শিক্ষার খড়গে যুক্ত হলো কলম

মো. নাঈমুল হক প্রকাশিত: জুন ৩, ২০২৩, ০৭:০১ এএম
শিক্ষার খড়গে যুক্ত হলো কলম

শিক্ষা যেকোনো জাতির মেরুদণ্ড। শিক্ষার উন্নয়নের মাধ্যমে জাতি শক্তিশালী হয়। অন্যদিকে করোনা মহামারির কারণে অনেক নিম্নবিত্ত পরিবারের শিক্ষার্থী ঝরে গেছে। তাদের ফেরানোর জন্য কোনো উদ্যোগই নেয়নি সরকার। করোনার পর যুদ্ধ, ডলার সংকট, বৈশ্বিক সংকট ও সিন্ডিকেটের কবলে পড়েছে দেশ। এ কারণে দাম বেড়েছে বিভিন্ন উপকরণের। নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের সাথে দাম বেড়েছে শিক্ষার সাথে সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন উপকরণের। গত ছয় মাসের দাম বৃদ্ধিতে শিক্ষা উপকরণ সর্বোচ্চ অবস্থানে রয়েছে। 

সর্বশেষ ২০২৩-২৪ অর্থবছরে উৎপাদন পর্যায়ে কলমের দামে ১৫ শতাংশ করারোপের প্রস্তাবনা দেয়া হয়েছে। দাম বৃদ্ধিতে মধ্যবিত্ত পরিবারে চরম অসন্তোষ বিরাজ করছে। তারা বলছেন, নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্য কিনতে হিমশিম খেতে হচ্ছে। শিক্ষা উপকরণের দামও বাড়াতে হবে? শিক্ষাবিদরা বলছেন, দাম বৃদ্ধির জন্য এটি উপযুক্ত সময় নয়। এ সময় শিক্ষা উপকরণের দাম বাড়ানো ঠিক হয়নি। পর্যবেক্ষণে দেখা যায়, এ বছরের শেষের দিকে কাগজের দাম ৫০ শতাংশ থেকে ৭০ শতাংশ পর্যন্ত বেড়ে যায়। এর ফলে বিভিন্ন খাতার দাম বাড়ে। ২০ টাকার খাতা হয়ে যায় ৩০-৩৫ টাকা। ৪০ টাকা খাতা কিনতে হতো ৭০ টাকায়। একইভাবে একাডেমিক বইয়ের পাশাপাশি সৃজনশীল প্রকাশনীর বইয়ের দাম বেড়ে যায়। 

এরপর শিক্ষার্থীদের স্কুল ড্রেস দাম বেড়েছে ২০০ থেকে ৩০০ টাকারও বেশি। অনেক স্কুলের ফিও বাড়ানো হয়েছে। জ্যামিতি বক্স, স্কুল ব্যাগ, টিফিন বক্স, কলমের বক্স ইত্যাদি উপকরণের দামও ৩০ থেকে ৫০ টাকা বেড়েছে। দাম বৃদ্ধির ধারাবাহিকতায় সর্বশেষ কলমের নাম যুক্ত হয়েছে। জানা যায়, প্রস্তাবিত ২০২৩-২৪ অর্থবছরের বাজেটে বলপয়েন্ট কলমের উৎপাদন পর্যায়ে ১৫ শতাংশ মূল্য সংযোজন কর (মূসক) আরোপের প্রস্তাব করেছেন অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল। এতে দাম বাড়বে বলপয়েন্ট কলমের।

নতুন করে কলমের দাম বৃদ্ধিতে মধ্যবিত্ত পরিবারগুলোতে অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। এ ব্যাপারে মতিঝিল আইডিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজের দশম শ্রেণির শিক্ষার্থীর অভিভাবক সোহেল আহমেদ বলেন, প্রতি বছরের ন্যায় এবারের বাজেটও আমাদের জন্য আসেনি। বাজেটের আগেই তো শিক্ষার সব উপকরণের দাম বাড়ানো হয়েছে। বাজেটের পর এখন আবার কলমের ওপর ১৫ শতাংশ কর আরোপ করা হচ্ছে। কলমের দামও বাড়াতে হবে? নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের দামে দেশের মানুষের কী করুণ অবস্থা। প্রতিনিয়ত কাটছাঁট করতে হচ্ছে। এর মধ্যে শিক্ষার্থীদের শিক্ষা উপকরণের খরচ বাড়ছেই। কলমের দাম বৃদ্ধিতে শিক্ষার্থীরাও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। 

এ ব্যাপারে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী আদনান হাসিব বলেন, আমাদের দেশে যেকোনো জিনিসের দাম বাড়লে সেটি আর কমে না। এমনিতেই ব্যবসায়ীরা চান যেকোনো উপকরণের দাম বাড়াতে। এর মধ্যে সরকার ১৫ শতাংশ করারোপের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এখন তো পাঁচ টাকার কলম ১০ টাকায় কিনতে হবে। আরো বেশি শিক্ষার্থীকে বৃত্তির আওতায় আনার কথা জানিয়ে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ভিসি অধ্যাপক ড. মিজানুর রহমান আমার সংবাদকে বলেন, ‘নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যর দাম এমনিতেই বেশি। শিক্ষা উপকরণের দাম বৃদ্ধির জন্য এটি উপযুক্ত সময় নয়। দাম বাড়ানো ঠিক হয়নি। কলমের দাম এক টাকা বা ৫০ পয়সা বাড়লে সচ্ছল পরিবারগুলো জন্য সমস্যা হবে না। কিন্তু নিম্নমধ্যবিত্তরা সমস্যায় পড়তে পারে। এ ক্ষেত্রে সরকার মেয়েদের মতো ছেলেদের জন্যও উপবৃত্তির ব্যবস্থা করতে পারে। যাতে শিক্ষার্থীরা নিজেদের শিক্ষা উপকরণ কেনায় সমস্যায় না পড়ে।’ এ ছাড়া সরকারকে উপবৃত্তির আওতা বাড়ানো পরামর্শ দেন এ শিক্ষাবিদ।