এক বছরে কোটি টাকার হিসাব বেড়েছে ৬৫৯৫টি

রেদওয়ানুল হক প্রকাশিত: জুন ১৪, ২০২৩, ০৮:৩৯ এএম
এক বছরে কোটি টাকার হিসাব বেড়েছে ৬৫৯৫টি

১৪ বছরে বেড়েছে ৯১ হাজার ২৯টি

দেশে কোটি টাকার হিসাব এক লাখ ১০ হাজার ১৯২টি

ঊর্ধ্ব মূল্যস্ফীতির চাপে সঞ্চয় ভেঙে সংসার চালাচ্ছে মানুষ। এমন পরিস্থিতির মধ্যেও দেশে বাড়ছে কোটিপতির সংখ্যা। গত এক বছরে ব্যাংক খাতে কোটিপতি হিসাবের সংখ্যা বেড়েছে ছয় হাজার ৫৯৫টি। এর ফলে ব্যাংকগুলোতে কোটি টাকার বেশি রয়েছে— এমন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের হিসাবের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে এক লাখ ১০ হাজার ১৯২টি। কেন্দ্রীয় ব্যাংক সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে। অন্যদিকে বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর তথ্যমতে, গত ১৪ বছরে দেশে কোটিপতির হিসাবসংখ্যা বেড়েছে ৯১ হাজার ২৯টি। ২০০৮ সালের ডিসেম্বরে কোটি টাকার হিসাব ছিল মাত্র ১৯ হাজার ১৬৩টি। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এটি দেশে বৈষম্য বাড়ার বহিঃপ্রকাশ। বাস্তবতা হলো— মূল্যস্ফীতির চাপে সাধারণ মানুষ সংসারের ব্যয় মেটাতে পারছে না। ছোট ছোট প্রতিষ্ঠান ব্যবসা করতে পারছে না। এমন অবস্থায় ব্যাংকে টাকা জমানো পরের কথা, অনেকে আগের জমানো অর্থ তুলে ব্যয় মেটাচ্ছেন। অথচ এমন পরিস্থিততেও এক শ্রেণির মানুষের আয় বেড়েছে। গতকাল মঙ্গলবার প্রকাশিত কেন্দ্রীয় ব্যাংকের হালনাগাদ প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৩ সালের মার্চ পর্যন্ত ব্যাংক খাতে মোট আমানতকারীর সংখ্যা দাঁড়ায় ১৪ কোটি ১১ লাখ ৩৭ হাজার ২৫৬টি। যেখানে জমা ছিল ১৬ লাখ ১৩ হাজার ৬২৬ কোটি টাকা। এর মধ্যে এক কোটি টাকার বেশি আমানত রয়েছে— এমন ব্যাংক হিসাবের সংখ্যা রয়েছে এক লাখ ১০ হাজার ১৯২টি। কোটি টাকার ওপরে এসব হিসাবে জমা আছে ছয় লাখ ৯০ হাজার ৮৭৭ কোটি ৫১ লাখ টাকা।

তিন মাস আগে ২০২২ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত ব্যাংক খাতে মোট আমানতকারীর সংখ্যা ছিল ১৩ কোটি ৬২ লাখ ৪৯ হাজার ৭৬৪টি। যেখানে জমা ছিল ১৫ লাখ ৮৮ হাজার ১০ কোটি টাকা। এর মধ্যে এক কোটি টাকার বেশি আমানত রয়েছে— এমন ব্যাংক হিসাবের সংখ্যা ছিল এক লাখ ৯ হাজার ৯৪৬টি। কোটি টাকার ওপরে এসব হিসাবে জমা ছিল ছয় লাখ ৭৭ হাজার ৬০৫ কোটি টাকা।

