দেশের অর্থনৈতিক অগ্রগতির সহযাত্রী জনতা ব্যাংক

ইয়ামিনুল হাসান আলিফ প্রকাশিত: অক্টোবর ২৩, ২০২৫, ১২:১২ এএম
দেশের অর্থনৈতিক অগ্রগতির সহযাত্রী জনতা ব্যাংক

অনলাইন ব্যাংকিং, নারী উদ্যোক্তা উন্নয়ন, কৃষিখাতে অবদান রেখে জনতা ব্যাংক হয়ে উঠেছে দেশের অর্থনীতির অন্যতম চালিকাশক্তি। বাংলাদেশের ব্যাংকিং খাতে জনতা ব্যাংক পিএলসি একটি নির্ভরযোগ্য নাম।

স্বাধীনতার পর রাষ্ট্রীয় ব্যাংক হিসেবে আত্মপ্রকাশের পর থেকে জনতা ব্যাংক আজ দেশের অর্থনৈতিক অগ্রযাত্রায় অন্যতম শক্তিশালী প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়েছে। 

১৯৭২ সালে প্রতিষ্ঠিত এই ব্যাংক বর্তমানে দেশের সর্বত্র বিস্তৃত শাখা নেটওয়ার্ক, আধুনিক ডিজিটাল সেবা ও সামাজিক দায়বদ্ধতার মাধ্যমে জনগণের আস্থা অর্জন করেছে জনতা ব্যাংক। স্বাধীনতার পর ইউনাইটেড ব্যাংক লিমিটেড এবং ইউনিয়ন ব্যাংক লিমিটেড একীভূত হয়ে জনতা ব্যাংক প্রতিষ্ঠিত হয়। 

বর্তমানে ব্যাংকটি দেশব্যাপী বিভিন্ন শাখা ও এটিএম বুথ সেবা দিচ্ছে। প্রতিদিন হাজারো গ্রাহক ব্যাংকটির বিভিন্ন সেবা গ্রহণ করছেন। জনতা ব্যাংক সাধারণ জনতার জন্যই। কৃষক, ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী, চাকরিজীবী, নারী উদ্যোক্তা সবাই এখানে সমান গুরুত্ব পান। 

ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তাদের সহজ শর্তে ঋণ প্রদান করে ব্যাংকটি দেশের কর্মসংস্থান ও অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিতে বিশাল ভূমিকা রাখছে। সময় এখন প্রযুক্তির, আর জনতা ব্যাংকও ডিজিটাল ব্যাংকিং সেবায় এক নতুন দিগন্ত উন্মোচন করেছে। 

অনলাইনের মাধ্যমে এখন গ্রাহকরা ঘরে বসেই টাকা স্থানান্তর, ইউটিলিটি বিল পরিশোধ, ব্যালান্স দেখা, ঋণ পরিশোধসহ নানা কাজ করতে পারছেন। জনতা ব্যাংক শুধু ব্যবসা নয়, সমাজের কল্যাণেও অবদান রাখছে। শিক্ষা, স্বাস্থ্য, পরিবেশ ও দুর্যোগকালীন সহায়তায় ব্যাংকটি নিয়মিত ভূমিকা রাখে।

নারীর অর্থনৈতিক মুক্তি নিশ্চিত করতে বিশেষায়িত ঋণ মহিলা উদ্যোক্তা উন্নয়ন চালু রেখেছে ব্যাংকটি। এই কর্মসূচির আওতায় হাজারো নারী এখন বুটিক, হস্তশিল্প, অনলাইন ব্যাবসা, কৃষিপণ্য প্রক্রিয়াজাতকরণসহ বিভিন্ন খাতে সফলভাবে ব্যাবসা পরিচালনা করছেন। 

এছাড়া ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী, তাঁত ঋণেরও ব্যবস্থা আছে ব্যাংকটিতে। বাংলাদেশের অর্থনীতি কৃষিনির্ভর এ বিষয়টি উপলব্ধি করেই জনতা ব্যাংক কৃষকদের পাশে রয়েছে। ফসল চাষ, পশুপালন, মাছ চাষ ও কৃষিযন্ত্র কেনার জন্য সহজ শর্তে ঋণ প্রদান করে ব্যাংকটি কৃষিক্ষেত্রে নতুন গতি আনছে। প্রতি বছর হাজার কোটি টাকার কৃষি ঋণ বিতরণ করে জনতা ব্যাংক গ্রামীণ অর্থনীতির ভিত্তি আরও মজবুত করছে। প্রবাসী বাংলাদেশিদের পাঠানো রেমিট্যান্স দেশের অর্থনীতির অন্যতম ভিত্তি। 

জনতা ব্যাংক প্রবাসীদের রেমিট্যান্স সেবা দ্রুত, নিরাপদ ও স্বচ্ছভাবে পৌঁছে দিচ্ছে। বিশ্বজুড়ে পার্টনার এক্সচেঞ্জ হাউজ ও অনলাইন চ্যানেলের মাধ্যমে ব্যাংকটি রেমিট্যান্স সেবাকে আধুনিক ও নির্ভরযোগ্য করে তুলেছে। বিনিয়োগ ও শিল্পায়নেও ভূমিকা রাখছে ব্যাংকটি। 

জনতা ব্যাংক শিল্প খাতে ঋণ প্রদানের মাধ্যমে দেশের অর্থনীতিকে গতিশীল করেছে। নবায়নযোগ্য জ্বালানি, আইটি, অবকাঠামো উন্নয়ন ও টেকসই প্রকল্পে বিনিয়োগের মাধ্যমে ব্যাংকটি অগ্রগামী ভূমিকা রাখছে। কাঁচা চামড়া ক্রয়-বিক্রয়, কমার্শিয়াল রিয়েল এস্টেট ঋণের ব্যবস্থা আছে ব্যাংকটিতে। পাশাপাশি গ্রাহকদের প্রয়োজনে রয়েছে জনতা ব্যাংক একক গৃহ নির্মাণ ঋণ ও অ্যাপার্টমেন্ট ক্রয় ঋণ। 

এছাড়া পল্লী ঋণ, শিক্ষা ক্ষেত্রে ভূমিকা রাখতে শিক্ষা ঋণ, গ্রাহকদের স্বাস্থ্যসেবার কথা মাথায় রেখে জনতা কেয়ার-স্বাস্থ্যসেবা ঋণ ও  জনতা সাপোর্ট-পেনশনভোগীদের জন্য বিশেষ ঋণ ব্যবস্থা রয়েছে। রয়েছে বিভিন্ন ধরনের স্কিমও।

গ্রাহকদের সেবার মান বাড়াতে ও সুবিধার্থে এটিএম, ই জনতা, জনতা ব্যাংক পিন ক্যাশ, ওয়েব গ্রীন পিন সার্ভিস, ওয়ান স্টপ সার্ভিসসহ বিভিন্ন সেবা চালু করেছে জনতা ব্যাংক। ব্যাংকটিতে স্বচ্ছতা ও গ্রাহকদের আস্থা অক্ষুণ্ন রাখতে পরিচালনা পর্ষদ ও ব্যবস্থাপনা দল সর্বদা জবাবদিহিতা, স্বচ্ছতা ও নৈতিকতার ওপর গুরুত্ব দিয়ে কাজ করছে। আধুনিক অডিট ও রিস্ক ম্যানেজমেন্ট সিস্টেমের মাধ্যমে ব্যাংকটি গ্রাহক আস্থা বজায় রেখে চলেছে। 

এছাড়া গ্রাহক সেবা বাড়াতে নিয়মিতভাবে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের দক্ষতা বৃদ্ধির প্রশিক্ষণ দেয়ার ব্যবস্থা করছে ব্যাংকটি। ডিজিটাল ব্যাংকিং, গ্রাহকসেবা ও নেতৃত্বের দক্ষতা উন্নয়নে এসব প্রশিক্ষণ ভবিষ্যতের ব্যাংকিং কাঠামোকে আরও শক্তিশালী করছে। 

উদীয়মান ফ্রিল্যান্সিং খাতকে এগিয়ে নিতেও ব্যাংকটি কাজ করছে বলে আমার সংবাদকে জানিয়েছেন ব্যাংকটির এমডি মো. মজিবর রহমান। 

জনতা ব্যাংক এখন শুধু একটি রাষ্ট্রীয় ব্যাংক নয় বরং বাংলাদেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নের সহযাত্রী। আধুনিক সেবা, সামাজিক দায়বদ্ধতা ও গ্রাহক সেবায় জনতা ব্যাংক আজও দেশের ব্যাংকিং খাতে আস্থার প্রতীক হয়ে আছে।