- জোটের মুখপাত্র এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম
- জোটের প্রার্থীরা একই প্রতীকে নির্বাচন করতে চায় যুক্ত হতে পারে আরও দল
আগামী নির্বাচনকে ঘিরে বিভিন্ন দলের মধ্যে জোট বা সমঝোতার আলোচনা যেমন আছে, তেমনি নির্বাচনের পর সরকার গঠনের সময় সেখানে সব দলের প্রতিনিধিত্ব যাতে থাকে এরকম একটা বিষয়ও আলোচনায় উঠে এসেছে। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে যাত্রা শুরু করল জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি), রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলন ও এবি পার্টির মিলিত নতুন রাজনৈতিক প্ল্যাটফর্ম ‘গণতান্ত্রিক সংস্কার জোট’।
গতকাল রোববার বিকেলে ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে (ডিআরইউ) এক সংবাদ সম্মেলনে রোববার বিকালে ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি (ডিআরইউ) মিলনায়তনে তিন দলের নেতারা নতুন এ জোট গঠনের ঘোষণা দেন। এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম নতুন এই জোটের ঘোষণার বিষয়ে বক্তব্য পাঠ করেন। এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম নতুন জোটের মুখপাত্র হিসেবে থাকছেন।
রাষ্ট্র সংস্কারের পক্ষে জনমত গঠন ও জাতীয় নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা শক্তিশালী করতে নতুন এ জোট গঠনের ঘোষণা দেয়া হয়। রাষ্ট্র সংস্কারের পক্ষে সরব এমন আরও কিছু দল, সংগঠন, মোর্চা, প্ল্যাটফর্ম ও প্রবীণ রাজনৈতিক ব্যক্তি এ জোটে যুক্ত হবে বলে আত্মপ্রকাশ অনুষ্ঠান থেকে আশা প্রকাশ করা হয়।
নতুন রাজনৈতিক জোট ঘোষণার সময় এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম বলেন, তাদের ঐক্য প্রক্রিয়া অব্যাহত থাকবে। যারা দীর্ঘদিন ধরে সংস্কারপন্থি রাজনীতির মাধ্যমে একটি সার্বভৌম ও মর্যাদাবান বাংলাদেশ গড়ার জন্য কাজ করেছেন, তারা এই জোটে ঐক্যবদ্ধ থাকবেন।
তিনি জানান, এটি শুধু নির্বাচনের জন্য নয়- এটি একটি মূল রাজনৈতিক জোট। চব্বিশের গণঅভ্যুত্থানের পর জনগণের যে পরিবর্তনের প্রত্যাশা সৃষ্টি হয়েছিল, গত দেড় বছরে ঐকমত্য কমিশন তার পূর্ণ বাস্তবায়ন করতে পারেনি।
জোটের মুখপাত্র নাহিদ আরও জানান, এ নিয়ে তাদের অনেক হতাশা আছে, এবং যারা আন্তরিকভাবে সংস্কার চায় সে রাজনৈতিক শক্তিগুলো আজ একত্রিত হয়েছে।
রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলনের সভাপতি হাসনাত কাইয়ুম বলেন, এই আন্দোলনে যারা জীবন দিয়েছেন, তাদের প্রত্যাশা কতটা পূরণ করতে পারবে রাজনীতিবিদরা তা নির্ভর করছে আগামী নির্বাচনের ওপর।
তিনি জানান, সংস্কার বাস্তবায়নের লক্ষ্য নিয়ে তিনটি সংগঠন প্রাথমিকভাবে একসাথে যাত্রা শুরু করেছে। তার বিশ্বাস, বর্তমানে বাংলাদেশের সক্রিয় রাজনৈতিক শক্তিগুলো সংস্কারের এই আকাঙ্ক্ষাকে ধারণ করে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, একাত্তরের অপূর্ণ আকাঙ্ক্ষা ছাব্বিশের নির্বাচনেই বাস্তবে রূপ নেবে।
এবি পার্টির চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান ভূঁইয়া মঞ্জু বলেন, তরুণদের ব্যাপারে যে প্রত্যাশা ছিল তা বিভিন্ন কারণে বাধা পেয়েছে। দেশের মানুষ পুরানো রাজনীতিতে বিরক্ত এবং তারা নতুন এক রাজনৈতিক ব্যবস্থার আশা করছে। জুলাই অভ্যুত্থানের প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশকে নতুন দিশা দিতে তিনটি দল হাতে হাত মিলিয়েছে বলে তিনি জানান।
তিনি স্বীকার করেন, তাদের অনেক ভুলত্রুটি ছিল এবং যারা বিভ্রান্ত করেছে তাদের ভূমিকা পর্যালোচনা করে তারা এখন নতুন অভিযাত্রায় এগোতে চান।
কর্মসূচি নিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এবি পার্টির চেয়ারম্যান মঞ্জু জানান, নিজেদের মধ্যে বিস্তারিত আলোচনা শেষ করে শিগগিরই জোটের পূর্ণাঙ্গ কর্মসূচি প্রকাশ করা হবে।
এ সময় এনসিপির সদস্য সচিব আখতার হোসেন, মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম, সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক আরিফুল ইসলাম আদীব, এবি পার্টির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান আব্দুল ওহাব মিনার, ভাইস চেয়ারম্যান অবসরপ্রাপ্ত লে. কর্নেল দিদারুল আলম, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জোবায়ের আহমেদ ভূঁইয়া ও নাসরীন সুলতানা মিলি, রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলনের সহসভাপতি সাইদুল খন্দকার সবুজ, সাংগঠনিক সম্পাদক মোহাম্মদ সোহেল শিকদার, মৎস্যজীবী ও অবাঙালি বিষয়ক সম্পাদক শেখ নাসির উদ্দিনসহ অন্যান্য নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
আমার সংবাদের সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন