কূটনীতিকপাড়ায় বিএনপির অভিযোগ

আবদুর রহিম প্রকাশিত: নভেম্বর ২৩, ২০২৩, ১১:৫০ পিএম
কূটনীতিকপাড়ায় বিএনপির অভিযোগ
  • গণমাধ্যমে প্রকাশিত সংবাদ ও বিশেষ ডকুমেন্ট উপস্থাপন
  • গাড়িতে অগ্নিসংযোগের ঘটনায় নিরপেক্ষ তদন্ত দাবি
  • ২৮ অক্টোবর পুলিশ হত্যা, বিচারপতির বাড়িতে হামলার জন্য আ.লীগকে দায়ী
  • আটক নেতাদের সাজা ও মানবাধিকার লঙ্ঘন করে চলছে নির্যাতন

কূটনৈতিক দপ্তরে বিশেষ চিঠি দিয়েছে বিএনপি। বাংলাদেশের বিভিন্ন দূতাবাসে গত বুধ ও বৃহস্পতিবার পাঠানো চিঠিতে বিএনপি জানায়, তারা জনগণের ভোটাধিকার নিশ্চিত, সুশাসন প্রতিষ্ঠা, অর্থনৈতিক মুক্তির জন্য শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি পালন করে আসছে। কিন্তু ক্ষমতাসীন দল ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা বিরোধী রাজনৈতিক দলের উপর দায় চাপাতে বিভিন্ন যানবাহন ভাঙচুর ও গাড়িতে আগুন দিচ্ছে। এ নিয়ে দেশের প্রথম সারির কয়েকটি গণমাধ্যমে প্রকাশিত সংবাদ ও বিশেষ ডকুমেন্টও তুলে দেয়া হয়। চিঠিতে বলা হয়, আওয়ামী লীগের অগ্নিসংযোগ ও নৃশংসতা পুরোনো রাজনৈতিক নীতির অংশ। যারা গণতন্ত্রের জন্য লড়াই করে ক্ষমতাসীন দল তাদের দমিয়ে রাখতে সব সময় আক্রমণাত্মক রাজনৈতিক উদ্দেশ্য বাস্তবায়ন করে থাকে। এ সব ঘটনায় বিএনপি নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানায়। দেশব্যাপী চলমান ক্র্যাকডাউনের মাধ্যমে বিরোধীদের নির্মমভাবে দমন করায় সাধারণ নাগরিক আতঙ্কিত বলেও উল্লেখ করা হয়। 

উল্লিখিত চিঠিতে বলা হয়— ধারাবাহিক বানোয়াট মিথ্যা মামলায় মানুষ এখন ফ্যাসিবাদ আতঙ্কে ভুগছে। বিএনপি বিশ্বাস করে, রাজনীতি মানেই জনগণের সেবা করা। কিন্তু বিরোধী রাজনীতিতে এখন এমন একটি পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে, মানুষ এখন ফ্যাসিবাদ আতঙ্কে আত্মগোপনে চলে যাচ্ছে। ক্ষমতার জন্য পরিকল্পিতভাবে বিশেষ ব্যক্তিদের হত্যার অভিযোগও তুলে বিএনপি। সরকারি-বেসরকারি সম্পত্তিতে হামলা এবং অগ্নিসংযোগের মাধ্যমে একটি ভয়ের দৃশ্যপট তৈরি করা হয়েছে। যারাই প্রতিবাদ করছে তাদেরকে হামলা অগ্নিসংযোগের ঘটনায় আসামি করা হচ্ছে। যা মানুষের জীবনের মূল্য ও মানবাধিকার লঙ্ঘন। দুর্ভাগ্যবশত হলেও সত্য, আওয়ামী লীগের একটি ভয়াবহ ইতিহাস রয়েছে। রাজনৈতিক সুবিধার জন্য অগ্নিসংযোগের হামলা, যা অনেক ঘটনায় স্পষ্ট। সরকারের কৌশলগত নীলনকশার অংশ হিসেবে ২৮ অক্টোবর বিএনপির মহাসমাবেশের পর পুলিশ মামলা করে। বিএনপির হাজার হাজার নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে অসংখ্য মামলা এবং এ পর্যন্ত প্রায় ১৪ হাজার গ্রেপ্তার হয়েছে। পুলিশ সদস্যকে হত্যা, বোমা বিস্ফোরণ, ভাঙচুর, প্রধান বিচারপতির বাড়িতে অগ্নিসংযোগ, পুলিশের অস্ত্র ছিনতাই এসব কিছুর মধ্যে ক্ষমতাসীন দল জড়িত বলেও অভিযোগ করা হয়। 

রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতায় অগ্নিসংযোগ : প্রত্যেক দিন অগ্নিসংযোগসহ আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে বিরোধী নেতাকর্মীদের সাজা দেয়া ক্ষমতাসীন দলের মাস্টার প্ল্যান বলেও উল্লেখ করা হয়। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী অসহায় হয়ে নীরব দর্শক হয়ে গেছে। একটি গণমাধ্যমের খবরের উদ্ধৃতি দিয়ে বলা হয়, অনেক অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর উপস্থিতিতে এসব ঘটনা ঘটছে। সেখানে কয়েকটি ঘটনা তুলে ধার হয়। পুলিশের উপস্থিতির কয়েক গজের মধ্যে ঘটনা ঘটছে, পুলিশ এগিয়ে আসছে না। কোথাও কোথাও পুলিশ সাধারণ মানুষদেরও আগুন নেভাতে বাধা দিচ্ছে বলে শোনা গেছে। আবার যারা আগুন দিচ্ছে তাদের কারো কারো গায়ে পুলিশের পোশাক রয়েছে বলেও উল্লেখ করা হয়। শুধু প্রশাসন নয়, আগুন দেয়ার ঘটনায় আওয়ামী লীগ নেতারাও জড়িত। কয়েকটি গণমাধ্যমে এমন সংবাদ প্রকাশ হয়েছে— আগুন দেয়ার ঘটনায় আটক ব্যক্তি ক্ষমতাসীন দলের বড় পদবি পরিচয় বহন করছে। এ ছাড়া অতীতে বহু আন্দোলনে আগুন দেয়ার সময় ক্ষমতাসীন দলের বহু নেতা আটক হয়েছে, গণমাধ্যমে প্রকাশিত এমন কয়েকটি সংবাদ যোগ করা হয়।

এ ছাড়া সরকার বিরোধীদলীয় নেতাকর্মীদের আটক করে মানবাধিকার লঙ্ঘন করে নির্যাতন করা হচ্ছে বলেও অভিযোগ তোলা হয়। সব আইন উপেক্ষে করে  মারধর; বৈদ্যুতিক শক; ওয়াটারবোর্ডিং; ইচ্ছাকৃতভাবে পঙ্গু করার জন্য গুলি করা, হাঁটু-ক্যাপিংসহ; উপহাস মৃত্যুদণ্ড এবং জোরপূর্বক নগ্ন করা হচ্ছে। এ ছাড়া তড়িঘড়ি করেই আটককৃত নেতাদের সাজা দেয়া হচ্ছে। জোরপূর্বক স্বীকারোক্তি আদায় করা হচ্ছে এবং দলীয় শীর্ষ নেতাকর্মীদের আটক করে বাড়ি বাড়ি গিয়ে অভিযান চালিয়ে একটি ভয়ের পরিবেশ তৈরি করা হয়েছে। একটি ভীতিকর পরিস্থিতিতে বিরোধী দলের নেতাকর্মীরা দিন যাপন করছেন। যারা মারা গেছেন, বিদেশ থাকেন তাদেরকে সরকার মামলা দিচ্ছে এমন কিছু তথ্য তুলে ধরা হয়। 

এ বিষয়ে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেন, ‘গণতন্ত্র ও ভোটাধিকার পুনরুদ্ধারের আন্দোলনে অনিবার্য সফলতার দিকে ধাবিত হচ্ছে বিএনপি। আমাদেরচলমান শান্তিপূর্ণ ও অহিংস আন্দোলনে জনগণের স্বতঃস্ফূর্ত সমর্থন ও অংশগ্রহণে ফ্যাসিস্ট সরকার ভীত ও শঙ্কিত। তাই আন্দোলনকে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করবার জন্য, রাষ্ট্রযন্ত্রকে অপব্যবহার করে, আওয়ামী লীগ যে অগ্নিসন্ত্রাস ও সহিংসতা করছে, বিএনপি তার তীব্র নিন্দা ও ধিক্কার জানায়। আমরা প্রতিটি সন্ত্রাসী ঘটনার সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানাচ্ছি। আইন প্রয়োগকারী কতিপয় চিহ্নিত দলদাস সদস্য এবং ক্ষমতা কুক্ষিগত করে রাখা আওয়ামী লীগের সন্ত্রাসী কর্মীদের যে যে ধ্বংসযজ্ঞ দেশজুড়ে পরিলক্ষিত হচ্ছে, আমরা তার তীব্র প্রতিবাদ করছি। 

মূলত, নিপীড়ন নির্যাতনের মাধ্যমে বিরোধী দলকে নির্মমভাবে দমন করবার জন্য, নিজেরাই অগ্নিসন্ত্রাসের মাধ্যমে একটি পরিকল্পিত অরাজকতা সৃষ্টি করছে জনবিচ্ছিন্ন সরকার।’ তিনি বলেন, ‘গোটা বাংলাদেশের মানুষ আজ ফ্যাসিবাদের নির্মম নিষ্পেষণে একাধারে আতঙ্কিত ও ক্ষুব্ধ। ক্ষমতার মোহে আওয়ামী অপশক্তি আজ সুপরিকল্পিতভাবে মানুষ হত্যা করছে, সরকারি-বেসরকারি সম্পত্তি ধ্বংস করছে। তারা অগ্নিসংযোগের মাধ্যমে সর্বত্র একটি ভীতিকর পরিবেশ তৈরি করছে।’