- ইসি ভবন ঘিরে বিশেষ নিরাপত্তা, র্যাব-পুলিশ ছাড়াও ৮ প্লাটুন বিজিবি মোতায়েন
- সারা দেশে ২১৪ প্লাটুন বিজিবি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর টহল
- গুরুত্বপূর্ণ এলাকা ও স্থাপনা ঘিরে নিরাপত্তা জোরদার
- ২৪ ঘণ্টা দায়িত্ব পালনের নির্দেশ পুলিশ সদস্যদের
কোথায় বসে ষড়যন্ত্র চলছে তা জানি ইসির নির্দেশনা পেলেই গ্রেপ্তার
—হারুন-অর রশিদ গোয়েন্দা প্রধান
আন্দোলনের নামে নৈরাজ্য বা বিশৃঙ্খলায় কঠোর ব্যবস্থা
—হাবিবুর রহমান
কমিশনার, ডিএমপি
আসন্ন দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণাকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট উত্তেজনা কিংবা যেকোনো রাজনৈতিক দাঙ্গা-হাঙ্গামা দমনে কঠোর অবস্থানে রয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। ঢাকা ছাড়াও সারা দেশেই যেকোনো পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে একই অবস্থানের তথ্য জানা গেছে। তফসিলের বিরোধিতা করে ইতোমধ্যে বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলো বিভিন্ন কর্মসূচির ঘোষণা দিচ্ছে।
গতকালও রাজধানীতে তফসিলবিরোধী মিছিল বের করে একাধিক রাজনৈতিক দল। ইসলামী আন্দোলনও নির্বাচন কমিশন ভবন অভিমুখে ঘেরাওয়ের উদ্দেশ্যে বড় ধরনের মিছিল বের করে। যা শান্তিনগর এলাকায় গেলে পুলিশের বাধার মুখে ফিরে যেতে বাধ্য হয়। তবে তফসিলবিরোধী এমন কর্মসূচি থেকে সহিংসতা ছড়াতে পারে— এমন আশঙ্কায় কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। শুধু তাই নয়, যেকোনো ধরনের নাশকতা এড়াতে জোরদার করা হয়েছে নির্বাচন কমিশন ভবনের নিরাপত্তাও। ভবন ঘিরেই মোতায়েন করা হয়েছে র্যাব-পুলিশের পাশাপাশি আট প্লাটুন বিজিবি। বাড়ানো হয়েছে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কাজী হাবিবুল আউয়ালের নিরাপত্তা ব্যবস্থা। এছাড়াও রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় নিরাপত্তার স্বার্থে সতর্ক অবস্থানে রয়েছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।
ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) সূত্রে জানা যায়, তফসিল ঘোষণাকে কেন্দ্র করে রাজধানীতে নাশকতার আশঙ্কা রয়েছে। তাই যেকোনো ধরনের নাশকতা ও সহিংসতা রোধে নিরাপত্তা ব্যবস্থা বাড়িয়েছে ডিএমপি। সরেজমিন দেখা গেছে, নির্বাচন কমিশন ভবনের চারপাশে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর টহল। নির্বাচন ভবনে ঢুকতে হলেও গেটের সামনে পুলিশি জেরা অতিক্রম করতে হচ্ছে সবাইকে। পাশাপাশি পুলিশি টহলও বাড়ানো হয়েছে। কিছুক্ষণ পরপরই পুলিশ, র্যাব, বিজিবির গাড়ির টহল দিতে দেখা গেছে।
জানা গেছে, ২৪ ঘণ্টা দায়িত্ব পালনের মানসিকতা নিয়ে মাঠ পর্যায়ে থাকার নির্দেশ দেয়া হয়েছে পুলিশ সদস্যদের। এছাড়া ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা চিহ্নিত করে প্রয়োজনে সেখানে ড্রোন ব্যবহারের নির্দেশনাও দেয়া হয়েছে। তফসিলকে কেন্দ্র করে নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে ডিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) ড. খ. মহিদ উদ্দিন বলেন, যেকোনো প্রোগ্রাম বা অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে আমাদের সবসময়ই নিরাপত্তা ব্যবস্থা থাকে। তফসিলকে কেন্দ্র করে এর আগে এবং পরে পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা থাকবে ঢাকা শহরে। তফসিলকে কেন্দ্র করে নাশকতার আশঙ্কা উড়িয়ে দেয়া যাচ্ছে না। তবে আমাদের পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা থাকবে। জনগণের জানমাল রক্ষার্থে যা যা করণীয় তা আমরা করব।
এদিকে তফসিল ঘোষণাকে কেন্দ্র করে গোয়েন্দা নজরদারি ও নিরাপত্তা জোরদার করেছে র্যাব। এছাড়া তফসিল ঘোষণার পর স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, নির্বাচন কমিশন ও পুলিশ সদরদপ্তরের নির্দেশনা অনুযায়ী কাজ করবে র্যাব। এ বিষয়ে র্যাবের লিগ্যাল অ্যান্ড মিডিয়া উইংয়ের সহকারী পরিচালক আ ন ম ইমরান খান বলেন, নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সার্বিকভাবে র্যাবের টহল বৃদ্ধি করা হয়েছে। তফসিল ঘোষণার পর কেউ যেন নাশকতা ও সহিংসতা করতে না পারে সেই লক্ষ্যে র্যাব টহল ও নজরদারি জোরদার করেছে।
এদিকে তফসিল ঘোষণাকে কেন্দ্র নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। সারা দেশে ২১৪ প্লাটুন বিজিবি মোতায়েন করা হয়েছে। এর মধ্যে রাজধানীতে ৩৩ ও সারা দেশে ১৮১ প্লাটুন। এ বিষয়ে বিজিবি সদর দপ্তরের জনসংযোগ কর্মকর্তা (পিআরও) শরিফুল ইসলাম বলেন, পোশাক কারখানার নিরাপত্তা জোরদারে ঢাকা ও আশপাশের জেলায় ৩৩ প্লাটুন বিজিবি মোতায়েন করা হয়েছে। এছাড়া সারা দেশে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ১৮১ প্লাটুন বিজিবি মোতায়েন রয়েছে।
বিজিবির লেফটেন্যান্ট কর্নেল রেদওয়ানুল ইসলাম জানান, ৮ প্লাটুন (প্রতি প্লাটুনে ২০ জন সশস্ত্র সদস্য) জওয়ান নিয়ে নির্বাচন কমিশন ভবনের চারপাশে তারা সতর্ক অবস্থানে রয়েছেন। গতকাল সকাল থেকেই বাংলাদেশ পর্যটন কর্পোরেশনের সামনের রাস্তা ছাড়া নির্বাচন ভবনের আশপাশের সব রাস্তা বন্ধ করে দেয় পুলিশ। যেকোনো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা রোধ করতে এপিসি, জলকামান নিয়ে অবস্থান নেয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। এছাড়া র্যাবের কয়েকটি টিমকেও কড়া নজর রাখতে দেখা গেছে। বিজিবিও টহল দিচ্ছে। নির্বাচন ভবনে পরিচয়পত্র ছাড়া কাউকেই প্রবেশ করতে দেয়া হচ্ছে না।
তফসিল ঘোষণাকে কেন্দ্র করে কেউ নৈরাজ্য সৃষ্টি করতে চাইলে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে জানিয়েছেন ঢাকা মহানগর পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগের প্রধান মোহাম্মদ হারুন অর রশীদ। তিনি বলেন, ‘তফসিলকে ঘিরে কেউ যদি সমাজে নৈরাজ্য সৃষ্টি করতে চায়, জনমনে আতঙ্ক সৃষ্টি করতে চায় এবং কোনো স্বার্থান্বেষী মহল বাধাগ্রস্ত করতে চায়; যেহেতু আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী তফসিলের পর নির্বাচন কমিশনের দিক-নির্দেশনায় আমরা কাজ করি যারা সমাজে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করবে, জনসাধারণ এবং সরকারের সম্পত্তি নষ্ট করবে, নৈরাজ্য সৃষ্টি করবে এবং বিভিন্ন জায়গায় অগ্নিসংযোগের চেষ্টা করবে, কমিশনের নির্দেশে তাদের বিরুদ্ধে আমরা আইনগত কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করব।’ তিনি আরও বলেন, ‘আমরা জানি, কোন গোষ্ঠী বা কোন চক্র, স্বার্থান্বেষী মহল কোথায় বসে কোথায় ভিডিওতে কথা বলছে।
ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি) কমিশনার হাবিবুর রহমান বলেন, নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে যা যা করা প্রয়োজন, পুলিশ তাই করবে। আন্দোলনের নামে কোনো নৈরাজ্য বা বিশৃঙ্খলা হলে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে। নিয়মতান্ত্রিকভাবে আন্দোলন হলে পুলিশ সে আন্দোলনে সহযোগিতা করবে। গতকাল ইসি ভবনে ডিএমপি কমিশনার এসব কথা বলেন। এর আগে তফসিলের নিরাপত্তার বিষয়ে কাজী হাবিবুল আউয়াল নেতৃত্বাধীন কমিশনের সঙ্গে বৈঠক করেন তিনি। ডিএমপি কমিশনার বলেন, তফসিল ঘিরে নিরাপত্তা ব্যবস্থা দেখার জন্য ইসিতে এসেছি, নিয়মতান্ত্রিকভাবে আন্দোলন হলে পুলিশ সে আন্দোলনে সহযোগিতা করবে। আন্দোলনের নামে যদি বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করতে চায় তাহলে আইনগত ব্যবস্থা নেবে পুলিশ।
আমার সংবাদের সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন