দৈনিক আমার সংবাদে প্রকাশের এক দিন পরই যমুনা লাইফ ইন্স্যুরেন্সে তার নিয়োগ নবায়নের আবেদন নামঞ্জুর
করে আইডিআরএ
রিভিউ নামঞ্জুরের চিঠি এখনও আমরা পাইনি
—বদরুল আলম খান, চেয়ারম্যান, যমুনা লাইফ ইন্স্যুরেন্স কোম্পানি
শিক্ষা সনদে অসংগতি ও আর্থিক কেলেঙ্কারির দায়ে যমুনা লাইফ ইন্স্যুরেন্স কোম্পানির মুখ্য নির্বাহীর পদ থেকে অব্যাহতি দেয়া হয়েছে কামরুল হাসান খন্দকারকে। ভুয়া শিক্ষা সনদ দাখিল করে যমুনা লাইফের সিইও পদে কামরুল হাসান খন্দকার চাকরি করে আসছিলেন। প্রশ্নবিদ্ধ শিক্ষা সনদ সম্পর্কে জানা সত্ত্বেও নিয়োগ নবায়নের জন্য নিয়ন্ত্রক সংস্থা বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন করে কোম্পানি কর্তৃপক্ষ। তবে গত ১৯ মার্চ সেই আবেদন নামঞ্জুর করে আইডিআরএ। তারপরও তিনি সিইওর দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন।
কামরুল হাসানের বিরুদ্ধে আর্থিক কেলেঙ্কারির বিস্তর অভিযোগ রয়েছে। তার নেতৃত্বে যমুনা লাইফের চট্টগ্রাম মডেল সার্ভিস সেন্টার থেকে প্রায় ৯৩ গ্রাহকের দুই কোটি ৩৪ লাখ ৯৫ হাজার টাকা স্থায়ী আমানত তথা এফডিআর হিসেবে জমা নিয়ে তা জীবন বিমায় রূপান্তর করে পলিসি হিসেবে দেখিয়ে নয়-ছয় করা হয়েছে। প্রতারণার বিষয়টি প্রকাশ পেলে নড়েচড়ে বসে বিমা খাতের নিয়ন্ত্রক সংস্থা আইডিআরএ। গ্রাহকদের আপত্তির মুখে প্রতারণার বিষয়টি তদন্ত করার সিদ্ধান্ত নেয় নিয়ন্ত্রক সংস্থাটি। আইডিআরএর আইন শাখার পরিচালক মো. আব্দুল মজিদকে সার্বিক তত্ত্বাবধানকারী করে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটিও গঠন করে নিয়ন্ত্রক সংস্থাটি। আইডিআরএর তদন্ত প্রতিবেদন বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, গ্রাহকদের বিভিন্নভাবে প্রলোভিত করা হয়। গ্রাহকদের বলা হয়, কোম্পানিতে দীর্ঘমেয়াদি এফডিআর করলে বেশি হারে সুদ পাওয়া যাবে। এর সঙ্গে বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধার আশ্বাসও দেয়া হয়। কামরুল হাসানের এ ধরনের কেলেঙ্কারির বিষয়ে ‘কামরুলের কেলেঙ্কারিতে কলঙ্কিত যমুনা লাইফ’ শিরোনামে গত রোববার আমার সংবাদে সংবাদ প্রকাশ করা হলে টনক নড়ে কোম্পানি কর্তৃপক্ষ ও নিয়ন্ত্রক সংস্থা আইডিআরএর।
শিক্ষাগত যোগ্যতার সনদপত্রের সমতাকরণ ও বৈধতার প্রত্যয়নপত্র দাখিল না করা এবং দাখিলকৃত শিক্ষা সনদ ভুয়া প্রমাণিত হওয়ায় গত ১৯ মার্চ বিমা খাতের নিয়ন্ত্রক সংস্থা আইডিআরএ কামরুল হাসান খন্দকারের নিয়োগ মঞ্জুর করেনি। কর্তৃপক্ষের পরিচালক (উপসচিব) আহম্মদ এহসান উল হান্নান স্বাক্ষরিত এ-সংক্রান্ত একটি চিঠি যমুনা লাইফ ইন্স্যুরেন্সের চেয়ারম্যানকে পাঠানো হয়। এরপরও তাকে স্বপদে বহাল রাখা হয়। কামরুল হাসান খন্দকারকে স্বপদে বহাল রাখার জন্য নানান ফন্দি-ফিকির করা হয় বলে জানা গেছে। আইডিআএর নিয়োগে সায় না দেয়ার প্রেক্ষিতে বিষয়টি পুনর্বিবেচনার জন্য নিয়ন্ত্রক সংস্থা আইডিআরএতে রিভিউ আবেদন করে যমুনা লাইফ কর্তৃপক্ষ।
গত রোববার কর্তৃপক্ষের আবেদনের প্রেক্ষিতে শুনানি শেষে যমুনা লাইফ ইন্স্যুরেন্সের মুখ্য নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) পদে কামরুল হাসান খন্দকারের নিয়োগ নবায়নের জন্য করা রিভিউ আবেদনও বাতিল করেছে আইডিআরএ। পরবর্তীতে বাধ্য হয়ে সিইওর পদ থেকে তাকে অপসারণ করে যমুনা লাইফ ইন্স্যুরেন্স কর্তৃপক্ষ।
অপরদিকে কামরুল হাসানের রিভিউ আবেদন নাকচ করার পর যমুনা লাইফের পরিচালনা পর্ষদ কোম্পানিটির চিফ মার্কেটিং অফিসার (সিএমও) মো. শামছুদ্দিনকে মুখ্য নির্বাহী পদে চলতি দায়িত্ব প্রদান করেছে। সে সঙ্গে কামরুল হাসানকে তার দায়দায়িত্ব বুঝিয়ে দিতে বলা হয়েছে।
কামরুর হাসানের রিভিউ আবেদন নামঞ্জুরের বিষয়ে কোম্পানির চেয়ারম্যান বদরুল আলম খান আমার সংবাদকে বলেন, আমরা তার নিয়োগ মঞ্জুরের রিভিউ আবেদন করেছিলাম; কিন্তু আইডিআরএ তা খারিজ করছে কি না আমরা জানি না এবং এ বিষয়ে আমাকে কিছু জানানো হয়নি। আবেদন খারিজ সম্পর্কিত কোনো চিঠিও তিনি পাননি বলে জানান। আইডিআরএর দেয়া তথ্যমতে, কামরুল হাসান খন্দকার ভারতের ইবাইস ইউনিভার্সিটি থেকে বিএসএস পাস করেন ২০১৯ সালে এবং এমবিএ করেন ২০২১ সালে। তবে কামরুল হাসান তার বিদেশি ডিগ্রির মান সমতাকরণ বা ইবাইস ইউনিভার্সিটির সনদপত্র দুটির বৈধতার বিষয়ে কোনো প্রত্যয়নপত্র দাখিল করতে পারেননি।
এদিকে কামরুল হাসানের ইবাইস ইউনিভার্সিটির সনদপত্র দুটির সঠিকতা যাচাইয়ের জন্য ২০২৩ সালের ২৫ ডিসেম্বর বিশ্ববিদ্যালয়কে চিঠি দেয় আইডিআরএ। ওই চিঠির পরিপ্রেক্ষিতে বিশ্ববিদ্যালয়টির রেজিস্ট্রার এখলাছুর রহমান গত ২১ জানুয়ারি আইডিআরএকে জানান, কামরুল হাসান খন্দকারের দুটি সনদই ফেইক (ভুয়া)।
আমার সংবাদের সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন