অনিশ্চিত খাতে বিনিয়োগে হিড়িক

রেদওয়ানুল হক প্রকাশিত: আগস্ট ২০, ২০২৩, ১১:৩৪ পিএম
অনিশ্চিত খাতে বিনিয়োগে হিড়িক

দেশে আসছে ডিজিটাল ব্যাংক। ইন্টারনেটভিত্তিক এ ব্যাংকের সেবা নিতে হবে মোবাইল-ল্যাপটপের সাহায্যে। থাকবে না কোনো শাখা কিংবা এটিএম বুথ। ক্যাসলেস সোসাইটি গড়ার পদক্ষেপ আরও কয়েক ধাপ এগিয়ে যাবে এর মাধ্যমে। অন্তত ৫২টি প্রতিষ্ঠান নতুন এ ব্যাংকিং সেবা দেয়ার আগ্রহ প্রকাশ করে বাংলাদেশ ব্যাংকে আবেদন করেছে। এ তালিকায় কোনো ধরনের ব্যাংকিং অভিজ্ঞতা নেই এমন অনেক প্রতিষ্ঠানও রয়েছে। 

কিন্তু দেশের মানুষ কতটা অভ্যস্ত এ ধরনের ব্যাংকিংয়ে। প্রচলিত ব্যাংক, এমএফএস ও পেমেন্ট সার্ভিস সেবাদানকারীদের থেকে ব্যতিক্রমী কী সেবা থাকছে এ ব্যাংকে। কতটা লাভজনক হবে এ ব্যবসা। এসব প্রশ্নের উত্তর অজানা থাকলেও লাইসেন্স পেতে রীতিমতো হুমড়ি খেয়ে পড়েছেন উদ্যোক্তারা। যদিও সারা বিশ্বে ডিজিটাল ব্যাংকিং লাভজনক ব্যবসা নয়। তবুও এমন হিড়িক লাইসেন্স দখলের প্রতিযোগিতা হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকরা।

ব্যাংক কর্মকর্তারা বলছেন, ভবিষ্যতে কি হবে সেটা বিবেচনায় না নিয়েই অনেকে লাইসেন্স নিতে চাচ্ছেন। বিনিয়োগের পরিমাণ কম হওয়ায় অনেকটা ঝুঁকি নিয়েই আবেদন করছেন অনেকে। বিশ্বব্যাপী ডিজিটাল ব্যাংকিং লাভজনক না হলেও নতুন উদ্যোগের অংশীদার থাকতে চাইছেন উদ্যোক্তারা। একরকম লোকসানের মানসিক প্রস্তুতি নিয়েই এ ব্যবসায় বিনিয়োগ করা হচ্ছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। তাছাড়া যেহেতু এখনই পুরো টাকা বিনিয়োগ করতে হচ্ছে না। আবেদনে প্রয়োজন হয়েছে মাত্র পাঁচ লাখ টাকা; তাই অনেকে ভবিষ্যতে ব্যবসার চেয়ে লাইসেন্স পেতে মনোযোগী হচ্ছেন।

এ বিষয়ে ব্র্যাক ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও এবিবির চেয়ারম্যান সেলিম আর এফ হোসেন আমার সংবাদকে বলেন, ‘বিশ্বব্যাপী হাজারের বেশি ডিজিটাল ব্যাংক থাকলেও মাত্র চার-পাঁচটা ব্যাংক লাভ করতে পেরেছে। তবুও এ ব্যবসায় সবার আগ্রহ দেখা যাচ্ছে। কারণ আমাদের দেশে হুজুগে অনেক কিছু হয়। মূলধন কম হওয়ায় অনেকে আবেদন করছেন বলে মনে হচ্ছে। কারণ বড় ব্যবসায়ীদের কাছে ১০-১২ কোটি টাকা কিছুই না। তারা ভাবছেন লাইসেন্স নিয়ে রাখি, যদি কিছু হয়।’ 

তিনি বলেন, বাংলাদেশ ব্যাংক বলছে তিন বছরের মধ্যে লাভ করা সম্ভব হবে না। অনেকে বলছেন, লাভের মুখ দেখতে পাঁচ বছর লেগে যাবে। ব্র্যাক ব্যাংকের বিনিয়োগ প্রশ্নে তিনি বলেন, ‘ডিজিটাল ব্যাংকে খরচ কম তাই লোনের সুদ ও বিভিন্ন চার্জ কম হবে। আমানতেও বেশি মুনাফা দেয়া যাবে। এছাড়া বিকাশ ইতোমধ্যে অনলাইন পেমেন্টভিত্তিক ব্যবসায় অনেক দূর এগিয়ে গেছে। তাই ডিজিটাল ব্যাংকে আবেদনের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। স্বাভাবিকভাবেই শেয়ার হোল্ডাররা এখানে অংশ নিয়েছে। 

বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র মেজবাউল হক আমার সংবাদকে বলেন, ‘কয়েকটি ডিজিটাল ব্যাংক অনুমোদন দেয়া হবে তা এখনো নিশ্চিত নয়। এ ক্ষেত্রে কি ধরনের মানদণ্ড অনুসরণ করা হবে তাও ঠিক হয়নি। বাংলাদেশ ব্যাংকের বোর্ড এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবে। তখন জানা যাবে ডিজিটাল ব্যাংকের অনুমোদন কারা পাবেন।’ তিনি বলেন, ডিজিটাল ব্যাংকের ওয়েব পোর্টাল খোলা হয়। নির্ধা?রিত সময়ে ৫২টি প্রতিষ্ঠান আবেদন করেছে। এটা আমাদের প্রত্যাশার চেয়ে বে?শি। এসব আবেদন যাচাই-বাছাই ক?রা হ?বে। ?নীতিমালা অনুযায়ী শর্ত মেনে যারা আবেদন করেছে এবং যেগুলো যোগ্য হবে তাদের লাইসেন্সের জন্য এলওআই (লেটার অব ইন্টেন্ট) দেবে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের বোর্ড। 

বাংলাদেশে প্রথমবারের মতো অনুমোদন দিতে যাওয়া ডিজিটাল ব্যাংকের লাইসেন্স পেতে আগ্রহী হয়ে উঠেছে বহু প্রতিষ্ঠান। আগ্রহীদের মধ্যে সরকারি ও বেসরকারি বাণিজ্যিক ব্যাংক, মোবাইল আর্থিক সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠান ছাড়াও আছে বেসরকারি মোবাইল ফোন অপারেটর, তথ্য প্রযুক্তি সেবাদানকারী উদ্যোগ, এমনকি ওষুধ কোম্পানি ও ঢেউশিট উৎপাদনকারী কোম্পানিও। প্রতিষ্ঠানগুলো লাইসেন্স পেতে আবেদন এককভাবেও করেছে আবার যৌথ উদ্যোগও আছে। লাইসেন্সের জন্য যত আবেদন জমা পড়েছে, সেগুলোর মধ্যে বিদেশি দুই বিনিয়োগকারী প্রতিষ্ঠানের ফিনটেক (প্রযুক্তিভিত্তিক লেনদেন) ব্যবসার দক্ষতা রয়েছে।

নগদ টাকার ব্যবহার কমিয়ে আনা ও লেনদেন আরও সহজ করতে সরকারের ‘ক্যাশলেস সোসাইটি’ গড়ার উদ্যোগে এই ব্যাংক চালু করতে যাচ্ছে বাংলাদেশ ব্যাংক। বেশ কয়েক বছরের প্রস্তুতি শেষে বাংলাদেশ ব্যাংক লাইসেন্সের জন্য আবেদন গ্রহণ শুরু করে গত জুন থেকে। গত ১৪ জুন বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদ ‘ডিজিটাল ব্যাংক’ চালুর অনুমোদন দেয়। ১৫ জুন এ বিষয়ে নীতিমালা জারি করে। এরই ধারাবাহিকতায় ‘ডিজিটাল ব্যাংক’-এর জন্য অনলাইনে আবেদন জমা দিতে গত ২১ জুন একটি ওয়েব পোর্টাল চালু করে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। আবেদনের জন্য ১ আগস্টের মধ্যে আগ্রহীদের লাইসেন্সের জন্য আবেদন করতে বলা হয়। কিন্তু নির্ধারিত সময়ে কেউ আবেদন না করায় ১৭ আগস্ট পর্যন্ত আবেদনের সময় বাড়ানো হয়।

ব্যাংক কোম্পানি আইন ও নীতিমালা অনুযায়ী এ ব্যাংক চলবে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নীতিমালা অনুযায়ী, ডিজিটাল ব্যাংকের পরিশোধিত মূলধন হবে ন্যূনতম ১২৫ কোটি টাকা, যেখানে প্রচলিত ব্যাংকের পরিশোধিত মূলধন হচ্ছে ৫০০ কোটি টাকা। আবেদন ফি হবে পাঁচ লাখ টাকা, যা অফেরতযোগ্য। নীতিমালায় আরও বলা হয়, ডিজিটাল ব্যাংকের উদ্যোক্তাদের মূলধন সংরক্ষণ চুক্তি করতে হবে। কোনো ব্যাংক মূলধন ঘাটতিতে পড়লে তা উদ্যোক্তাদের জোগান দিতে হবে। ঋণখেলাপি কেউ ডিজিটাল ব্যাংকের উদ্যোক্তা হতে পারবেন না। এমনকি ডিজিটাল ব্যাংকের উদ্যোক্তাদের কারো বিরুদ্ধে ঋণখেলাপি সংক্রান্ত কোনো মামলা আদালতে চলমান থাকলে তারা আবেদন করার জন্য যোগ্য বলে বিবেচিত হবেন না। 

নীতিমালা অনুযায়ী, ডিজিটাল ব্যাংকের ব্যবসা শুরুর পর ৫ বছরের মধ্যে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত হতে হবে প্রাথমিক গণপ্রস্তাবের (আইপিও) মাধ্যমে। তবে এখানে শর্ত দেয়া হয়, আইপিওর মাধ্যমে সংগৃহীত অর্থের পরিমাণ উদ্যোক্তাদের সরবরাহ করা প্রাথমিক মূলধনের কম হতে পারবে না। অর্থাৎ আইপিওর মাধ্যমে কমপক্ষে ১২৫ কোটি টাকা বা ওই সময়ে উদ্যোক্তাদের সরবরাহকৃত অর্থের সমপরিমাণ মূলধন সংগ্রহ করতে শেয়ার ছাড়তে হবে পুঁজিবাজারের বিনিয়োগকারীদের মাঝে। উদ্যোক্তাদের শেয়ার ৩ বছরের পূর্বে হস্তান্তর করতে অনুমোদন দিতে পারবে না বাংলাদেশ ব্যাংক।

বিশ্ব ব্যাংকের বাংলাদেশ আবাসিক মিশনের সাবেক মুখ্য অর্থনীতিবিদ ড. জাহিদ হোসেন আমার সংবাদকে বলেন, ‘ডিজিটাল ব্যাংক ভিন্ন কি সেবা দিবে যা এখন নেই তা স্পষ্ট নয়। তাছাড়া ইন্টারনেটভিত্তিক এ সেবা নিতে  স্মার্টফোন বা ল্যাপটপ ব্যবহার করতে হবে। প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর কত ভাগ মানুষ এতে অভ্যস্ত তাও বিবেচনায় নিতে হবে। বিবিএসের হিসাব অনুযায়ী সম্ভবত ৩০-৩৫ ভাগ মানুষের স্মার্ট ফোন রয়েছে। সব মিলিয়ে এ ব্যবসা কতটা লাভজনক হবে তা নিশ্চিত নয়। তবুও এত আগ্রহ কেন তা আমার বোধগম্য নয়। অনেকেই হয়তো সুযোগটা নিয়ে রাখতে চাইছেন। আগে লাইসেন্স নিয়ে পরে ভেবে দেখবেন কি করা যায়।’ 

আবেদন করেছে যেসব প্রতিষ্ঠান : ‘ডিজি টেন পিএলসি’ নামে ১০ ব্যাংকের জোট ডিজিটাল ব্যাংকে বিনিয়োগের ঘোষণা দেয়। এই ১০টি ব্যাংক মিলিয়ে ১২৭ কোটি ৭৮ লাখ টাকা বিনিয়োগের কথা জানিয়েছে।  সবার আগে এই জোটে থাকার কথা জানিয়ে ১৩ কোটি ৮৮ লাখ টাকা বিনিয়োগের সিদ্ধান্ত জানিয়ে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত বেসরকারি দ্য সিটি ব্যাংক মূল্য সংবেদনশীল তথ্য (পিএসআই) দেয় ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) ওয়েবসাইটে। জানানো হয়, ‘ডিজি টেন ব্যাংক পিএলসি’তে তাদের শেয়ার থাকবে ১১ দশমিক ১১ শতাংশ।

মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংক (এমটিবি) জানায়, ডিজি টেন ব্যাংকের ১০ শতাংশ মালিকানা নেবে তারা। ১১ দশমিক ১১ শতাংশ মালিকানার বিপরীতে ১৩ কোটি ৯০ লাখ টাকা বিনিয়োগ করার কথা জানিয়েছে বেসরকারি পূবালী ব্যাংকও। এই উদ্যোগে আরেক ব্যাংক ডাচ্-বাংলা। তারা ১২ কোটি ৫০ লাখ টাকা বিনিয়োগ করে ১০ শতাংশ শেয়ারের মালিকানা পাবে। ইস্টার্ন (ইবিএল), ট্রাস্ট, মার্কেন্টাইল, ন্যাশনাল ক্রেডিট অ্যান্ড কমার্স ব্যাংক (এনসিসিবি), প্রাইম ও মিডল্যান্ড ব্যাংকের মালিকানা ও বিনিয়োগও একই পরিমাণ। এরপর রাষ্ট্রায়ত্ত চার বাণিজ্যিক ব্যাংক সোনালী, রূপালী, অগ্রণী ও জনতা মিলে জোটবদ্ধভাবে ডিজিটাল ব্যাংক গঠনের উদ্যোগের কথা জানায়। তারা আবেদন করলেও কী নাম হবে, সেটি প্রকাশ করা হয়নি। বেসরকারি ইউনাইটেড কমার্শিয়াল ব্যাংক ইউসিবির মোবাইল আর্থিক সেবাদানকারী কোম্পানি উপায়ের নেতৃত্বে যে জোট আবেদন করেছে, তার নাম ঠিক করা হয়েছে ‘উপায় ডিজিটাল ব্যাংক পিএলসি’। এই জোটে আছে বেসরকারি ব্যাংক এনআরবিসি ও মেঘনাও। পাশাপাশি আছে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত কোম্পানি আরামিট যারা মূলত ঢেউশিট উৎপাদন করে, আছে ওষুধ খাতের তালিকাভুক্ত কোম্পানি নাভানা ফার্মাসিউটিক্যালস ও তথ্য প্রযুক্তি সেবাদানকারী কোম্পানি জেনেক্স ইনফোসিস।

‘সঞ্চয় ডিজিটাল ব্যাংক পিএলসি’ নামে ডিজিটাল ব্যাংক প্রতিষ্ঠার ঘোষণা দিয়েছে বেসরকারি ঢাকা ব্যাংক। তাদের জোটেও বেশ কয়েকটি ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান আছে। ডিজিটাল ব্যাংকে সাড়ে ১২ কোটি টাকা বিনিয়োগ কর ১০ শতাংশ শেয়ারের মালিকানা পাবে বলে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) তথ্য দিয়েছে ঢাকা ব্যাংক। পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত ব্র্যাক ব্যাংক তাদের সাবসিডিয়ারি প্রতিষ্ঠান বিকাশ ডিজিটাল ব্যাংকের ৫১ শতাংশ শেয়ার পেতে বিনিয়োগ করার কথা জানিয়েছে। রাইড শেয়ারিং প্রতিষ্ঠান ‘পাঠাও’ও ডিজিটাল ব্যাংক পেতে আবেদন করেছে। নগদ ডিজিটাল ব্যাংক চেয়ে আবেদন করেছে ডিজিটাল আর্থিক সেবাদানকারী কোম্পানি ‘নগদ’ও। শেষ দিনে আবেদন করে বেসরকারি মোবাইল ফোন অপারেটর বাংলালিংক। আবেদন করেছে রাইড শেয়ারিং, ফুড ডেলিভারি এবং ই-কমার্স লজিস্টিকস কোম্পানি ‘পাঠাও’, নাম দিয়েছে ‘পাঠাও ডিজিটাল ব্যাংক।’ গত এপ্রিল মাসে কোম্পানিটিকে পেমেন্ট সার্ভিস প্রোভাইডার (পিএসপি) লাইসেন্স দেয় বাংলাদেশ ব্যাংক।

রাষ্ট্রায়ত্ত চার ব্যাংক বাদে সব ব্যাংকই পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত হওয়ায় ১৩ ব্যাংকই নিজ নিজ পরিচালনা পর্ষদের অনুমোদন নিয়ে মূল্য সংবেদনশীল তথ্য (পিএসআই) করেছে ডিজিটাল ব্যাংকে বিনিয়োগের সিদ্ধান্তে। তবে আরও ব্যাংক ও মোবাইল ফোনভিত্তিক আর্থিক সেবাদানকারী কোম্পানির কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, বিনিয়োগের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। পরিচালনা পর্ষদের বৈঠকে অনুমোদন নিয়ে ডিএসইর মাধ্যমে পিএসআই প্রকাশ করা হবে। পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত প্রতিষ্ঠান হওয়ায় বড় ধরনের কোনো বিনিয়োগ বা ব্যবসায় নতুন কিছু সংযোজিত হলে বিনিয়োগকারীদের মূল্য সংবেদনশীল তথ্য (পিএসআই) প্রকাশের বাধ্যবাধকতা রয়েছে।

ওষুধ উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান হয়ে ডিজিটাল ব্যাংকে যুক্ত হওয়ার ইচ্ছা কেন, এই প্রশ্নে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত নাভানা ফার্মাসিউটিক্যালসের কোম্পানি সচিব জয়নুল আবেদিন গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন, ‘নাভানা ফার্মার পরিচালকদের মধ্যে কয়েকজন ইউসিবি ব্যাংকেরও পরিচালক। তাদের এই অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে নাভানা ফারমার বিনিয়োগ পোর্টফলিওতে বৈচিত্র্য আনতে ডিজিটাল ব্যাংকে বিনিয়োগ পরিকল্পনা করেছে পর্ষদ।’ তার ভাষ্য, একাধিক খাতে বিনিয়োগ করলে নাভানা ফার্মার বিনিয়োগে ঝুঁকি কমে আসবে বলে মনে করে কোম্পানিটি।

একই প্রশ্নে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত কোম্পানি আরামিট লিমিটেডের কোম্পানি সচিব সৈয়দ কামরুজ্জামান বলেন, ‘ব্যাংক ব্যবসা সব সময় লাভজনক থাকে। এ জন্য পরিচালনা বোর্ড সিদ্ধান্ত নিয়েছে ডিজিটাল ব্যাংকে বিনিয়োগ করার। লেনদেন প্রযুক্তিভিত্তিক হলে সেখানে সম্ভাবনা রয়েছে।’ এই কোম্পানিটি ঢেউশিট উৎপাদন করে, যা সাধারণত কারখানা বা খামারে টিনের বিকল্প হিসেবে ব্যবহার করা হয়।

এ প্রসঙ্গে বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান সেন্টার ফল পলিসি ডায়ালগ বা সিপিডির নির্বাহী পরিচালক ফাহমিদা খাতুন মনে করেন, মূলধনের পরিমাণ কম হওয়ার প্রযুক্তিভিত্তিক আর্থিক সেবার অভিজ্ঞতা না থাকার পরও ডিজিটাল ব্যাংকের আবেদনের পরিমাণ বেড়েছে। তিনি বলেন, ‘যেখানে দুর্বল ব্যাংকগুলোকে নীতিনির্ধারকরা সহায়তা দিচ্ছে, সেখানে মাত্র ১২৫ কোটি টাকায় ডিজিটাল ব্যাংক পাওয়া গেলে তো সব ধরনের ব্যক্তিরা আবেদন করবেই।’ 

ডিজিটাল ব্যাংক নিয়ে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পর্যাপ্ত প্রস্তুতি আছে কি না, সেই প্রশ্নও রাখেন তিনি। বলেন, ‘ব্যাংকের সঙ্গে সুশাসনের সম্পর্ক জড়িত। ডিজিটাল ব্যাংকে কীভাবে গ্রাহকদের স্বার্থ সুরক্ষিত হবে, কীভাবে তাদের ডেটা এবং আর্থিক গোপনীয়তা নিরাপত্তা দেবে তা ইস্যু হবে। কেন্দ্রীয় ব্যাংক বিদ্যমান ব্যাংকগুলোকে সঠিকভাবে তদারকি করতে পারে না এবং ক্ষমতাবান ব্যক্তিদের স্বার্থ রক্ষা করা হয়। সাধারণ মানুষ ও নারীসহ ব্যাংকিং চ্যানেলের বাইরের মানুষের কাছে ডিজিটাল ব্যাংকিং পৌঁছে দেয়ার কথা। কিন্তু তাদের স্বার্থ রক্ষা করার সক্ষমতা কি আছে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের?’