী রিন্টু বলেন, হোমল্যান্ড লাইফে কাজ করতে গিয়ে আমি কয়েকশ গ্রাহক তৈরি করেছি। তাদের অনেকের টাকা পেয়েছে। আগে গ্রাহকরা ঠিকমতো টাকা পেলেও এখন আর তারা টাকা পাচ্ছে না। গ্রাহকদের টাকা ফেরত দিতে না পেরে আমি হোমল্যান্ড ছেড়েছি। নিজে তো বিমায় কাজ করবই না, এমনকি অন্য কাউকেও আমি বিমা কাজ করতে বারণ করি।

তিনি বলেন, হোমল্যান্ড লাইফ আমার গ্রাহকদের বিমার টাকা ফেরত দিলে আমি বেঁচে যাই। গ্রাহকদের পাওনা টাকার জন্য বাধ্য হয়ে কোম্পানির বিরুদ্ধে মামলা করেছি। এদিকে পাঁচ লাখ ৬৭ হাজার ৮৫৮ টাকার বিমা দাবি পরিশোধ না করায় মো. হাবিবুর রহমান বাদী হয়ে মামলা দায়ের করেন। মামলা নং-২৩০/২২। এই মামলাতেও ৪৫ জন সাক্ষী। এজাহারে বলা হয়েছে বাদী ও সাক্ষী সবাই বিমা গ্রাহক।

উল্লেখ্য, এর আগে ২০১০ সালে হোমল্যান্ড লাইফের সাবেক চেয়ারম্যান সিলেটের কাজী এনাম উদ্দিন আহম্মদের ছেলে আরাফাত কাজী আহম্মদ চেক প্রতারণার এক মামলায় ছয় মাসের জেল খাটেন। পরে জামিন নিয়ে লন্ডনে পালিয়ে যান। বর্তমানেও আরাফাত কাজী আহম্মদ লন্ডনে পলাতক। হোমল্যান্ড লাইফের কাছ থেকে জমি বিক্রির বায়না বাবদ টাকা নিয়ে পরে জমি রেজিস্ট্রি ও বায়নার টাকা ফেরত না দেয়ার মামলায় আরাফাত কাজী আহম্মদকে এক বছর বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেন ঢাকার যুগ্ম মহানগর দায়রা জজ ৫ম আদালত। ২০১০ সালের ১০ মার্চ যুগ্ম মহানগর দায়রা জজ ৫ম আদালতের বিচারক মোহাম্মদ ওয়ালিউল ইসলাম এই আদেশ দেন।