দুই দশকে কমেছে আট লাখ শিক্ষার্থী

মো. নাঈমুল হক প্রকাশিত: অক্টোবর ২৫, ২০২৩, ০৩:৫১ পিএম
দুই দশকে কমেছে আট লাখ শিক্ষার্থী

মাদ্রাসা শিক্ষার প্রাথমিক পর্যায়কে ইবতেদায়ী শিক্ষা বলে। ধর্মীয় ও জাগতিক শিক্ষার উদ্দেশ্যে অনেক অভিভাবক সন্তানদের ইবতেদায়ী মাদ্রাসায় পড়ান। কিন্তু ক্রমাগত মাদ্রাসা শিক্ষার প্রাথমিক পর্যায়ে কমছে শিক্ষার্থী। বিগত দুই দশকে কমেছে আট লাখেরও বেশি শিক্ষার্থী। কমার হার তিন ভাগের দুই ভাগ। ফলে মাদ্রাসা শিক্ষার পরবর্তী ধাপেও এর প্রভাব পড়ার কথা বলছেন শিক্ষকরা। তারা বলছেন, মূলত সরকারের অবহেলার শিকার হয়ে মাদ্রাসা শিক্ষা ধ্বংস হচ্ছে। শিক্ষার্থী কমার ব্যাপারে মাদ্রাসা শিক্ষা অধিদপ্তরকে কারণ অনুসন্ধানের কথা বলছেন শিক্ষাবিদরা। 

বাংলাদেশ শিক্ষাতথ্য ও পরিসংখ্যান ব্যুারোর (ব্যানবেইস) সর্বশেষ তথ্যমতে, বর্তমানে ইবতেদায়ী মাদ্রাসার শিক্ষার্থী সংখ্যা চার লাখ ৪১ হাজার ৬২০ জন। ২০০২ সালে এ সংখ্যা ছিল ১২ লাখ ৪২ হাজার ৬০৯। অর্থাৎ দুই দশকে শিক্ষার্থী সংখ্যা কমেছে আট লাখেরও বেশি। ২০২০ সালের তুলনায় ২০২১ সালেও কমেছে প্রায় তিন লাখ ৭২ হাজার। ২০২০ সালে এ সংখ্যা ছিল আট লাখ ১৪ হাজার ৪০১ জন। ২০১৯ সালেও শিক্ষার্থী সংখ্যা ছিল ৯ লাখ ৬১ হাজারের মতো। ২০১৮ সালে ছয় লাখ ৮৮ হাজার ছিল; অর্থাৎ ২০১১ থেকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত ইবতেদায়ী পর্যায়ে শিক্ষার্থীদের সংখ্যা ছয় থেকে সাত লাখের মধ্যেই ছিল। তবে ২০০৪ সাল থেকেই মূলত শিক্ষার্থী কমা শুরু হয়েছে। ওই সময় আট লাখ ৩৬ হাজার শিক্ষার্থী  ছিল। এরপর থেকে ২০১০ পর্যন্ত আট থেকে সাড়ে আট লাখের মধ্যে ছিল। যদিও ২০০২ ও ২০০৩ সালে ইবতেদায়ী পর্যায়ে সবচেয়ে বেশি শিক্ষার্থী প্রায় সাড়ে ১২ লাখ ছিল। 

সরকারের অবহেলার শিকার হয়ে মাদ্রাসা শিক্ষা ধ্বংসের কথা জানিয়ে উত্তর বাড্ডা কামিল মাদ্রাসার অধ্যক্ষ আনোয়ার হোসেন মোল্লা বলেন, সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের জন্য সরকার প্রতি বছর কোটি কোটি টাকা বাজেট বরাদ্দ রাখে। অবকাঠামো উন্নয়ন থেকে শুরু করে শিক্ষকদের স্ট্যান্ডার্ড বেতন দিচ্ছে। তিন দশক ধরে ইবতেদায়ী শিক্ষকরা নামমাত্র সরকারের কিছু টাকা পান। অবকাঠামোসহ অন্যান্য দিকে সরকারের নজর নেই বললেই চলে। অনেক শিক্ষক দীর্ঘদিন বেতন না পেয়ে চাকরি ছেড়ে দিয়েছেন। ফলে অভিভাবকরা তাদের সন্তানদের স্কুলে দিচ্ছেন। সেখানে পর্যাপ্ত সুযোগ-সুবিধা আছে। 

বর্তমানে এর প্রভাবের কথা জানিয়ে বিশিষ্ট এ  আলেম বলেন, দাখিল, আলিম ও ফাজিল পর্যায়েও এর প্রভাব দেখা যাচ্ছে। সেখানেও কমে যাচ্ছে শিক্ষার্থী। স্কুল থেকে মাদ্রাসায় শিক্ষার্থী আসার সুযোগ নেই। অথচ মাদ্রাসা থেকে প্রতিনিয়ত স্কুল, কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার্থী যাচ্ছে। মূলত সরকারের অবহেলার শিকার হয়ে মাদ্রাসা শিক্ষা ধ্বংস হচ্ছে।  

শিক্ষার্থী কমার কারণ অনুসন্ধানের কথা জানিয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) শিক্ষা ও গবেষণা বিভাগের অধ্যাপক ড. হাফিজুর রহমান বলেন, ইবতেদায়ী পর্যায়ে শিক্ষার্থী কমার কারণ গবেষণা না করে বলা যাবে না। তবে আমার অনুমান আর্থিক কারণে অনেকে শিক্ষার্থীদের ইবতেদায়ী পর্যায়ে দিতে চান না। ইবতেদায়ী শিক্ষাকে অনেকে মাদ্রাসার মতো মনে করেন। তাই অনেকে কওমি মাদ্রাসায় সন্তানদের ভর্তি করান।  শিক্ষার্থী কমার প্রকৃত কারণ অনুসন্ধানের জন্য মাদ্রাসা শিক্ষা অধিদপ্তরের গবেষণা করা প্রয়োজন।