- একাদশে ড. কামালের ঐক্যফ্রন্ট, দ্বাদশে ভুঁইফোঁড় দল নিয়ে যুগপৎ কর্মসূচিতে সময় নষ্টের অভিযোগ
- ৫৪ দলসহ এত জোট দিয়ে কি হবে? এই জোটের ফলাফল কোথায়— এমন প্রশ্ন বিএনপির তৃণমূলে
- সিটি নির্বাচন সময়ে আন্দোলন ও প্রতিরোধে আগামী রাজনীতির গতিপথ নির্ধারণে তৃণমূলের দাবি
১০ ও ২৭ দফার মাঝামাঝি আরও একটি নতুন দফার ফরম্যাট তৈরি হচ্ছে বিএনপিতে, মে মাসে ঘোষণা
শিগগিরই এক বিভাগ থেকে আরেক বিভাগে রোডমার্চ বা সমাবেশের ঘোষণা সমঝোতা না হলে এক দফা
জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে সময় ক্ষেপণের পুরোনো ধরনে রয়েছে বিএনপি। একাদশ সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে ড .কামাল হোসেনের ঐক্যফ্রন্ট নিয়ে যেভাবে গুরুত্বপূর্ণ সময়গুলো নষ্ট করেছে একইভাবে দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে গণতন্ত্র মঞ্চ, ১২ দলীয় জোট, জাতীয়তাবাদী সমমনা জোট, এলডিপি, গণফোরাম (একাংশ), বাম গণতান্ত্রিক ঐক্যসহ ৫৪ দলকে নিয়ে নিয়মিত ঘরোয়া বৈঠকের মাধ্যমে সময় নষ্টের অভিযোগ উঠেছে দলের ভেতর থেকে। তবে দলের হাইকমান্ডের ভাষ্য, নির্বাচনপূর্ব সরকার যেকোনো সময় হার্ডলাইনে চলে যেতে পারে, বিএনপি নেতাদের আটক করে মাঠ শূন্য করে ফেলতে পারে, সেই আশঙ্কা থেকে একটি জোট টিকিয়ে রাখা হয়েছে— যাতে কঠিন সময় ধারাবাহিক কর্মসূচিগুলো চালিয়ে নেয়া যায়। তা ছাড়া আন্তর্জাতিক অঙ্গনে জোটের কর্মসূচির একটি প্রভাব রয়েছে। তবে মাঠপর্যায়ের নেতারা অনেকেই ক্ষোভ প্রকাশ করে বলছেন, ৫৪ দলসহ এত জোট দিয়ে কী হবে? এই জোটের ফলাফল কোথায়? যাদের কোনো কর্মী নেই, অফিস নেই, রাজনৈতিক অস্তিত্ব নেই, তাদের নিয়ে সময় নষ্ট করা অতীতের মতো ভুল ছাড়া আর কিছুই নয়। বিএনপি নেতাকর্মীদের মাঠের শক্তি থেকে দৃষ্টি ফিরিয়ে জোটের দিকে মনোযোগ দেয়ায় আন্দোলনে শীতলতা চলে এসেছে বলেও অনেকে মনে করছেন। বিএনপির নির্ভরযোগ্য সূত্রের ভাষ্য, সরকার পদত্যাগে ১০ দফা ও ‘রাষ্ট্রকাঠামো মেরামতে’ ২৭ দফার মাঝামাঝি অবস্থান থেকে নতুন আরেকটি দফা তৈরি হচ্ছে। যেটিকে বলা হচ্ছে যুগপৎ আন্দোলনের নতুন রূপ। আগামী মে মাসে সরকারবিরোধীদের নিয়ে এ নতুন দফা ঘোষণা করা হবে। এক ব্যানারে বিএনপির শীর্ষ নেতারা নির্বাচন পর্যন্ত এ আন্দোলন চালিয়ে যাবেন। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক হয়ে বিএনপির নির্যাতিত একাধিক নেতা জানিয়েছেন, বিএনপি যদি আবারও দলের কর্মী ও জনপ্রিয়তাকে উপেক্ষা করে ভুঁইফোঁড় দলের শক্তিতে মনোযোগী হয় তাহলে বিএনপির জন্য আবারও কালো অধ্যায় অপেক্ষা করছে। এ ছাড়া যদি আন্তর্জাতিক শক্তির ওপরও ভরসা করে থাকে তাহলেও বড় ধরনের ক্ষতি হবে। কারণ বিদেশিরা কেউ চাইবে না দেশে