একটি দেশের মানদণ্ড যদি হয় তার খাদ্য নিরাপত্তা, তবে সেই নিরাপত্তার অতন্দ্র প্রহরী হলো কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর। বর্তমান মহাপরিচালক কৃষিবিদ মো. আব্দুর রহিমের বলিষ্ঠ নেতৃত্বে এই অধিদপ্তর এখন কেবল সেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠান নয়, বরং দেশের অর্থনৈতিক পরিবর্তনের এক শক্তিশালী ইঞ্জিনে পরিণত হয়েছে।
মাঠ পর্যায় থেকে সচিবালয় পর্যন্ত তার সুনিপুণ প্রশাসনিক সমন্বয়ে দেশের কৃষি ব্যবস্থা আজ সনাতনী ধারা ভেঙে বাণিজ্যিক ও আধুনিক রূপ লাভ করেছে।
অধিদপ্তরের শীর্ষ অভিভাবক হিসেবে মো. আব্দুর রহিম কেবল নথিপত্রে সীমাবদ্ধ নন, তার প্রতিটি কাজের মূলে রয়েছে উদ্ভাবন ও কৃষিবান্ধব মানসিকতা। সরকারের কৃষি নীতিমালাকে মাঠ পর্যায়ে প্রয়োগযোগ্য করে তোলা এবং জলবায়ু পরিবর্তনের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় স্মার্ট কৃষি প্রযুক্তি প্রবর্তনে তিনি কাজ করছেন।
গবেষণাগারে উদ্ভাবিত প্রতিটি নতুন জাত ও প্রযুক্তির সফল বিস্তার ঘটাতে তিনি সরাসরি তদারকি করেন। তার নির্দেশেই আজ চালকবিহীন আকাশযান বা ড্রোনের মাধ্যমে কীটনাশক ছিটানো বা আধুনিক ফসল কাটার যন্ত্র ব্যবহারের মতো বিষয়গুলো কৃষকের দ্বারে পৌঁছেছে।
তিনি কর্মকর্তাদের ‘সম্মুখ যোদ্ধা’ হিসেবে সম্বোধন করেন, যা মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের মধ্যে উৎসাহ ও দায়িত্বশীলতা তৈরি করেছে। বিশ্বের আধুনিক কৃষি প্রযুক্তির সাথে বাংলাদেশের মেলবন্ধন ঘটাতে তিনি বিভিন্ন দাতা সংস্থা ও আন্তর্জাতিক গবেষণা প্রতিষ্ঠানের সাথে নিবিড় যোগাযোগ রক্ষা করেন। মহাপরিচালকের দেওয়া প্রতিটি নির্দেশনা মাঠ পর্যায়ে বাস্তবায়নের জন্য একটি শক্তিশালী প্রশাসনিক চেইন কাজ করে।
অধিদপ্তরের আটটি উইংয়ের পরিচালক ও অতিরিক্ত পরিচালকগণ মহাপরিচালকের মূল পরামর্শক হিসেবে কাজ করেন। মো. আব্দুর রহিমের সরাসরি তত্ত্বাবধানে তারা মাঠ সেবা, উদ্ভিদ সংরক্ষণ ও প্রশিক্ষণ উইংয়ের মাধ্যমে দেশের সামগ্রিক কৃষির তথ্য বিশ্লেষণ করেন।
মহাপরিচালকের প্রতিনিধি হিসেবে প্রতিটি জেলায় দায়িত্ব পালন করেন উপ-পরিচালক। তারা জেলার কৃষি মহাপরিকল্পনা তৈরি করেন। কৃষকের সারের বরাদ্দ নিশ্চিত করা, উন্নত মানের বীজ সরবরাহ এবং প্রাকৃতিক দুর্যোগের সময় কৃষকের ক্ষয়ক্ষতি নিরূপণে তারা অতন্দ্র প্রহরী হিসেবে কাজ করেন। উপজেলা পর্যায়ের কর্মকর্তারা সরাসরি যুদ্ধের ময়দানে থাকা ক্যাপ্টেনের মতো।
বিসিএস কৃষি ক্যাডারের এই চৌকস কর্মকর্তারা মহাপরিচালকের ডিজিটাল ড্যাশবোর্ড অনুসরণ করে প্রতি উপজেলায় কৃষি প্রদর্শনী খামার গড়ে তোলেন।
অধিদপ্তরের উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তারাই সরাসরি কৃষকের মাটির স্পর্শে থাকেন। মো. আব্দুর রহিমের নির্দেশে তারা এখন কেবল পরামর্শক নন, বরং কৃষকের প্রযুক্তিগত সহযোগী। প্রতিটি ব্লকে থাকা এই কর্মকর্তারা কৃষকের বাড়িতে গিয়ে রোগাক্রান্ত ফসল দেখেন এবং তাৎক্ষণিক প্রেসক্রিপশন প্রদান করেন।
সহজ ভাষায় বলতে গেলে, যখন বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট কোনো লবণাক্ততা সহিষ্ণু ধানের জাত উদ্ভাবন করে, তখন কৃষিবিদ মো. আব্দুর রহিম সেই তথ্যের ভিত্তিতে দ্রুত সারা দেশের কর্মকর্তাদের কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার নির্দেশ দেন।
বর্তমান মহাপরিচালকের হাত ধরে ইলেকট্রনিক কৃষি আজ বাস্তব। মোবাইল অ্যাপের মাধ্যমে ফসলের সমস্যার সমাধান, অনলাইনের মাধ্যমে সারের চাহিদা নির্ধারণ এবং আধুনিক স্মার্ট সেচ ব্যবস্থার প্রসারে মো. আব্দুর রহিম এক অনন্য ভূমিকা পালন করছেন। তার নেতৃত্বেই বাংলাদেশের কৃষি আজ স্বয়ংসম্পূর্ণতা পেরিয়ে রপ্তানিমুখী হওয়ার স্বপ্ন দেখছে।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. আব্দুর রহিম সকল পর্যায়ের কর্মকর্তাদের জন্য নির্দেশ দিয়েছেন, যাতে নিরাপদ খাদ্য উৎপাদন নিশ্চিত হয়, খাদ্য নিরাপত্তা বজায় থাকে, কৃষকের জীবনমান উন্নয়ন হয় এবং সার্বিক কৃষি উন্নয়ন কাঙ্ক্ষিত মাত্রায় পৌঁছে।
কর্মকর্তাদের অফিস ব্যবস্থাপনা উন্নত করতে অফিসিয়াল ম্যানার মেনে কাজ করা এবং অফিস পরিবেশকে পরিচ্ছন্ন ও সৌন্দর্যবর্ধনে রাখা নিশ্চিত করতে হবে।
কর্মকর্তাদের সংশ্লিষ্ট এলাকার ফসলের সঠিক পরিসংখ্যান ও আধুনিক কৃষি প্রযুক্তি বিষয়ে নিজেদের জ্ঞান সমৃদ্ধ করতে হবে। টায়ার ভিত্তিক কৃষি সমপ্রসারণ অধিদপ্তরের সকল কার্যক্রম মনিটরিং আরও জোরদার করতে হবে। অঞ্চল, জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে সকল কর্মকর্তাদের মুভমেন্ট রেজিষ্ট্রার বাধ্যতামূলকভাবে অনুসরণ করতে হবে। পর্যায়ক্রমিক মনিটরিং, পরিদর্শন ও ইন্সপেকশনের শেষে পরিদর্শন নোট বা প্রতিবেদন তৈরি করে নিম্নস্তরে নির্দেশনা আকারে প্রেরণ এবং উপরের পর্যায়ে অবহিতকরণ নিশ্চিত করতে হবে। উপজেলা পর্যায়ের কর্মকর্তারা প্রতি মাসে কমপক্ষে ১২টি, জেলা পর্যায়ের কর্মকর্তারা ৮টি, অঞ্চল পর্যায়ের কর্মকর্তারা ৪টি এবং জাতীয় পর্যায়ের কর্মকর্তারা ২টি করে মনিটরিং, অফিস পরিদর্শন ও ইন্সপেকশন করবেন।
চলমান সকল প্রকল্পের কার্যক্রম নীতিমালা অনুসরণ করে সময়মতো সম্পাদন ও মনিটরিং জোরদার করতে হবে। কৃষকরা সরকার নির্ধারিত মূল্যে সকল প্রকার কৃষি উপকরণ সময়মতো পেতে পারবেন তা নিশ্চিত করতে হবে। সার ব্যবস্থাপনা জোরদারকরণ করতে হবে, বরাদ্দকৃত সার সময়মত উত্তোলন, সংরক্ষণ এবং সরকার নির্ধারিত মূল্যে ক্যাশমেমো ও বিক্রয় রেজিষ্ট্রার অনুসরণ করে কৃষক পর্যায়ে বিতরণ নিশ্চিত করতে হবে।
মাটির স্বাস্থ্য সুরক্ষায় জৈবসার উৎপাদন ও ব্যবহার বৃদ্ধি করতে হবে, খামারি অ্যাপ ব্যবহারের মাধ্যমে রাসায়নিক সার সুপারিশ ও ব্যবহার অনুশীলন করতে হবে এবং অম্ল মাটিতে ডলোচুন ব্যবহার করে রাসায়নিক সার সাশ্রয় নিশ্চিত করতে হবে।
রাজস্ব ও উন্নয়ন প্রকল্পের বরাদ্দকৃত অর্থ সরকারী বিধি-বিধান অনুসরণ করে সময়মতো এবং স্বচ্ছভাবে খরচ করতে হবে এবং প্রয়োজনীয় ডকুমেন্টস সংরক্ষণ করতে হবে। উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তাদের পাক্ষিক সিডিউল তত্ত্বাবধায়ন অনুমোদন ও বাস্তবায়ন নিশ্চিত করতে হবে এবং প্রাত্যহিক সম্পাদিত কাজের বিবরণ সঠিকভাবে লিপিবদ্ধ করতে মনিটরিং জোরদার করতে হবে। প্রাকৃতিক দুর্যোগের পূর্বাভাস সময়মতো কৃষকদের অবহিত করতে হবে এবং দুর্যোগ পরবর্তী ফসলহানির সঠিক পরিসংখ্যান দ্রুততার সাথে ডিএই কন্ট্রোল রুমে পাঠাতে হবে। প্রণোদনা ও কৃষি পুনর্বাসন দক্ষতার সাথে এবং অগ্রাধিকার ভিত্তিতে বাস্তবায়ন করতে হবে।
তিনি আরও নির্দেশনা দেন, মাঠ পর্যায়ে বিভিন্ন দপ্তর ও সংস্থার সঙ্গে সমন্বয় দৃঢ় রাখতে হবে এবং সু-সম্পর্ক বজায় রাখতে হবে। স্ব-স্ব প্রতিষ্ঠানের সকল সম্পদের সঠিক ব্যবহার ও সময়মত রক্ষণাবেক্ষণ নিশ্চিত করতে হবে। সরকারি জায়গা ও সম্পত্তি বেদখল ঠেকাতে প্রয়োজনীয় দলিল ও কাগজপত্র সংগ্রহ, সংরক্ষণ এবং পর্যায়ক্রমে বাউন্ডারি ওয়াল স্থাপন করতে হবে।
কর্মকর্তাদের সংশ্লিষ্ট এলাকায় সম্ভাবনা ভিত্তিক ৫টি ইনোভেটিভ কার্যক্রম গ্রহণ করতে হবে। ফেসবুক ও অন্যান্য সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারের ক্ষেত্রে সরকারের প্রণীত নীতিমালা অনুসরণ করতে হবে এবং লাইক, কমেন্ট বা প্রতিক্রিয়া প্রদানে সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে। সর্বোপরি চলমান বোরো আবাদ নির্বিঘ্ন সম্পন্ন করতে জোর প্রচেষ্টা চালানো হবে।
কৃষিবিদ মো. আব্দুর রহিম ও তার অধীনে থাকা হাজার হাজার অফিসারদের কাজের মধ্য দিয়েই গড়ে উঠছে আগামীর স্মার্ট বাংলাদেশ। রোদ-বৃষ্টি উপেক্ষা করে এই সম্মুখ যোদ্ধাদের প্রতিটি ঘামবিন্দুতেই মিশে আছে দেশের সমৃদ্ধির গল্প।
আমার সংবাদের সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন