এবারও সব বই ছাড়াই ‘উৎসব’

মো. নাঈমুল হক প্রকাশিত: ডিসেম্বর ১৪, ২০২৩, ০৯:৪১ এএম
এবারও সব বই ছাড়াই ‘উৎসব’
  • প্রাথমিকের শতভাগ বই উপজেলা পর্যায়ে
  • অষ্টম ও নবম শ্রেণির চার বই এখনো ছাপাখানায় যায়নি
  • উৎসবের আগে অষ্টম-নবমের অর্ধেকের মতো বই ছাপা বাকি থাকবে

বই লেখা ও ছাপানোর ক্ষেত্রে কর্তৃপক্ষের দায়িত্বশীলতার পরিচয় দেয়া উচিত

—ড. ছিদ্দিকুর রহমান, শিক্ষাবিদ

এবারও জানুয়ারির ১ তারিখে বই উৎসব হবে। বই উৎসব উপলক্ষে শিক্ষার্থীদের মাঝে নতুন বই পাওয়ার আনন্দ কাজ করে। কিন্তু এবারও বই উৎসব সব বই নিয়ে হবে না। কারণ, অষ্টম ও নবম শ্রেণির চারটি বই এখনো লেখাই শেষ হয়নি। সর্বশেষ তথ্য মতে, নবম-অষ্টমের অর্ধেকের কম বই ছাপা হয়েছে। অর্থাৎ এই দুই শ্রেণির অর্ধেকের বেশি মতো বই এখনো ছাপা হয়নি। এ নিয়ে এনসিটিবির কর্মকর্তারা প্রেস মালিকদের পক্ষ থেকে বিড়ম্বনার কথা বলছেন। যদিও প্রেস মালিকরা দোষ দিচ্ছেন এনসিটিবির। তবে শিক্ষাবিদরা বলছেন, শিক্ষার্থীদের প্রকৃত পড়ার সময় বই পাওয়া উচিত। বই লেখা ও ছাপানোর ক্ষেত্রে কর্তৃপক্ষের আরও দায়িত্বশীলতার পরিচয় দেয়া উচিত।  

জানা যায়, নির্বাচনের কারণে বই উৎসব পেছানোর নানা গুঞ্জন শোনা গেলেও শেষ পর্যন্ত ১ জানুয়ারি বই উৎসব হবে। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশেই এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। গত ২৬ নভেম্বর এক অনুষ্ঠানে শিক্ষামন্ত্রী জানান, নির্বাচনের কারণে বই উৎসবটা এবার ১০-১১ তারিখেও হতে পারে। এ নিয়ে বিভিন্ন স্থানে আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়। ফলে গতকাল এনসিটিবি, শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও অন্যান্য কর্মকর্তাদের এক বৈঠকে ১ জানুয়ারি বই উৎসব করার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। 

এনসিটিবির কর্মকর্তারা জানান, এবারের বই উৎসবের জন্য প্রাথমিকের শতভাগ বই উপজেলা পর্যায়ে পৌঁছেছে। ষষ্ঠ ও সপ্তম শ্রেণির বইয়ের কাজও শেষের দিকে। কিন্তু অষ্টম শ্রেণির একটি ও নবম শ্রেণির তিনটি বই এখনো ছাপাখানায় যায়নি। বইগুলো হলো— নবম শ্রেণির ইতিহাস ও সামাজিক বিজ্ঞান, বিজ্ঞান অনুশীলন এবং বিজ্ঞান অনুসন্ধানী পাঠ। আর অষ্টম শ্রেণির ইতিহাস ও সামাজিক বিজ্ঞান বই। একই সঙ্গে নবম শ্রেণির ২৮ ও অষ্টম ৩৮ শতাংশ বই ছাপানো হয়েছে। বই উৎসবের আগ পর্যন্ত সব বই ছাপানো নিয়ে দেখা দিয়েছে শঙ্কা। যদিও এনসিটিবির কর্মকর্তারা দায় দিচ্ছে প্রেস মালিকদের। এ ব্যাপারে এনসিটিবির চেয়ারম্যান বলেন, অনেক প্রেস মালিক যথাসময়ে বই ছাপালেও কয়েকজন মালিক দেরি করছেন। তাদের কারণেই দেরি হয়েছে। তারা যদি না পারেন, তাহলে অন্য মালিকদের হাতে আমরা দিব। যদিও কয়েকজন প্রেস মালিক নাম না প্রকাশ করার শর্তে বলেছেন, এনসিটিবি আমাদের কাজই দিয়েছে ১ মাস হয়নি। তারা দেরি করায় আমাদেরও দেরি হচ্ছে। নিয়ম অনুযায়ী আমাদের ৫০ দিন সময় দেয়ার কথা। 

বই উৎসব ও দেরিতে বই ছাপানোর কারণ জানিয়ে এনসিটিবির চেয়ারম্যান অধ্যাপক ফরহাদুল ইসলাম বলেন, প্রতিবছর বই উৎসব ১ তারিখেই হয়। এবার নির্বাচনের কারণে বই উৎসব পেছানোর কথা থাকলেও প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশেই যথাসময়ে বই উৎসব হবে। বই নিয়ে সমালোচনার কথা জানিয়ে গত বছর কয়েকটি বই নিয়ে তুমুল সমালোচনা হয়েছে। এবছরও যাতে এরকম না হয় সেজন্য এবার খুব সাবধানতার সঙ্গে কাজ করা হচ্ছে। সেজন্য একটু বেশি সময় লাগছে। যদিও এ ব্যাপারে ভিন্ন কথা বলছেন শিক্ষাবিদরা। 

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও গবেষণা বিভাগের সাবেক পরিচালক ড. ছিদ্দিকুর রহমান আমার সংবাদকে বলেন, বই লেখা ও ছাপানোর জন্য এনসিটিবি ১২ মাস সময় পেয়েছে। তাদের একটি বইয়ের লেখক ৮-১০ জন। এরপরও এতো সময় কেন লাগবে? শিক্ষার্থীদের পড়ার প্রকৃত সময় জানুয়ারি থেকে মার্চ মাস পর্যন্ত। এ সময় নির্বিঘ্নে তারা পড়তে পারে। আবহাওয়া থাকে অনুকূল। অথচ এ সময়টা শিক্ষার্থীদের বই পেতেই কেটে যায়। এ ব্যাপারে কর্তৃপক্ষের আরও দায়িত্বশীল হওয়া উচিত।