আন্দোলন-সংগ্রাম হোক। বিএনপি যদি আগামীতে দেশের মানুষের ভাগ্য পরিবর্তন, অধিকার নিশ্চিত করতে চায় তাহলে তৃণমূল কর্মসূচির মাধ্যমে যেভাবে চাঙ্গা হাওয়া এসেছিল তার ধারাবাহিকতা ধরে রাখতে হবে। রাজনীতির মাঠে টিকে থাকতে হবে। গতকাল বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, তারা সিটি ভোটে কোনো কৌশল নিচ্ছেন না। এ সরকারের অধীনে আর কোনো নির্বাচনেও যাবে না। যদিও সিটিতে দলের অনুসারীরা প্রার্থী হচ্ছেন। গাজীপুর সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে মেয়র পদে বিএনপির কেউ অংশ না নিলেও কাউন্সিলর প্রার্থী হতে রিটার্নিং অফিসারের কাছে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন বিএনপির ২১ জন স্থানীয় নেতা। তাদের মধ্যে আটজনই বর্তমান কাউন্সিলর। এ ছাড়া সিলেটে বিএনপির সাবেক মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী প্রার্থী হচ্ছেন বলে গুঞ্জন রয়েছে। তিনি না দাঁড়ালেও তার অনুসারী কাউকে দাঁড় করাতে পারেন বলেও শোনা যাচ্ছে। এ পরিস্থিতিতে বিএনপি ঘরোয়া বৈঠক করে সময় ক্ষেপণ না করে তাৎক্ষণিক পদক্ষেপ নিয়ে মাঠের কর্মসূচির দিকে মনোযোগী হতে দাবি তুলেছেন নেতাকর্মীরা। সিটি নির্বাচনে আন্দোলন ও প্রতিরোধে হয়ে উঠতে পারে আগামী রাজনীতির গতিপথ।
তৃণমূলের নেতাকর্মীরা বলছেন, ১৭ বছরেরও বেশি সময় ধরে আন্দোলন করছে বিএনপি কিন্তু বিরোধীদের কোনো দাবিই মেনে নেয়নি সরকার। বরং বিএনপিসহ বিরোধীদের ওপর দমন-পীড়ন চালিয়েছে আওয়ামী লীগ। এভাবে আর বেশি দিন চলতে পারে না। গেলো বছরের জুলাই থেকে বিএনপি আন্দোলন সক্রিয়। ধারাবাহিকভাবে ৯টি বিভাগীয় সমাবেশে ঢাকাসহ বিভিন্ন জেলায় দলটির ১৭ জন নেতাকর্মী প্রাণ হারান। এ পরিস্থিতিতেও দললটির নেতাকর্মীরা কেউ আন্তঙ্কিত নন। সবাই শুধু একটি ঘোষণার অপেক্ষায়। আন্দোলন ও আগামী দিনের কর্মসূচির বিষয়ে বিএনপির নীতিনির্ধারণী সূত্র বলছে, ধারাবাহিক আন্দোলনে যাচ্ছে বিএনপি। পয়লা মে রাজধানীতে শ্রমিক সমাবেশ থেকে নতুন কর্মসূচি ঘোষণা করবে দলটি। ঈদ রাজনীতিতে বিএনপি নেতাকর্মীরা এখন দারুণ উজ্জীবিত। এবার ঈদুল ফিতরে সারা দেশে নির্যাতিত, গুম, খুন হওয়া সহস্রাধিক নেতাকর্মীর পরিবারের পাশে দাঁড়িয়েছে বিএনপি। দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের ঈদ উপহার ভুক্তভোগী পরিবারে পৌঁছে দেন কেন্দ্রীয় নেতারা। মাঠপর্যায়ের অবস্থানও জরিপ করে ভালো ফলাফল পেয়েছে। তাই আন্দোলনের পরবর্তী কর্মসূচি হিসেবে কোরবানির ঈদের আগেই এক বিভাগ থেকে আরেক বিভাগে রোডমার্চ বা সমাবেশের ঘোষণা আসতে পারে। সেপ্টেম্বর থেকে ক্রমান্বয়ে বাড়বে যুগপৎ আন্দোলনের গতি। এই সময়ের মধ্যে সংকট উত্তরণে রাজনৈতিক সমঝোতা না হলে কর্মসূচি একদফা দাবিতে পরিণত হবে। এ ছাড়া আগামী পয়লা মে আন্তর্জাতিক শ্রমিক দিবসে রাজধানীতে ব্যাপক শোডাউনের মাধ্যমে ঈদুল ফিতর-পরবর্তী কর্মসূচি শুরু হবে বলে দলের ভাষ্য।
সূত্র জানায়, চলতি মাসের ৩০ তারিখ সাতদলীয় গণতন্ত্র মঞ্চের নেতারা আন্দোলনের বিষয় নিয়ে বৈঠক করবেন। এরপরই তারা মে মাসের প্রথম সপ্তাহে বিএনপির সঙ্গে বৈঠক করে আন্দোলন কর্মসূচির বিষয় চূড়ান্ত করবে। মে মাসের ১৫ তারিখ থেকে রাজপথ উত্তপ্ত করার মতো কর্মসূচি ঘোষণা করবে। গতকাল শনিবার দুপুরে গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে গণফোরাম ও বাংলাদেশ পিপলস পার্টি লিয়াজোঁ কমিটির সঙ্গে বৈঠকটি হয়। বৈঠকে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বিশেষ আমন্ত্রিত অতিথি ছিলেন। আজ রোববারও দুটো দলের সাথে বৈঠক আছে বলে জানিয়েছে বিএনপি দপ্তর।
মে দিবসের শোডাউন সফলের লক্ষ্যে গত বৃহস্পতিবার দুপুরে নয়াপল্টনের মহানগর বিএনপির কার্যালয়ে প্রস্তুতি সভায় বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস জানিয়েছেন, কোনো দেনদরবার নয়, কোনো আলোচনা নয়। এ অবৈধ ও নিশিরাতের ভোটের সরকারকে অপসারণ করতে হবে, সরকারকে পদত্যাগ করতেই হবে। জনগণ আজ অতিষ্ঠ। এ সরকারকে মানুষ আর ক্ষমতায় দেখতে চায় না। সরকার দেশের বাকস্বাধীনতা, গণতন্ত্র ও অর্থনীতিকে ধ্বংস করে দিয়েছি। এদের যত তাড়াতাড়ি বিতাড়িত করা যাবে, ততই দেশের মঙ্গল।
বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায় আমার সংবাদকে বলেন, কোন সরকার কবে যাবে, সেটি নির্ধারিত নয়; এটি নিশ্চিত যে, ফ্যাসিবাদের পতন অনিবার্য। এটি করবে দেশের জনগণ। গণঅভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে এই সরকারের বিদায় ঘটানো হবে। তিনি বলেন, আন্দোলন কখনো দীর্ঘস্থায়ী হয়, আবার কখনো কখনো স্বল্প সময়ের মধ্যে বিজয় লাভ করে। যেমন আমাদের মুক্তিযুদ্ধ, মাত্র ৯ মাসের মধ্যে দেশ স্বাধীন হয়েছে।
বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী আমার সংবাদকে বলেন, সময় আর বেশি দিন নেই বিদেশি স্যাংশন নয়, দেশের মানুষই স্যাংশন দেবে। দেশের মানুষ নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে। ভোট চুরির সঙ্গে কারা জড়িত ছিল, আগামী দিনে কারা কারা জড়িত হতে যাচ্ছে, বাংলাদেশের মানুষ নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে। তারা একজন একজন করে পর্যবেক্ষণ করছেন। এই সরকারের এখন শেষ সময় চলছে। বিএনপি দেশের জনগণকে নিয়ে আন্দোলন করবে। অতিতে কোনো স্বৈর সরকার টিকতে পারেনি এই হাসিনা সরকারও টিকতে পারবে না। যুগপৎ আন্দোলনের মাধ্যমে এই সরকার বিদায় হবে।
আমার সংবাদের সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন