৩০ মেগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনে যাচ্ছে কেপিসিএল

মহিউদ্দিন রাব্বানি প্রকাশিত: জানুয়ারি ১১, ২০২৪, ১২:৪৩ এএম
৩০ মেগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনে যাচ্ছে কেপিসিএল

মুনাফা বাড়াতে সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনের দিকে এগোচ্ছে কোম্পানিটি 
—নুরুজ্জামান মিয়া, প্রধান আর্থিক কর্মকর্তা, কেপিসিএল

নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সেবা প্রদানে নানা উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেল-গ্যাসের চড়া দাম ও দেশে ডলার সংকটে বিকল্প নবায়নযোগ্য জ্বালানি ও দেশীয় গ্যাসকূপ খননের দিকে নজর সরকারের। টেকসই পরিকল্পনার অংশ হিসেবে ৩০ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্র স্থাপনের উদ্যোগ নিয়েছে খুলনা পাওয়ার কোম্পানি লিমিটেড (কেপিসিএল)। সৌরবিদ্যুৎকেন্দ্রটি স্থাপন করতে কেপিসিএল ইতোমধ্যে গাজীপুরের পাকুন্দিয়ায় ১০০ একর জমিও কিনেছে। মুনাফায় ফিরতে সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনের দিকে মনোযোগী হচ্ছে বলে কোম্পানিটি জানিয়েছে।

কেপিসিএল সূত্র জানিয়েছে, ২০২২ সালের ৩০ নভেম্বর সৌরবিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপনের অনুমোদন চেয়ে সরকারের কাছে আবেদন করেছিল। কোম্পানিটি ২০২২-২৩ অর্থবছরে লোকসান করেছে ৬৬ কোটি টাকা। যেখানে আগের বছর ২০২১-২২ অর্থবছরে মুনাফা করেছিল এক কোটি ৩০ লাখ টাকা। কোম্পানির আর্থিক বিবরণে বলা হয়, সরকারের সঙ্গে চুক্তির পুনর্নবীকরণের দুই বছর পর ২০২২ সালের মার্চ মাসে দুটি বিদ্যুৎকেন্দ্র ফের উৎপাদনে ফেরে। ‘বিদ্যুৎ নেই, অর্থ নেই’— এই নীতির অধীনে কোম্পানিটির বিদ্যুৎ ক্রয় চুক্তি সরকার আরও দুই বছরের জন্য বাড়িয়েছে। বিদ্যুৎকেন্দ্র দুটির ক্রয় চুক্তির মেয়াদ ২০২৪ সালের মার্চ মাসে শেষ হয়ে যাবে। তারপর চুক্তির মেয়াদ বৃদ্ধির জন্য আবারও দেন-দরবার করতে হবে।

এদিকে, আয়ের জন্য কোম্পানিটিকে তার সহযোগী প্রতিষ্ঠান ইউনাইটেড পায়রা পাওয়ারের ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে। যা থেকে কোম্পানিটির বার্ষিক আয় প্রায় ২৫ কোটি টাকা থেকে ৩৫ কোটি টাকা। কেপিসিএলের প্রধান আর্থিক কর্মকর্তা এইচ এম নুরুজ্জামান মিয়া বলেন, মুনাফা বাড়াতে সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনের দিকে এগুচ্ছে কোম্পানিটি। যাতে আয়ের জন্য কোম্পানিটিকে সহায়ক সংস্থার ওপর নির্ভর করতে না হয়।

উল্লেখ্য, সরকারের সঙ্গে পায়রা পাওয়ার প্ল্যান্টের এই প্ল্যান্টের মেয়াদ রয়েছে ১৫ বছরের। এর মধ্যে মাত্র দুই বছর পার হয়েছে। ১৫০ মেগাওয়াট সম্পন্ন পায়রা প্ল্যান্টের ৩৫ শতাংশের মালিক কেপিসিএল। এদিকে গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জে দেশের বৃহৎ সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্পের কাজ চলছে। বেক্সিমকো পাওয়ার সেখানে ২০০ মেগাওয়াটের এই বিদ্যুৎকেন্দ্রটি গত বছর আগস্ট মাসে প্রধানমন্ত্রী আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন। গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজেলায় অনাবাদি চরের সাড়ে ৬০০ একর জমিতে গড়ে উঠেছে দেশের সবচেয়ে বড় ও এশিয়ার অন্যতম বড় সৌরবিদ্যুৎকেন্দ্র। তিস্তা পাড়ের লাটশালা এলাকায় বিশাল এই কেন্দ্রটির নির্মাণ শুরু হয় ২০১৭ সালে। বসানো হয় সাড়ে পাঁচ লাখ সোলার প্যানেল। 

এদিকে গত বছর আগস্টে সৌরবিদ্যুৎকেন্দ্রের ট্যারিফ প্রস্তাব অনুমোদন হয়। ২০ বছর ধরে প্রতি ইউনিট ১১ টাকা দরে কিনবে সরকার। এতে মোট ব্যয় হবে ১০ হাজার ৭৬২ কোটি টাকা। রামপালে ৩০০ মেগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎকেন্দ্রের ট্যারিফ প্রস্তাব অনুমোদন করেছে সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি। এই কেন্দ্রে উৎপাদিত বিদ্যুৎ প্রতি কিলোওয়াট ঘণ্টা ১১.০৬৭ টাকা দরে কিনবে বিদ্যুৎ বিভাগ। রামপালে বৃহত্তম সৌরবিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপনে অংশীদার হবে সৌদি কোম্পানি। ৪৩০ মিলিয়ন ডলার ব্যয়ে বাংলাদেশের সর্ববৃহৎ এই সৌর বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রধান বিনিয়োগকারী সৌদি আরবের এসিডব্লিউএ পাওয়ার কোম্পানি। রামপাল কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের পাশে এই কেন্দ্র গড়ে উঠবে। এতে জমির জোগান দেবে বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড। এছাড়া, বেসরকারি খাতের কোম্পানি কম্ফিট কম্পোজিট নিট লিমিটেড বাংলাদেশ এবং ভিয়েলাটেক্স স্পিনিং লিমিটেড এই বিদ্যুৎকেন্দ্রের মালিকানায় থাকছে।