শেষ দশে ‘ডু অর ডাই’

আবদুর রহিম প্রকাশিত: অক্টোবর ৭, ২০২৩, ১১:৫৪ পিএম
শেষ দশে ‘ডু অর ডাই’
  • আল্টিমেটাম, সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানগুলোতে অবস্থান ঘেরাও কর্মসূচি আসছে
  • রাষ্ট্রপতির সংলাপে যেতে বিএনপিকে বামদের চাপ
  • চলছে থানায় থানায় জামায়াতের বিক্ষোভ আজ জানা যাবে শিবির মুভমেন্ট
  • বিএনপি-জামায়াতসহ বিরোধীদের চূড়ান্ত ঐক্য, কৌশলে আলাদা পথ
  • হার্ডলাইনে অন্য ইসলামপন্থিরাও এ মাসেই নতুন ঐক্য ঘোষণার সম্ভাবনা

অক্টোবরের মধ্যে রাজনৈতিক মাঠের ফায়দা নিতে চায় বিএনপিসহ সরকারবিরোধীরা। সরকারকে আর বেশি সময় দিতে চাচ্ছে না তারা। ইতোমধ্যে চট্টগ্রামে শেষ রোডমার্চ থেকে ঢাকায় ছাত্র কনভেনশন, সমাবেশ, মিছিল ও অনশনসহ ৯ থেকে ১৮ অক্টোবর পর্যন্ত নতুন কর্মসূচি ঘোষণা করেছে বিএনপি। এর মধ্যে রাজনৈতিক অঙ্গনে প্রশ্ন উঠেছে— অক্টোবরে আসলে কী ঘটতে যাচ্ছে। 

বিভিন্ন রাজনৈতিক সূত্রের সাথে কথা বলে জানা গেছে, বিএনপি-জামায়াতসহ ইসলামপন্থি, ডানপন্থিসহ যত রাজনৈতিক দল রয়েছে সবার সাথে ভেতরে ভেতরে সরকার পতনে বিএনপির ঐক্য হয়ে গেছে। রাজনৈতিক মতাদর্শেও সরকার হটাও ইস্যুতে কোনো বিভেদ নেই।  চলতি মাসের ১৮ তারিখ পর্যন্ত সব দল রাজপথে তাদের মুভমেন্ট জানান দেবে। এরপর এ মাসের শেষ ১০ দিন পরিস্থিতির আলোকে যেকোনো শক্ত পথে হাঁটবেন তারা। হরতাল-অবরোধসহ এ বিষয়গুলোও চিন্তায় রয়েছে তাদের। তবে প্রাথমিকভাবে ঢাকা কেন্দ্রিক সাংবিধানিক যে প্রতিষ্ঠানগুলো রয়েছে এগুলোতে অবস্থান, ঘেরাও কর্মসূচি পালন করবে তারা। প্রয়োজনে এক মঞ্চে থেকেও কর্মসূচি পালন করার চিন্তা করা হচ্ছে। কিংবা যুগপৎ কর্মসূচির আলোকে পুরো ঢাকা শহরে সরকারি যত গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান রয়েছে ভিন্নভাবে অবস্থান করবে। এ কর্মসূচিগুলোতে বাধা এলে সময়ের আলোকে হার্ডলাইনে চলে যাবে তারা।

ইতোমধ্যে কেয়ারটেকার সরকার প্রতিষ্ঠার দাবিতে রাজধানীর থানায় থানায় বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। ঢাকাসহ সারা দেশে এমন কর্মসূচি পুরো মাসব্যাপী পালন করবে।  শুক্রবার দলের এক কর্মসূচিতে জামায়াতের আমির মুজিবুর রহমান বলেছেন, রাজপথে আন্দোলন-সংগ্রামের সময় চলে এসেছে। যেকোনো সময় ডাক আসতে পারে। রাজপথ থেকে ইসলামী আন্দোলনের নেতাকর্মীদের পালানোর সুযোগ নেই। আপনারা প্রস্তুতি গ্রহণ করুন। আজ রোববার রাজধানীর একটি মিলনায়তন থেকে দলটির ছাত্র সংগঠন ইসলামী ছাত্রশিবির রাজপথের মুভমেন্ট কী হবে এ বিষয়ে একটি বার্তা দেবে বলে জানা গেছে। এ ছাড়া গতকাল রাজধানীর বায়তুল মোকাররমের উত্তর গেটের দুই পাস বন্ধ করে দিয়ে সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত মামুনুল হকের মুক্তি ও কেয়ারটেকার সরকার দাবিতে সমাবেশ করেছে খেলাফত মজলিশ। তারাও এখন সরকার হটাও ইস্যুতে হার্ডলাইনে রয়েছে। অনেকেই বলছেন, খুব শিগগিরই ইসলামী ঐক্য হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। আদর্শের ভিত্তিতে যাদের সাথে একটু মতবিরোধ ছিল সেগুলোও বৃহত্তর স্বার্থে ভুলে গিয়ে এক কাতারে দাঁড়াতে হচ্ছে। 

বিএনপির নীতিনির্ধারণী সূত্রগুলো বলছে, দলের মহাসচিব জানিয়েছেন,  দুর্গাপূজার আগে বড় কোনো কর্মসূচি নয়। এর মধ্যেই বড় হেকমত রয়েছে। কূটনৈতিক মহলে নিজদের অবস্থান মজবুত করতেই এ ঘোষণা দেয়া হয়েছে। তবে রাজনৈতিক পদক্ষেপ থেকে দূরে থাকবে না তারা। দীর্ঘ ১৭ বছর ক্ষমতার বাইরে থাকা দলটি আগামীতে আর কোনো ঝুঁকি নেবে না। এবার তারা অক্টোবরের মধ্যেই ‘ডু অর ডাই’ সিদ্ধান্তে রয়েছে। হামলা-মামলার আর কোনো চিন্তা করা হবে না। সামনে এগিয়ে যাওয়া ছাড়া আর কোনো উপায় নেই। প্রত্যেক রাজনৈতিক দলের ছাত্রসংগঠন  নিজ নিজ অবস্থান থেকে রাজপথে চূড়ান্ত শক্তি দেখাতে প্রস্তুতি নিচ্ছে। গঠন হয়েছে বাম ও মধ্যপন্থিদের নিয়ে ফ্যাসিবাদী ছাত্র ঐক্য। এখন ইসলামী ছাত্রশিবিরসহ অন্য যে ছাত্র সংগঠন রয়েছে তারাও নিজ নিজ উদ্যোগে সরকার পতনে রাজপথে ভূমিকা পালন করতে প্রস্তুতি শুরু করেছে। আগামী দুই-এক দিনের মধ্যে তাদের সিরিজ উদ্যোগ স্পষ্ট হবে। 

এদিকে পর্দার আড়ালে বিএনপির ভেতরে একটি বাম আদর্শের চাপ শুরু হয়েছে। অনেকে কূটনৈতিকভাবেও বিএনপিকে চাপ দিচ্ছেন যাতে আগামী নির্বাচনে তারা অংশগ্রহণ করে। এ জন্য রাষ্ট্রপতির বিশেষ সংলাপে যোগ দিতে বিএনপিকে বামপন্থিরা উৎসাহ দিচ্ছে। তবে দলটির বড় অংশই এখন আর সরকারের ফাঁদে পা দিতে রাজি নয়। যদি দলের হাইকমান্ড কূটনৈতিক অজুহাতে রাষ্ট্রপতির সংলাপে যায় তাহলে দলে ভাঙনের আশঙ্কাও করা হচ্ছে। এখন বিএনপি কী আগামী নির্বাচনে বামদের পথে হেঁটে এ দলকে দীর্ঘায়িত ঝুঁকিতে ফেলবে নাকি সব রাজনৈতিক দলকে নিয়ে আন্দোলনের মাধ্যমে ভাগ্য নির্ধারণ করবে তা নিয়েও প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম বলেন, সামনে দুর্গাপূজা আছে। দুর্গাপূজার আগে আমরা কোনো কর্মসূচি দিতে চাই না। আমরা শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করছি। তবে সরকার যদি আমাদের বাধ্য করে আমরা যেকোনো সিদ্ধান্ত গ্রহণ করতে বাধ্য হবো। 

বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী আমার সংবাদকে বলেন, বিএনপির বিজয় খুব শিগগিরই। এটি এ দেশের মানুষ জানতে আর বেশি সময় নেই। আমাদের আর পিছু হটার সময় নেই। এ মাসেই সরকার বিষয়ে চূড়ান্ত ফয়সালা করা হবে। আওয়ামী লীগ তলে তলে বলেই তলিয়ে যাবে— এটি এখন অপেক্ষার বিষয়। 

জানতে চাইলে জাতীয় নির্বাচন পর্যবেক্ষণ পরিষদের (জানিপপ) সভাপতি নাজমুল আহসান কলিম উল্লাহ আমার সংবাদকে বলেন, ‘দেখুন রাজনীতিতে চলতি অক্টোবর মাস খুবই টার্নিং পয়েন্ট। অনেক দুঃসংবাদ অপেক্ষা করছে। পোশাক খাতে অসনি সঙ্কেত রয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে, আরো কিছু নিষেধাজ্ঞা আসতে পারে। রাজনৈতিক অজানা অনেক ঘটনার জন্ম হতে পারে।’