- দীর্ঘ দিন ধরে সার্টিফিকেট নিয়ে বিচিত্র ঘটনা ঘটাচ্ছেন বেকাররা
- চার দফা দাবি আদায়ে শাহবাগে আন্দোলন সড়ক অবরোধ
- শিক্ষাবিদরা বলছেন সার্টিফিকেট পোড়ানো ঠিক হচ্ছে না
চাকরিতে বয়সসীমাই থাকা উচিত নয়
—ড. কামরুল ইসলাম মামুন
অধ্যাপক, ঢাবি
সরকারি চাকরিতে বয়সসীমা বৃদ্ধির দাবিতে দেশের বিভিন্ন স্থানে সার্টিফিকেট নিয়ে নানা বিচিত্র ঘটনা ঘটাচ্ছেন বেকাররা। গতকাল জাতীয় জাদুঘরের সামনের অবস্থান কর্মসূচি থেকে চাকরিপ্রত্যাশীরা শাহবাগ জড়ো হয়ে পুরো রাস্তা দখলে নেন। চার দফা দাবি জানান। এরপর প্রতীকী সার্টিফিকেট ছেঁড়া কর্মসূচি পালন করেন। চাকরিপ্রত্যাশীরা বলেন, করোনার কারণে দীর্ঘ দিন চাকরির সার্কুলার হয়নি। দুই বছর এমনিতেই আমাদের গ্যাপ হয়েছে। স্নাতোকোত্তর শেষ হতেই ২৭ বছর পার হয়েছে। এরপরও বয়সসীমা ৩০ রাখা হয়েছে।
শিক্ষাবিদরা বলেন, চাকরিতে বয়সসীমাই থাকা উচিত নয়। যাদের যোগ্যতা আছে তাদেরই চাকরি দেয়া প্রয়োজন। জানা যায়, দীর্ঘ দিন ধরে চাকরিপ্রত্যাশীরা হতাশ হয়ে সার্টিফিকেট ছেঁড়াসহ বিভিন্ন অভিনব ঘটনা ঘটান। এই হালে ঘি ঢালেন ইডেন কলেজের মুক্তা সুলতানা। ফেসবুক লাইভে এসে সার্টিফিকেট ছেঁড়ার পর তাকে আইসিটি মন্ত্রণালয়ে চাকরি দেয়া হয়। এ নিয়ে বেকারদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা যায়। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও নেটিজেনরা আইসিটি মন্ত্রণালয়ের এ সিদ্ধান্তের সমালোচনা করেন। এরপর দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে ফেসবুক লাইভে বেকাররা তাদের সার্টিফিকেট ছিঁড়েন। সার্টিফিকেট পানিতে ঢুবিয়ে পানি খাওয়া, সার্টিফিকেট দুধ ঢেলে গোসল করা, লাইভে এসে সার্টিফিকেটে আগুন দেয়া ইত্যাদি নানা ঘটনা দেখা যায়। চাকরিপ্রত্যাশীদের চার দফা দাবি হলো— আবেদনের বয়সসীমা ৩৫ করা, অবসরে বয়সসীমা বৃদ্ধি, চাকরিতে আবেদন ফি সর্বোচ্চ ২০০ টাকা নির্ধারণ এবং জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্মৃতিবিজড়িত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় আইন অনুষদে বঙ্গবন্ধুর নামে বঙ্গবন্ধু ল’ কমপ্লেক্স স্থাপন।
চাকরিতে বয়সসীমা থাকা উচিত নয় জানিয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. কামরুল ইসলাম মামুন আমার সংবাদকে বলেন, ‘সরকারি চাকরিতে যোগ্যদের নেয়ার জন্য চাকরির বয়সসীমাটাই ঠিক নয়। আমরা যখন যাদের সরকারি চাকরিতে নিচ্ছি তাদের কেন নির্দিষ্ট স্থান থেকে শুরু করতে হবে? তার যদি যোগ্যতা থাকে তাকে কেন ডিরেক্ট সচিব বানাতে পারছি না? বাইরে থেকে পড়াশোনা করে আসা একজন অভিজ্ঞ মানুষকে তো আমরা কোনো সুযোগই দিচ্ছি না। আমাদের সমাজ চলছে গতানুগতিক ধারায়। তবে হা এখানে দুর্নীতি ও স্বজনপ্রীতির কিছু সমস্যা আছে। সেগুলো আমাদের বন্ধ করার জন্য সিস্টেম তৈরি করতে হবে। সার্টিফিকেট ছেঁড়া ঠিক হচ্ছে না জানিয়ে এ অধ্যাপক বলেন, আমাদের দেশের বিরাট অংশ বেকার হয়ে আছে। এরা নিজেদের ওপর হতাশা থেকে এ কাজ করছে। তবে তাদের সার্টিফিকেট ছেঁড়া ঠিক হচ্ছে না। আর মুক্তা মণিকেও এভাবে চাকরি দেয়া ঠিক হয়নি।’
আমার সংবাদের সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন