বাধায় ১৬ স্পটে অবস্থান

আবদুর রহিম প্রকাশিত: অক্টোবর ২৫, ২০২৩, ১১:২৪ পিএম
বাধায় ১৬ স্পটে অবস্থান

২৮ অক্টোবর থেকে রাজনীতিতে নতুন যাত্রার টার্গেট বিএনপির। জোটসঙ্গী ছাড়াও ইসলামি দলগুলোর সঙ্গেও গভীর সম্পর্ক বাড়িয়েছে তারা। সব দলকেই ওই দিন রাজপথে ভূমিকা চায় দীর্ঘদিন ক্ষমতার বাইরে থাকা এ দলটি। বিএনপির সঙ্গে সুর মিলিয়ে মতিঝিল শাপলা চত্বরে কর্মসূচি ঘোষণা করেছে জামায়াত। সারা দেশ থেকে বিএনপি-জামায়াত প্রায় ৩০ লক্ষাধিক লোককে জড়ো করার প্রস্তুতি নিচ্ছে। বিএনপি নয়াপল্টন দলীয় কার্যালয়ের সামনে সমাবেশ করতে অনঢ়। সেখানে তারা শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি পালন করে প্রাথমিকভাবে সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান সচিবালয় বা অন্য কোনো একটিতে ঘেরাও কর্মসূচি বা অবস্থানের চিন্তা করছে। তবে সরকার যদি ১০ ডিসেম্বরের মতো বাধা দেয় অন্য কোনো স্থানে কর্মসূচির জন্য আহ্বান জানায় তাহলে বিএনপি আর সরকারের দেখানো পথে কর্মসূচি পালন করবে না। বিকল্প হিসেবে ওই দিন তারা ঢাকার গুরুত্বপূর্ণ ১৬টি স্থানে বৃহৎ কর্মসূচি পালন করবে। ক্ষমতাসীন দলের নেতাকর্মীরা যদি বাধা দেয়, সংঘর্ষ জড়ায়, তাহলে বিএনপিও পাল্টা প্রতিরোধ গড়ে তুলবে বলে দাবি করা হচ্ছে। এখন সরকারের উপর পরিস্থিতি নির্ভর করছে। শান্তিপূর্ণভাবে কর্মসূচি পালন করতে পারলে গণতান্ত্রিক কর্মসূচির মধ্যেই বিএনপি সীমাবদ্ধ থাকবে। আর যদি বাধা পায় তাহলে ঢাকামুখী হরতাল-অবরোধের মতো কঠোর কর্মসূচির কথাও শোনা যাচ্ছে। দলীয় নেতাকর্মীদের ঢাকায় রেখে সিরিজ কর্মসূচি নিয়ে পরিকল্পনা ঠিক করছে তারা। 

বিএনপির ঢাকা মহানগর উত্তরের নির্ভরযোগ্য সূত্রে জানা গেছে,  ২৮ তারিখ বাধা পেলে আটটি স্পটে অবস্থানের জন্য কেন্দ্র নির্দেশের আলোকে প্রস্তুতি নিচ্ছে তারা। প্রতিটি স্থানেই প্রায় লক্ষাধিক লোকের টার্গেট নেয়া হয়েছে। এর মধ্যে প্রথম স্পট রয়েছে মালিবাগ রেলগেট। এই স্থানে আরও কাজ করবে পল্লবী, রূপনগর ও ভাষানটেক। দ্বিতীয় স্পট মগবাজার— এখানে বনানি, গুলশান ও ক্যান্টনমেন্ট জোন কাজ করবে। তৃতীয় শাহবাগ— এখানে মোহাম্মদপুর, আদাবর, শেরেবাংলা নগর জোন মাঠে থাকবে। চতুর্থ, বাড্ডা সুবাস্তু নজরভ্যালি— এখানে  বাড্ডা, ভাটারা, রামপুরা ইউনিট কাজ করবে। পঞ্চম স্পট— আবুল হোটেল। এখানে উত্তরা পূর্ব, উত্তরখান, দক্ষিণখান মাঠে থাকবে। ষষ্ঠ— সাত রাস্তা। এখানে তুরাগ, উত্তর পশ্চিম, বিমানবন্দর, খিলক্ষেত জোন কাজ করবে। সপ্তম— বাংলা মোটর। এখানে হাতিরঝিল, তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল মাঠে থাকবে। অষ্টম— কারওয়ান বাজার। এখানে মিরপুর, শাহআলী, দারুসসালাম, কাফরুল ইউনিট মাঠে থাকবে।  

মহানগর দক্ষিণেও গুরুত্বপূর্ণ আটটি স্পটে ভাগ করা হয়েছে। এর মধ্যে প্রথম স্পট রয়েছে পল্টন। এই শাখায় মাঠেও থাকবে মতিঝিল শাহজাহানপুর জোন। সবুজবাগে থাকবে খিলগাঁও, মুগদা জোন। রমনায় শাহবাগ জোন। নিউমার্কেট থাকবে হাজারীবাগ, কলাবাগান, ধানমন্ডি জোন। চকবাজারে লালবাগ, কামরাঙ্গীরচর জোন। সুত্রাপুরে গেণ্ডারিয়া, ওয়ারী, কোতোয়ালি ও বংশাল জোন। শ্যামপুরে কদমতলী ইউনিট। এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত ডেমরায় কোন জোন মাঠে থাকবে তা জানা যায়নি। 

সংশ্লিষ্ট বিষয়ে জানতে চাইলে বিএনপির দপ্তরের দায়িত্বে নিয়োজিত সাইদুর রহমান মিন্টু আমার সংবাদকে বলেন, ওই রকম স্পটে অবস্থানের জন্য আমাদের কোনো টার্গেট বা তালিকা হচ্ছে না। সমাবেশ বাস্তবায়নে আমাদের প্রতিবারই আটটি জোনের কিছু দায়িত্ব ভাগ করে দেয়া হয়। ওই তালিকা আমাদের সাংগঠনিক শৃঙ্খলার জন্য হয়ে থাকে। গণমাধ্যমে আসার মতো কোনো তালিকা নয়। ২৮ অক্টোবর বিএনপির কর্মসূচির বিষয়ে জানতে চাইলে বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান আহমেদ আজম খান বলেন, আওয়ামী লীগ বলেছে সভা করতে দেবে না। তারা বলে আমাদের নাকি গরুর হাটে পাঠানো হয়েছিল। এবার কোন হাটে পাঠাই দেখেন। সরকার এমন কথা বলছে, সাধারণ মানুষের ভেতর চিন্তা তৈরি হচ্ছে। পুরো জাতি ২৮ তারিখ নিয়ে চিন্তায় আছে। বিএনপি শান্তিপূর্ণ সমাবেশ করবে। সেখানে সরকারের উসকানিমূলক বক্তব্যেই বোঝা যায়, তারা সহিংসতার আশ্রয় নিতে পারে। আমরা শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি পালন করব। তারা যদি বাধা দেয় তাহলে প্রতিরোধে যেকোনো পরিস্থিতির জন্য সরকার দায়ী থাকবে। 

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বছেন, সোজা কথা আমরা ২৮ অক্টোবর মহাসমাবেশ করব। নয়াপল্টনে বাধা পেলে কর্মসূচি সারা ঢাকার অলিগলিতে ছড়িয়ে পড়বে। যার যা আছে তাই নিয়ে আমরা লড়াই করব, সেদিন প্রত্যেক মানুষ ঘরের দরজা খুলে রাস্তায় নেমে আসবে। সরকার হয়তো এখন টের পাচ্ছে না সেদিন টের পাবে। ২৮ অক্টোবর বিএনপির মহাসমাবেশ নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনেই অনুষ্ঠিত হবে বলে জানিয়েছেন দলটির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী। 

তিনি বলেন, শনিবার ঢাকায় নয়াপল্টনস্থ বিএনপি কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে মহাসমাবেশ অনুষ্ঠানের সব প্রস্তুতি প্রায় সম্পন্ন। এটিই আমাদের উপযুক্ত জায়গা। এখানে আমরা একাধিকবার শান্তিপূর্ণভাবে সমাবেশ করেছি। এই মহাসমাবেশ হবে নজিরবিহীন, ঐতিহাসিক। সারা দেশের গণতন্ত্রহারা বঞ্চিত মানুষ ঢাকার দিকে ছুটে আসার দৃঢ় প্রত্যয় নিয়েছে। যদিও সরকারি জুলুম নির্যাতন দমন-পীড়নের কোনো কমতি নেই। অব্যাহত গণগ্রেপ্তারের মধ্যেও দীপ্ত অঙ্গীকারে তারা ঢাকার দিকে ছুটে আসছে।