অন্যদিকে, এক বছর আগে ২০২২ সালের মার্চ পর্যন্ত ব্যাংক খাতে মোট আমানতকারীর সংখ্যা ছিল ১২ কোটি ৭৩ লাখ ৫২ হাজার ৮৯৩। যাদের হিসাবে জমা ছিল ১৫ লাখ ১৪ হাজার ৮৯৫ কোটি টাকা। ওই সময় কোটি টাকার বেশি হিসাব ছিল এক লাখ তিন হাজার ৫৯৭টি।  অর্থাৎ, এক বছরের ব্যবধানে কোটিপতির হিসাব বেড়েছে ছয় হাজার ৫৯৫টি। আর তিন মাসে বেড়েছে ২৪৬টি। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সংশ্লিষ্টরা বলেছেন, কোটি টাকার হিসাব মানেই কোটিপতি ব্যক্তির হিসাব নয়। কারণ, ব্যাংকে এক কোটি টাকার বেশি অর্থ রাখার তালিকায় ব্যক্তি ছাড়া অনেক প্রতিষ্ঠানও রয়েছে। আবার ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান কতটি ব্যাংক হিসাব খুলতে পারবে, তার কোনো নির্দিষ্ট সীমা নেই। ফলে এক প্রতিষ্ঠান বা ব্যক্তির একাধিক হিসাবও রয়েছে। এর মধ্যে সরকারি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও সংস্থার কোটি টাকার হিসাবও রয়েছে।

বাংলাদেশ ব্যাংক ১০ ক্যাটেগরিতে কোটি টাকার আমানতকারীর হিসাব করেছে। ২০২৩ সালের মার্চ পর্যন্ত তথ্য অনুযায়ী এক কোটি এক টাকা থেকে পাঁচ কোটি টাকার আমানতকারীর হিসাবসংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৮৭ হাজার ১০১টি। যাদের হিসাবে জমা টাকার পরিমাণ এক লাখ ৮১ হাজার ২৫৬ কোটি টাকা। পাঁচ কোটি থেকে ১০ কোটির মধ্যে রয়েছে ১২ হাজার ৪০টি হিসাব। তাদের হিসাবে জমার পরিমাণ ৮৪ হাজার ৬৫১ কোটি টাকা।  

এছাড়া ১০ কোটি এক টাকা থেকে ১৫ কোটির টাকার হিসাব রয়েছে তিন হাজার ৮৭৫টি, ১৫ কোটি এক টাকা থেকে ২০ কোটির মধ্যে ১৮৭৪টি, ২০ কোটি এক টাকা থেকে ২৫ কোটির মধ্যে এক হাজার ১৪৫টি, ২৫ কোটি এক টাকা থেকে ৩০ কোটির মধ্যে হিসাব রয়েছে ৮৮৭ জনের, ৩০ কোটি এক টাকা থেকে ৩৫ কোটি টাকার মধ্যে ৪৯৯টি এবং ৩৫ কোটি এক টাকা থেকে ৪০ কোটির মধ্যে রয়েছে ৩২৭ আমানতকারীর হিসাব। ৪০ কোটি এক টাকা থেকে ৫০ কোটি টাকার হিসাবসংখ্যা ৬৪৬টি। এছাড়া ৫০ কোটি টাকার বেশি আমানত রাখা হিসাবের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে  এক হাজার ৭৫৮টি। এসব হিসাবে জমার পরিমাণ ছয় লাখ ৯০ হাজার ৮৭৭ কোটি টাকা।  

বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) তথ্য অনুযায়ী, স্বাধীনতার পর ১৯৭২ সালে দেশে কোটিপতি আমানতকারী ছিল পাঁচজন; ১৯৭৫ সালে তা ৪৭ জনে উন্নীত হয়। ১৯৮০ সালে কোটিপতি হিসাবধারীর সংখ্যা ছিল ৯৮টি। এরপর ১৯৯০ সালে ৯৪৩টি, ১৯৯৬ সালে দুই হাজার ৫৯৪ জন, ২০০১ সালে পাঁচ হাজার ১৬২টি, ২০০৬ সালে আট হাজার ৮৮৭টি এবং ২০০৮ সালে ছিল ১৯ হাজার ১৬৩টি। ২০২০ সালের ডিসেম্বর শেষে দাঁড়ায় ৯৩ হাজার ৮৯০টিতে। ২০২১ সালের ডিসেম্বরে কোটিপতি হিসাব বেড়ে দাঁড়ায় এক লাখ ১৯৭৬টিতে। আর ২০২২ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত কোটি টাকার হিসাবের সংখ্যা ছিল এক লাখ ৯ হাজার ৯৪৬টি।