হিসাব মহানিয়ন্ত্রক কার্যালয়ের (সিজিএ) মাঠ কার্যালয়গুলোর অধিকাংশ পদই শূন্য। জেলা, উপজেলা পর্যায়ের সব সরকারি দপ্তরের আর্থিক ব্যবস্থাপনা সেবা নিশ্চিতে কাজ করা জেলা, উপজেলা হিসাবরক্ষণ কার্যালয়গুলোর মঞ্জুরিকৃত পদের বিপরীতে অধিকাংশ পদেই নেই জনবল। আউটসোর্সিং কিংবা বহিরাগত দিয়ে সেবা দেয়ায় কমছে না দুর্নীতি-ভোগান্তি। জরুরি ভিত্তিতে শূন্যপদ পূরণের দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগীরা।
হিসাব মহানিয়ন্ত্রকের কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, কার্যালয়টির অধীনস্থ প্রধান কার্যালয়সহ বিভাগ, জেলা, উপজেলা পর্যায়ে অনুমোদিত পদ সংখ্যা রয়েছে সাত হাজার ৯৭৩টি। এর বিপরীতে কর্মরত রয়েছে তিন হাজার ৭১৫ জন। প্রথম শ্রেণির ২২৫টি, দ্বিতীয় শ্রেণির ৩০২টি, তৃতীয় শ্রেণির ৩২৮৭টি ও চতুর্থ শ্রেণির ৫৬২টিসহ মোট চার হাজার ২৫৮টি পদই শূন্য। উপজেলা হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তার ৪৩৪টি মঞ্জুরি পদে শূন্য রয়েছে ৫৯টি পদ।
এরমধ্যে বেশি শূন্য পদ রয়েছে ঢাকা বিভাগে ১৫টি, চট্টগ্রাম বিভাগে ১৫টি। রংপুর বিভাগে পদ শূন্য না থাকলেও বরিশাল বিভাগে ৩৬টি পদের বিপরীতে ২৩ জন কর্মরত রয়েছে। অফিস সহায়ক পদের ৮৭৮টি পদের বিপরীতে কর্মরত রয়েছে ৪৩২ জন। গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি পদের বিপরীতে জনবল নেই বললেই চলে।
৫৬৬টি কম্পিউটার মুদ্রাক্ষরিক পদের বিপরীতে কর্মরত আছেন মাত্র তিনজন। তিন হাজার ৬০৩টি মঞ্জুরিকৃত অডিটর পদের বিপরীতে কর্মরত রয়েছে অর্ধেকেরও কম, অর্থাৎ এক হাজার ৭২৪ জন। জুনিয়র অডিটর পদে মঞ্জুরিকৃত এক হাজার ৪৩ জনের বিপরীতে কর্মরত রয়েছে মাত্র ২৬৩ জন। বাছাইকারী পদের ৭৫টি মঞ্জুরি পদ থাকলেও সারা দেশে কর্মরত মাত্র একজন।
উপজেলা হিসাব রক্ষণ কার্যালয় সূত্র জানায়, উপজেলা পর্যায়ে একজন হিসাব রক্ষণ কর্মকর্তা, দুজন অডিটর, একজন জুনিয়র অডিটর, একজন কম্পিউটার অপারেটর, উপজেলা সুপার (ইউএও) একজন ও অফিস সহায়কের একটি পদ রয়েছে।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে বেশ কিছু উপজেলা হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তার সাথে কথা বলে জানা গেছে, উপজেলা পর্যায়ে কম্পিউটার অপারেটর, অডিটর, জুনিয়র অডিটরের মতো গুরুত্বপূর্ণ বেশির ভাগ পদেই জনবল নেই। সাতজনের বিপরীতে দুয়েকজন কর্মরত থাকায় আউটসোর্সিং কিংবা দিনভিত্তিক মজুরিতে বহিরাগত দিয়ে কাজ করাতে হচ্ছে। উপজেলা হিসাবরক্ষণ অফিসের অধীনে প্রতি মাসে নিয়মিত বেতন বিল বাদে সহস্রাধিক সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী, শিক্ষকদের বিভিন্ন সেবা দিতে হয়। উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের বিলগুলো ছাড় করতে হয়।
পেনশনারদের মাসিক পেনশন, লাইভ ভেরিভিকেশন কাজে বেশ সময় লাগে। প্রায়ই সেবা দিতে অসহায় অবস্থায় পড়তে হয়। বাধ্য হয়েই আউটসোর্সিং অথবা মজুরিভিত্তিক লোক দিয়ে কাজ করাতে হয়। মজুরিভিত্তিক লোক দিয়ে কিছুদিন কাজ করার পর তাদের মধ্যে অনেকেই অনৈতিক লেনদেনে জড়িয়ে পড়ে। কেউ কেউ অনলাইন সফটওয়্যার অভিজ্ঞ হয়ে অসাধু চক্রের সাথে হাত মেলানোর চেষ্টা করে।
রাজবাড়ী জেলার গোয়ালন্দ উপজেলার হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তা আব্দুল কাদের আমার সংবাদকে বলেন, ‘জনবল কম থাকায় আমি কালুখালী উপজেলায় অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন করছি, এতে করে জনগণ ভোগান্তিতে পড়ছে।’ তিনি আরও বলেন, ‘অ্যাকান্টস অফিসার পদে পদোন্নতি দিলে শূন্যপদগুলো পূরণ হয়ে যায়। এতে করে মাঠপর্যায়ে জনগণ সেবা দ্রুত পাবে।’
এ বিষয়ে কথা বলতে হিসাব মহানিয়ন্ত্রক মো. নূরুল ইসলামের মোবাইলে কল দিলে তা বন্ধ পাওয়া যায়। পরবর্তীতে প্রশাসনের দায়িত্বে থাকা উপহিসাব মহানিয়ন্ত্রক মানিক হোসেনকে মোবাইলে কল, মেসেজ দিয়েও কোনো উত্তর পাওয়া যায়নি।
আমার সংবাদের সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন