বাংলাদেশে সার বিতরণ ব্যবস্থাকে ‘সুশৃঙ্খল, জবাবদিহিমূলক ও ডিজিটাল’ করার লক্ষ্যে সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করেছে ‘সার ডিলার নিয়োগ ও সার বিতরণ সংক্রান্ত সমন্বিত নীতিমালা-২০২৫’। গত ১৩ নভেম্বর নীতিমালা প্রকাশ হওয়ার পরপরই মাঠপর্যায়ে দেখা দিয়েছে নতুন ধরনের বিতর্ক, উদ্বেগ এবং তীব্র প্রতিক্রিয়া।
সরকার বলছে, এই নীতিমালা দেশের কৃষকদের কাছে সময়মতো, সঠিক দামে এবং সঠিক পরিমাণে সার পৌঁছে দিতে যুগান্তকারী ভূমিকা রাখবে। কিন্তু ডিলার, খুচরা বিক্রেতা, আমদানিকারক, কৃষি বিশেষজ্ঞ এবং কৃষক প্রায় সব পক্ষই অভিযোগ করছেন, নীতিমালার বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া ‘অসামঞ্জস্যপূর্ণ ও অসম্ভব’ হলে দেশে কৃত্রিম সংকট, মূল্যবৃদ্ধি, কৃষি উৎপাদন ব্যাহত হওয়া এবং হাজারো ব্যবসা ধ্বংসের ঝুঁকি তৈরি হবে। এমনকী অনেকে এটিকে মাঠের বাস্তবতা উপেক্ষা করে চাপিয়ে দেয়া সিদ্ধান্ত বলে উল্লেখ করেছেন।
নীতিমালার উদ্দেশ্য : একীভূত ব্যবস্থা, জবাবদিহি, ইউনিটভিত্তিক ডিলার নিয়োগ
সরকারের ব্যাখ্যা অনুযায়ী, এই নীতিমালার মূল লক্ষ্যগুলো হবে— বিদ্যমান দুটি নীতিমালার বদলে একীভূত নীতিমালা চালু করা, বিএডিসি, বিসিআইসি ও বেসরকারি আমদানিকৃত সার বিতরণকে একই কাঠামোয় আনা।
ইউনিয়ন/পৌরসভা/সিটি কর্পোরেশনে সার ডিলার ইউনিট স্পষ্টভাবে নির্ধারণ
এক পরিবারে একাধিক ডিলারশিপ নিষিদ্ধ করা, ডিলারের কার্যক্রম মূল্যায়ন করে নবায়ন/বাতিলকরণ, খুচরা বিক্রেতা ও অনিয়ন্ত্রিত সাব-ডিলার ব্যবস্থা পুরোপুরি বন্ধ করা। সবচেয়ে আলোচিত অংশটি হলো একটি ইউনিয়ন বা পৌরসভায় প্রতিটি তিন ওয়ার্ড নিয়ে একটি ডিলার ইউনিট গঠন এবং তাতে একজন করে ডিলার নিয়োগ বাধ্যতামূলক। অর্থাৎ একটি ইউনিয়নে সর্বোচ্চ তিনজন ডিলার। সরকারের ধারণা, এতে ডিলারের সংখ্যা কমবে, বিভ্রান্তি কমবে, কৃষক সঠিক জায়গায় সঠিক ডিলারের কাছে যাবে, আর সার বিতরণ হবে সুশৃঙ্খল। কিন্তু বাস্তবতায় মাঠপর্যায়ে এটি উল্টো বড় ধরনের অস্থিরতা ও অনিশ্চয়তা তৈরি করেছে।
ডিলারদের ক্ষোভ : একটি গোডাউন চালাতে হিমশিম খাই, তিনটি পয়েন্ট পরিচালনা করা অসম্ভব। ফরিদপুরের এক সিনিয়র সার ডিলার দৈনিক আমার সংবাদকে বলেন, ‘আমরা এখন একটি গোডাউন, একজন কর্মচারী এবং ট্রান্সপোর্ট খরচ দিয়েও চলতে পারি না। সরকার প্রতিটি বস্তায় মাত্র ১০০ টাকা লাভ দেন। সেখানে তিনটি বিক্রয় কেন্দ্র চালানো অসম্ভব। দুটি অতিরিক্ত পয়েন্টে কর্মচারী, ভাড়া, পরিবহন এ সব খরচ কে দেবে?’ তার অভিযোগ, সরকার যে কাঠামো চাপিয়ে দিচ্ছে, তা বাস্তবতার ভিত্তিতে অসম্ভব। তিনি আরও বলেন, ‘সরকারের সিদ্ধান্ত ভালো হতে পারে। কিন্তু খরচ না দিয়ে তিনটি বিক্রয় কেন্দ্র পরিচালনা করা কোনো ডিলারের পক্ষেই সম্ভব নয়। এভাবে চাপ দিলে ডিলারদের ব্যবসা টিকবে না।’
ডিলার পয়েন্টে সার বিতরণের বিশৃঙ্খলা : নিয়ন্ত্রণ সংকট ও সম্ভাব্য ঝুঁকি
চুয়াডাঙ্গার একাধিক ডিলার ও কৃষকের বক্তব্যে স্পষ্ট যে, সার বিতরণ কেন্দ্রগুলোতে বর্তমানে একটি উদ্বেগজনক বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি বিরাজ করছে। উপজেলা কৃষি কর্মকর্তার নির্দেশক্রমে উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তারা যখন ডিলার পয়েন্ট থেকে কৃষকদের মধ্যে সরাসরি সার বিতরণ করেন, তখন একসঙ্গে বিপুলসংখ্যক কৃষকের উপস্থিতি তৈরি হয়। এতে কখনো কখনো তর্ক-বিতর্ক, ধাক্কাধাক্কি এমনকি মারামারির মতো অপ্রীতিকর পরিস্থিতি দেখা দেয়। ডিলারদের অভিযোগ, এ ধরনের গণ্ডগোল স্থানীয় পুলিশ প্রশাসনের পক্ষেও নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন হয়ে পড়ে।
একজন ডিলারের মতে, বর্তমান পরিস্থিতিতে যদি ইউনিয়ন পর্যায়ে তিনটি ডিলার করা হয় এবং প্রতিটি ডিলারের তিনটি করে বিক্রয় কেন্দ্র পরিচালিত হয়, তাহলে নিয়ন্ত্রণের চ্যালেঞ্জ বহুগুণে বেড়ে যাবে। কারণ বর্তমানে একটি কেন্দ্রেই যখন কৃষকরা একসঙ্গে ভিড় জমিয়ে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করেন, তখন তিনটি বিক্রয় কেন্দ্রে তা আরও জটিল হতে পারে। কৃষকদের বক্তব্যেও একই উদ্বেগ একটি পয়েন্টেই গ্যাঞ্জাম ঠেকানো কঠিন, আর তিনটি পয়েন্ট পরিচালনা করা আরও কঠিন হবে। ডিলার পয়েন্ট বৃদ্ধি করলে কৃষকের চাপ কিছুটা কমার সম্ভাবনা থাকলেও সঠিক ব্যবস্থাপনা না থাকলে ঝুঁকি আরও বেড়ে যেতে পারে। পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা, কৃষকভিত্তিক তালিকা অনুযায়ী পর্যায়ক্রমে টোকেন প্রদান, নির্দিষ্ট সময়ভিত্তিক সার বিতরণ এবং কৃষি বিভাগের কার্যকর তদারকি ছাড়া এ পরিস্থিতি স্বাভাবিক করা কঠিন।
এছাড়া আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর উপস্থিতি এবং স্থানীয় প্রশাসনের সমন্বয়ও অপরিহার্য। সারসংক্ষেপে বলা যায়, ডিলার পয়েন্ট বাড়ানোর আগে নিয়ন্ত্রণব্যবস্থা শক্তিশালী করা, বিতরণ প্রক্রিয়াকে শৃঙ্খলাবদ্ধ করা এবং কৃষকদের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধি করা অত্যন্ত জরুরি। নইলে একাধিক বিক্রয় কেন্দ্র স্থাপন করলে গণ্ডগোল আরও ভয়াবহ আকার ধারণ করতে পারে।
কৃষকের উদ্বেগ : নগদে সার কিনে চাষ করা সম্ভব নয়। কুষ্টিয়ার কৃষক তোফাজ্জেল হোসেনের বক্তব্য আরও তীব্র। তিনি বলেন, ‘আমরা ছোট কৃষক। সিজনে প্রয়োজনীয় সার পাইকারি দোকান থেকে বাকিতে নেই। ফসল বিক্রি হলে টাকা দিই। কিন্তু ডিলার পয়েন্ট থেকে নগদে সার কিনতে হবে- এটা আমাদের পক্ষে অসম্ভব।’
তিনি আরও সতর্ক করেন, ‘এভাবে দিলে কৃত্রিম সংকট তৈরি হবে। নগদ টাকা না থাকলে কেউ সার পাবে না। ফসল উৎপাদনই বাধাগ্রস্ত হবে।’ একজন কৃষকের মুখেই উঠে এসেছে সাধারণ কৃষকের বাস্তবতা। নগদ টাকা না থাকলে চাষ বন্ধ হয়ে যাবে- এটা কি সরকার ভাবছে?
কৃষক সিরাজুল ইসলাম বলেন, সরকার যদি পর্যাপ্ত সারের বরাদ্দ দেয় তাহলে একটি ডিলার পয়েন্ট থেকেই সার নেয়া বা বিতরণ করা সম্ভব। যদি সরকার পর্যাপ্ত সার বরাদ্দ না দেয় ,প্রত্যেক ইউনিয়নে ১০টা বিক্রয় কেন্দ্র করলেও কোনো লাভ হবে না আরও বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হবে।
কৃষিবিদ ইমদাদুল হক মনে করেন, নীতিমালার উদ্দেশ্য অবশ্যই ভালো। কিন্তু বাস্তবায়নের জায়গায় বড় ত্রুটি রয়েছে। ‘একটি ডিলার এখন যেমন খরচে চলে, তিনটি পয়েন্ট চালালে তার খরচ তিনগুণ বাড়বে। সরকার যদি অতিরিক্ত খরচে ভর্তুকি না দেয়, তাহলে ডিলারদের দিয়ে সার বিতরণ টিকবে না। এতে সংকট তৈরি হতেই পারে।’ তিনি দৃঢ়ভাবে বলেন, ‘যে সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নই সম্ভব নয়, তা দেশের খাদ্য নিরাপত্তায় ঝুঁকি তৈরি করবে। এভাবে চাপিয়ে দেয়ার কোনো অর্থ নেই।’
খুচরা ব্যবসায়ীদের কান্না : মাগুরার খুচরা সার ব্যবসায়ী মোহাম্মদ ইসমাইল ক্ষোভে প্রকাশ করে বলেন, ‘আমরা ৫০ বছর ধরে সার-কীটনাশকের ব্যবসা করছি। হঠাৎ করে সরকার আমাদের ব্যবসা বন্ধ করার সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করলে হাজার হাজার দোকান বন্ধ হয়ে যাবে। হাজারো পরিবার পথে বসবে।’ তার অভিযোগ, সরকার মাত্র তিন মাস সময় দিয়েছে, অথচ তাদের দোকানে কৃষকদের কাছে লাখ লাখ টাকা বাকিতে আছে। তিনি আরও বলেন, খবর পেয়ে কৃষকরা টাকা দিতে গড়িমসি করবে। আমরা কোথায় যাব? আমাদের কর্মচারীরা কোথায় যাবে? আমাদের আন্দোলন ছাড়া আর কোনো পথ থাকবে না।
আমদানিকারকের বক্তব্য : ৮০% কৃষক নগদে ডিলার পয়েন্ট থেকে সার কিনতে পারবে না। নওয়াপাড়ার একজন সার আমদানিকারক বলেন, ‘বাংলাদেশে ৮০% কৃষক খুচরা দোকানের সঙ্গে মৌসুমি চুক্তিতে সার নেন। নগদে ডিলার পয়েন্ট থেকে সার কেনা তাদের পক্ষে সম্ভব নয়। এতে বড় বিপর্যয় ঘটবে।’ তিনি আরও বলেন, ‘ডিলার পয়েন্টে অতিরিক্ত তিনটি বিক্রয় কেন্দ্র বাধ্যতামূলক করলে বিশৃঙ্খলা তৈরি হবে, বাজার অস্থির হবে।’
বাংলাদেশ ফার্টিলাইজার অ্যাসোসিয়েশনের সতর্কতা : ‘আমরা সতর্ক করেছি, কোনো কথা তারা শোনে নাই’। ফার্টিলাইজার অ্যাসোসিয়েশনের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বলেন, ‘উপদেষ্টা ও সচিব মহোদয়ের সঙ্গে মিটিংয়ে আমরা স্পষ্ট বলেছি, তিনটি বিক্রয় কেন্দ্র ডিলারদের পক্ষে চালানো অসম্ভব। এতে সারের সংকট তৈরি হতে পারে।’ কিন্তু তাদের মতে, ‘সরকার আমাদের কোনো কথাই গুরুত্ব দেয় নাই।’ ইতোমধ্যে হাইকোর্টে রিট করেছিলাম। সেই রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট ডিভিশন রুল দিয়েছিলেন, শুনানি প্রক্রিয়াধীন। যদি আদালতে সমাধান না আসে, আমরা সারা দেশে মানববন্ধন, সাংবাদিক সম্মেলন করব। ডিলাররা মাঠে নামতে বাধ্য হবে।
মাঠপর্যায়ের সম্ভাব্য সংকট : বিশ্লেষকরা বলছেন, যদি নীতিমালা হঠাৎ এভাবে চাপিয়ে দেয়া হয়, তাহলে মাঠ পর্যায়ে কয়েকটি বড় সংকট দেখা দিতে পারে
১. কৃত্রিম সার সংকট : ডিলাররা তিনটি পয়েন্ট পরিচালনা করতে না পারলে অনেক জায়গায় সার সরবরাহ বন্ধ হয়ে যাবে।
২. কৃষকের নগদ সংকট : বাকিতে সার পাওয়ার পথ বন্ধ হলে কৃষক চাষ কমাবে, ফলে উৎপাদন কমবে।
৩. খুচরা বাজারে ধস : হাজারো খুচরা দোকান বন্ধ হয়ে যাবে, এতে বড় বেকারত্ব তৈরি হবে।
৪. ডিলারদের ব্যবসায় ধস : তিনটি বিক্রয় কেন্দ্রের খরচ জোগানো অসম্ভব, ডিলাররা ব্যবসা গুটাতে বাধ্য হবে।
৫. আমদানিকারকদের ক্ষতি : বাজার সংকুচিত হওয়ায় আমদানিকারকের সরবরাহ বাধাগ্রস্ত হবে।
৬. সারা দেশে কৃষি উৎপাদন ঝুঁকিতে পড়বে : ফসলের মৌসুমে সার সংকট হলে খাদ্য উৎপাদনে বিরাট ঘাটতি সৃষ্টি হতে পারে।
নীতিমালার বিরুদ্ধে বিভিন্ন স্তরে চাপ বৃদ্ধি ডিলার, খুচরা ব্যবসায়ী, কৃষক, আমদানিকারক সব পক্ষই বলছে, নীতিমালার উদ্দেশ্য ভালো কিন্তু বাস্তবায়ন কঠিন। ফলে বিভিন্ন সংগঠন এখন চাপ তৈরি করছে।
নীতিমালা সংশোধনের দাবি- একটি বিক্রয় পয়েন্ট করার প্রস্তাব: খুচরা দোকানগুলোকে ধীরে ধীরে সিস্টেমে অন্তর্ভুক্ত করার সুপারিশ, হাইকোর্টে রিট, সম্ভাব্য আন্দোলনের ঘোষণা। এখন সরকার কী অবস্থান নেয় তা-ই দেশজুড়ে আলোচিত প্রশ্ন।
রাষ্ট্রের অবস্থান : সুশৃঙ্খল ব্যবস্থা ছাড়া ভবিষ্যৎ নেই কৃষি মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা সূত্র জানায়, সরকার সার বিতরণে জালিয়াতি, ওভার-ইনভয়েসিং, সাব-ডিলারের নৈরাজ্য, মনোপলি ভাঙতে চায়।
নীতিনির্ধারকদের ধারণা : ডিলারের সংখ্যা কমাতে হবে, বাহুল্য দূর করতে হবে, প্রতিটি ইউনিটে একজন ডিলারই যথেষ্ট, ডিজিটাল সিস্টেমে ট্রেসিং সহজ হবে। তবে মাঠে যে বিশাল প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে, তা হয়তো নীতিমালাকে সংশোধন করতে বাধ্য করতে পারে।
বিশেষ বিশ্লেষণ: বাস্তবতা বনাম সিদ্ধান্ত নীতিমালার মূল সমস্যাগুলো বিশেষজ্ঞরা চারটি ভাগে ব্যাখ্যা করেন।
১. অর্থনৈতিক অসামঞ্জস্য : একটি ডিলার পয়েন্ট চালাতে প্রতি মাসে ১-১.৫ লাখ টাকা খরচ হয়। তিনটি পয়েন্টে খরচ দাঁড়াবে ১-৩ লাখ টাকা। সার বস্তায় লাভ মাত্র ১০০ টাকা। এতে ডিলারের মুনাফা শূন্যে নেমে যাবে।
২. কৃষকের আর্থিক সীমাবদ্ধতা : বাংলাদেশের অধিকাংশ কৃষক বাকিতে সার নিয়ে চাষ করেন। নগদ ব্যবস্থা চাপিয়ে দিলে কৃষক চাষ কমাবে।
৩. খুচরা ব্যবসায়ীদের ধস : দেশে প্রায় ৩০-৫০ হাজার খুচরা সার দোকান আছে। এই দোকান বাঁচলেই গ্রামীণ অর্থনীতি বাঁচে।
৪. লজিস্টিক বাস্তবতা নেই : তিনটি বিক্রয় কেন্দ্রের জন্য আলাদা স্টোর, কর্মচারী, পরিবহন, সিকিউরিটি, ভাড়া। এ সব খরচ ডিলারের পক্ষে বহনযোগ্য নয়।
নীতিমালা কি সংশোধিত হবে
সরকারের ‘সৎ উদ্দেশ্য থাকা সত্ত্বেও মাঠের বাস্তবতা বলছে, এই নীতিমালা সংশোধন ছাড়া কার্যকর করা সম্ভব নয়। সার বিতরণ দেশের খাদ্য নিরাপত্তার মূল স্তম্ভ। এখানে কোনো ভুল সিদ্ধান্ত জাতীয় সংকট ডেকে আনতে পারে। ডিলার, খুচরা বিক্রেতা, কৃষক, আমদানিকারক- সব পক্ষই বলছে, সরকারের উচিত মাঠের বাস্তবতা বিবেচনা করে সিদ্ধান্ত সংশোধন করা।
এখন সবাই তাকিয়ে আছে- হাইকোর্টের রায়ের দিকে এবং সরকারের পরবর্তী বৈঠকের দিকে। যদি পরিস্থিতি দ্রুত সমাধান না হয়, তাহলে দেশে সার বিতরণে বড় অস্থিরতা ও কৃষি উৎপাদনে মারাত্মক ঝুঁকি তৈরি হতে পারে এমনই আশঙ্কা বিশ্লেষকদের।
আমার সংবাদের সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন